
এককালের বামঘাঁটি বর্ধমান। ২০১৭ সালে জেলা ভাগ হয়- পূর্ব বর্ধমান ও পশ্চিম বর্ধমান। এই পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোল লোকসভার অন্যতম বিধানসভা আসানসোল উত্তর। স্বাধীনতার পর থেকেই আসানসোল বামদুর্গ। ২০১১ সাল থেকে বদলে গিয়েছে প্রেক্ষাপট। বিরোধী পরিসরেও নেই বামেরা। উঠে এসেছে বিজেপি। অন্যদিকে, তৃণমূলের মলয় ঘটক টানা জিতে আসছেন।
আসানসোল বিধানসভা কেন্দ্রটি ১৯৫১ সালে গঠিত হয়। সীমানা পুনর্বিন্যাসের পর ২০১১ সালে অবিভক্ত আসানসোল আসনটি দ্বিখণ্ডিত হয়। আত্মপ্রকাশ করে আসানসোল উত্তর। এই কেন্দ্রটি আসানসোল পুরনিগমের ৩২টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। ১৯৫১ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে আসানসোল বিধানসভা আসনে বাম দলগুলিরই আধিপত্য ছিল। ১৪ বারের মধ্যে ৯ বার জিতেছিল তারা। অন্যদিকে কংগ্রেস জিতেছিল ৪ বার। তৃণমূল ক...
এককালের বামঘাঁটি বর্ধমান। ২০১৭ সালে জেলা ভাগ হয়- পূর্ব বর্ধমান ও পশ্চিম বর্ধমান। এই পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোল লোকসভার অন্যতম বিধানসভা আসানসোল উত্তর। স্বাধীনতার পর থেকেই আসানসোল বামদুর্গ। ২০১১ সাল থেকে বদলে গিয়েছে প্রেক্ষাপট। বিরোধী পরিসরেও নেই বামেরা। উঠে এসেছে বিজেপি। অন্যদিকে, তৃণমূলের মলয় ঘটক টানা জিতে আসছেন।
আসানসোল বিধানসভা কেন্দ্রটি ১৯৫১ সালে গঠিত হয়। সীমানা পুনর্বিন্যাসের পর ২০১১ সালে অবিভক্ত আসানসোল আসনটি দ্বিখণ্ডিত হয়। আত্মপ্রকাশ করে আসানসোল উত্তর। এই কেন্দ্রটি আসানসোল পুরনিগমের ৩২টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। ১৯৫১ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে আসানসোল বিধানসভা আসনে বাম দলগুলিরই আধিপত্য ছিল। ১৪ বারের মধ্যে ৯ বার জিতেছিল তারা। অন্যদিকে কংগ্রেস জিতেছিল ৪ বার। তৃণমূল কংগ্রেস ২০০১ সালে প্রথমবার এখানে খাতা খোলে। ২০১১ সালে আসানসোল উত্তর কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে তৃণমূল কংগ্রেস এখানে অপরাজেয়। সৌজন্যে রাজ্যের মন্ত্রী মলয় ঘটক। ২০১১ সালে মলয় ঘটক সিপিএমের রানু রায়চৌধুরীকে ৪৭,৭৯৩ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। ২০১৬ সালে বিজেপির নির্মল কর্মকারকে ২৩,৮৯৭ ভোটে এবং ২০২১ সালে বিজেপির কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়কে ২১,১১০ ভোটে হারানন।
লোকসভা নির্বাচনে অবশ্য ভিন্ন প্রবণতা। ২০১৪ এবং ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে আসানসোল উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি যথাক্রমে ২৪,৯৬৪ এবং ২০,৩১৪ ভোটের লিড পায়। ২০২২ সালের আসানসোল লোকসভা উপনির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস লিড ফিরে পায়। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও ৪,৩৬৭ ভোটের ব্যবধানে নিজেদের লিড ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে তারা। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকেই বামফ্রন্টের পতন শুরু। তাদের ভোটের হার কমে ১৩.৮৯ শতাংশে দাঁড়ায়। তারপর থেকে তা ৬ শতাংশের নীচেই। ২০১৯ সালে ৫.১০% এবং ২০২৪ সালে ৫.৮১%। বামেদের তরফে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কোনও প্রার্থী ছিল না। ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টকে সমর্থন করেছিল তারা। মাত্র ২.৩২ শতাংশ ভোট পেয়েছিল আইএসএফ।
২০২৪ সালে এখানে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ২,৮৫,৮৭৯। ২০২১ সালে ছিল ২,৭৫,৭৯৬। ২০১৯ সালে ২,৫৬,১১২। এই কেন্দ্রে ২২.৭০ শতাংশ মুসলিম ভোটার রয়েছেন। বৃহত্তম ভোটার তারাই। অন্যদিকে তপশিলি জাতি ৯.১৬ শতাংশ এবং তপশিলি উপজাতি ভোটার ২.৪৯ শতাংশ। কলকাতার পর রাজ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগর এলাকা হওয়া সত্ত্বেও এই আসনে ভোটদানের হার যথেষ্ট আশাব্যঞ্জক। ২০১১ সালে ছিল ৭৬.৮১ শতাংশ, ২০১৬-তে ৭৩.৬৮ শতাংশ, ২০১৯ সালে ৭৬.৩১ শতাংশ, ২০২১ সালে ৭০.০৪ শতাংশ এবং ২০২৪-এ সামান্য কমে দাঁড়িয়েছে ৭০.৮৮ শতাংশে।
ব্রিটিশ আমল থেকেই আসানসোলের পরিচিতি গড়ে ওঠে কয়লা খনি ও শিল্প কেন্দ্র হিসেবে। ছোট নাগপুর মালভূমির নীচু অংশে অবস্থিত এই এলাকায় রয়েছে কয়লাখনি। ভারতের অন্যতম প্রাচীন খনি এলাকা হওয়ার কারণে খনি, রেল এবং ইস্পাত কারখানায় কাজের সুযোগ খুঁজতে এখানে ভিনরাজ্য থেকে লোকেরা এসেছেন। সে জন্য জনবিন্যাসে ব্যাপক বৈচিত্র্য এসেছে। হিন্দি, উর্দু, পাঞ্জাবি ও বিভিন্ন ভাষায় কথা বলা অ-বাঙালি ভোটারর বড় অংশ। বিহার, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা এবং উত্তরপ্রদেশ থেকে আসা মানুষের উপস্থিতি বেশি।
আসানসোলের অর্থনীতি মূলত কয়লা খনি, লোহা ও ইস্পাত উৎপাদন, রেল এবং বিভিন্ন ইঞ্জিনিয়ারিং ও সিমেন্ট শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। পরিকাঠামো এখানে বেশ উন্নত। আসানসোল দক্ষিণ-পূর্ব রেলওয়ের বিভাগীয় সদর দফতর। সড়ক, রেল এবং বাস যোগাযোগের পাশাপাশি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রেও অগ্রগণ্য। আসানসোল থেকে দুর্গাপুরের দূরত্ব প্রায় ৪০ কিমি। কুলটি ও রানিগঞ্জ যথাক্রমে ৮ কিমি এবং ১৮ কিমি দূরে। জেলা সদর বর্ধমান এখান থেকে প্রায় ১০৫ কিমি এবং রাজধানী কলকাতা ২১০ কিমি। ঝাড়খণ্ডের ঝরিয়া এবং ধানবাদ তুলনামূলক কাছে।
২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে আসানসোল উত্তরে তৃণমূল কংগ্রেস ফেভারিট। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে হারের ব্যবধান কম হওয়ায় বিজেপি শিবির যথেষ্ট আশাবাদী। বিজেপির সাফল্য নির্ভর করবে হিন্দিভাষী ভোটারদের সমর্থন এবং তপশিলি জাতি ও উপজাতি ভোটের উপর। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসকেও সতর্ক থাকতে হবে। সব মিলিয়ে একদা বামগড়ে এখান তৃণমূল বনাম বিজেপি।
Krishnendu mukherjee
BJP
Mohammad mustaqim
RSSCMJP
Nota
NOTA
Sunil thakur
IND
Danish aziz
AIMIM
Nani gopal dawn
IND
Sanjoy chatterjee
SUCI
Nirmal karmakar
BJP
Indrani mishra
INC
Nota
NOTA
Dipali ruidas
BMUP
Shyama charan dutta
ABHM