
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন, কেতুগ্রাম কেন্দ্র
পূর্ব বর্ধমান জেলার একটি জেনারেল ক্যাটাগরি বিধানসভা কেন্দ্র কেতুগ্রাম। ১৯৫১ সালে তৈরি হওয়ার পর কেতুগ্রাম বোলপুর লোকসভা আসনের ৭ কেন্দ্রের অন্যতম। কেতুগ্রাম ১ ও কেতুগ্রাম ২ কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লক রয়েছে এই কেন্দ্রে। এছাড়াও কাটোয়া ১ ব্লকের কোশিগ্রাম এবং শ্রীখণ্ড গ্রাম পঞ্চায়েতও কেতুগ্রাম কেন্দ্রের অন্তর্গত।
জন্মলগ্ন থেকে এখনও পর্যন্ত কেতুগ্রামে মোট ১৭ বার ভোট হয়েছে। বরাবরই এটি বামেদের শক্ত ঘাঁটি। ৯ বার জয়ী হয়েছে CPIM। ১৯৭৭ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে টানা ৭ বার। ১৯৬৯ এবং ১৯৭১ সালেও জিতেছিল বামেরাই। ১৯৬২ সালে জিতেছিল CPI। ১৯৫১ সালে জিতেছিল হিন্দু মহাসভা এবং কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেস ৩ বার করে এই কেন্দ্রে জিতেছে...
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন, কেতুগ্রাম কেন্দ্র
পূর্ব বর্ধমান জেলার একটি জেনারেল ক্যাটাগরি বিধানসভা কেন্দ্র কেতুগ্রাম। ১৯৫১ সালে তৈরি হওয়ার পর কেতুগ্রাম বোলপুর লোকসভা আসনের ৭ কেন্দ্রের অন্যতম। কেতুগ্রাম ১ ও কেতুগ্রাম ২ কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লক রয়েছে এই কেন্দ্রে। এছাড়াও কাটোয়া ১ ব্লকের কোশিগ্রাম এবং শ্রীখণ্ড গ্রাম পঞ্চায়েতও কেতুগ্রাম কেন্দ্রের অন্তর্গত।
জন্মলগ্ন থেকে এখনও পর্যন্ত কেতুগ্রামে মোট ১৭ বার ভোট হয়েছে। বরাবরই এটি বামেদের শক্ত ঘাঁটি। ৯ বার জয়ী হয়েছে CPIM। ১৯৭৭ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে টানা ৭ বার। ১৯৬৯ এবং ১৯৭১ সালেও জিতেছিল বামেরাই। ১৯৬২ সালে জিতেছিল CPI। ১৯৫১ সালে জিতেছিল হিন্দু মহাসভা এবং কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেস ৩ বার করে এই কেন্দ্রে জিতেছে।
১৯৭২ সালে শেষবারের মতো কেতুগ্রামে জয়ী হয়েছিল কংগ্রেস। ২০১১ সালের পর থেকে কেতুগ্রাম কার্যক ক্যাপচার করে নিয়েছে রাজ্যের শাসকদল। ২০১১ সালে তৃণমূলের শেখ শাহনওয়াজ এই আসনে CPIM-এর আবদুল কাদের সইদকে ১ হাজার ৫৯৯ ভোটে হারান। ২০১৬ সালে হারান ৮ হাজার ৭২৯ ভোটে। ২০২১ সালে মার্জিন ছিল ১২ হাজার ৬৮৩ ভোটের। BJP-র অনাদি ঘোষ এবং CPIM এই কেন্দ্র থেকে ছিটকে যায়। সেবার CPIM-এর প্রাপ্ত ভোট ছিল ৯.৩৩%। BJP-র ছিল ৪০.৬৬% এবং তৃণমূলের ৪৬.৫৫%। ২০১১ সালের বিধানসভা ভোটে BJP-র ভোটের হার থিল ৬.৫৩%, ২০১৬ সালে ভোটের হার ছিল ৮.৬০% এবং ২০২১ সালে ৪০.৬৬%। ২০১৬ সালে CPIM ভোট পেয়েছিল ৪১.৬৯%।
২০১৪ সাল থেকে লোকসভা ভোটেও কেতুগ্রাম বিধানসভায় এগিয়ে তৃণমূলই। ২০১৪ সালে তৃণমূল এই কেন্দ্র থেকে CPIM-কে হারায় ৩৩ হাজার ৪৫৫ ভোটে। ২০১৯ সালে হারায় ২৭ হাজার ৫১৪ ভোটে। মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে BJP। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের সময়ে কেতুগ্রাম বিধানসভা থেকে তৃণমূল এগিয়ে ছিল ৪৪ হাজার ১২ ভোটে।
মুসলিম সম্প্রদায় কিংবা SC গোষ্ঠী থেকেই সমস্ত পার্টি কেতুগ্রামের প্রার্থী নির্বাচন করে। যদিও এই আসন জেনারেল ক্যাটাগরির মধ্যেই পড়ে। এই কেন্দ্রের মুসলিম ভোটারের সংখ্যা ৩৩.৬০% এং SC ভোটারের সংখ্যা ৩০.৩৬%।
২০২৪ সালে কেতুগ্রামের মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল ২৬ লক্ষ ৯ হাজার ৮৫৩। যা ২০২১ সালের ২৫ লক্ষ ৮ হাজার ৩১০ এবং ২০১৯ সালের ২৪ লক্ষ ৭ হাজার ৫১১ থেকে বেশি। এই কেন্দ্র সম্পূর্ণ গ্রামীণ এলাকায়, কোনও শহুরে ভোটার নেই এই কেন্দ্রে। ২০১১ সালে এই কেন্দ্রে ভোট পড়েছিল ৮৫.৪৫৬%, যা ২০২৪ সালে দাঁড়ায় ৭৯.৫০%। মাঝে ২০১৬ সালে ভোটের হার ছিল ৮৩.৩৭%, ২০১৯ সালে ৮২.৬১% এবং ২০২১ সালে ৮৩.৫৩%।
কেতুগ্রামের দক্ষিণে রয়েছে অজয় নদী। সামান্য ঢালু এই এলাকার জমি। যা কৃষিকাজের জন্য যথেষ্ট উর্বর। মূলত ধান, গম, জুট এবং আখ চাষ হয় এখানে। অজয় নদীর ধারেই অবস্থিত বাংলার অন্যতম জনপ্রিয় বেহুলা শক্তিপীঠ মন্দির। এই কেন্দ্রের প্রায় সমস্ত ব্লকেই রয়েছে সাধারণ চিকিৎসা পরিষেবা, রাস্তা, পানীয় জল। নতুন পরিকাঠামোগত উন্নয়নও হয়েছে এই কেন্দ্রে। নিকটবর্তী রেল স্টেশন শিবলুন এবং গঙ্গাটিকুরি। যা ৫ এবং ৬ কিমি দূরে। কাটোয়া জংশন প্রায় ১২ কিমি দূরে।
জেলা সদর বর্ধমান টাউন থেকে কেতুগ্রাম ৫৪ কিমি দূরে। কলকাতা থেকে দূর্তব ১৬৮ কিমি। কাটোয়া থেকে ১৬ কিমি, বোলপুর থেকে ৩৫ কিমি, মুর্শিদাবাদ থেকে ৫৫ কিমি, শান্তিনিকেতন থেকে ৪১ কিমি এবং মায়াপুর থেকে ৫২ কিমি দূরে কেতুগ্রাম।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নজর থাকবে এই আসনে। কেতুগ্রামে বিশেষ ভাবে প্রভাব ফেলবে SIR। SC ভোটারদের কাছে টানতে বিশেষ প্রচেষ্টা চালাচ্ছে BJP। এদিকে, জমি ফিরে পেতে মরিয়া বাম-কংগ্রেসও। ২০২১ সালের পর থেকে যাদের ভোটের হার যথাক্রমে ৯.৩৪% এবং ৬.৪৫% নেমে গিয়েছে। এই পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে তৃণমূল কংগ্রেসই যে এই কেন্দ্রে নিজেদের দাপট বজায় রাখবে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
Anadi ghosh (mathura)
BJP
Mizanul kabir (dhiraj)
CPI(M)
Nota
NOTA
Dr. manik chandra pradhan
BSP
Satya narayan mondal
SUCI
Abul kadar syed
CPM
Bankubihari ghosh
BJP
Nota
NOTA
M. h. munsi (kachi munsi)
SUCI