
লাভপুর। বীরভূমের সাধারণ বিধানসভা কেন্দ্র। এটি বোলপুর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত সাতটি বিধানসভা আসনের অন্যতম। ১৯৫৭ সাল থেকে লাভপুরে এ পর্যন্ত ১৬ বার ভোটগ্রহণ হয়েছে। ২০১১ সাল থেকে টানা জিতে আসছে তৃণমূল কংগ্রেস। তার আগে বামেরা টানা জিতেছিল। সেই বামেরা এখন বিরোধী পরিসর হারিয়েছে। উঠে এসেছে বিজেপি।
লাভপুরে দীর্ঘকাল বামেদের আধিপত্যের ইতিহাস রয়েছে। সিপিআই(এম) এই আসনে আটবার জয়ী হয়েছে। এর মধ্যে ১৯৭৭ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে টানা সাতবার জয়ের নজির রয়েছে। সিপিআই চারবার এবং কংগ্রেস একবার এই আসনে জিতেছিল। ২০১১ সাল থেকে তিনবার এই আসনে জয়লাভ করেছে তৃণমূল। ২০০১ সালে অভিষেকের পর থেকে দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও ২০১১ সালে প্রথমবার লাভপুর জয় করে তৃণমূল কংগ্রেস। সিপিএমের নবনীতা মুখোপাধ্যা...
লাভপুর। বীরভূমের সাধারণ বিধানসভা কেন্দ্র। এটি বোলপুর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত সাতটি বিধানসভা আসনের অন্যতম। ১৯৫৭ সাল থেকে লাভপুরে এ পর্যন্ত ১৬ বার ভোটগ্রহণ হয়েছে। ২০১১ সাল থেকে টানা জিতে আসছে তৃণমূল কংগ্রেস। তার আগে বামেরা টানা জিতেছিল। সেই বামেরা এখন বিরোধী পরিসর হারিয়েছে। উঠে এসেছে বিজেপি।
লাভপুরে দীর্ঘকাল বামেদের আধিপত্যের ইতিহাস রয়েছে। সিপিআই(এম) এই আসনে আটবার জয়ী হয়েছে। এর মধ্যে ১৯৭৭ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে টানা সাতবার জয়ের নজির রয়েছে। সিপিআই চারবার এবং কংগ্রেস একবার এই আসনে জিতেছিল। ২০১১ সাল থেকে তিনবার এই আসনে জয়লাভ করেছে তৃণমূল। ২০০১ সালে অভিষেকের পর থেকে দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও ২০১১ সালে প্রথমবার লাভপুর জয় করে তৃণমূল কংগ্রেস। সিপিএমের নবনীতা মুখোপাধ্যায়কে ৩,০০৬ ভোটে পরাজিত করেন মনিরুল ইসলাম। ২০১৬ সালেও মনিরুল ইসলাম এই আসনটি ধরে রাখেন। সিপিএমের সৈয়দ মাহফু করিমের বিরুদ্ধে তাঁর জয়ের ব্যবধান বাড়িয়ে করেন ৩০,৩১৩ ভোট। ২০২১ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের অভিজিৎ সিংহ বিজেপির বিশ্বজিৎ মণ্ডলকে ১৭,৯৭৫ ভোটে পরাজিত করেন। বামেরা পিছিয়ে তৃতীয় স্থানে চলে যায়।
লোকসভা নির্বাচনের ক্ষেত্রে ২০১৪ সাল থেকে লাভপুর বিধানসভা এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে রয়েছে। ২০১৯ সাল থেকে সিপিআই(এম)-কে সরিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসে বিজেপি। সে বছর বিজেপির চেয়ে ৩,৮০৩ ভোটে এগিয়ে ছিল তৃণমূল। ২০২৪ সালে সেই ব্যবধান আরও বাড়িয়ে ৪৮,৩৮২ ভোট করে রাজ্যের শাসক দল। সিপিআই(এম) ও কংগ্রেস জোট একত্রে পাঁচ শতাংশের কম ভোট পেয়েছে। লাভপুরে ২০২৪ সালে ভোটারের সংখ্যা ছিল ২,৪৫,৬৩৪ জন। যা ২০২১ সালে ছিল ২,৪০,০৪৪ এবং ২০১৯ সালে ছিল ২,২৯,৪১৯। মোট ভোটারের মধ্যে তফসিলি জাতি ৩২.৫১ শতাংশ, তফসিলি উপজাতি ৮.৫২ শতাংশ এবং মুসলিম ভোটার ২২.৯০ শতাংশ।
বিধানসভা নির্বাচনে ভোটদানের হার বরাবরই খুব বেশি ছিল। ২০২১ সালে ৮৮.৩৩%, ২০১৯ সালে ৮৮.১৭% এবং ২০১৬ সালে ৮৮.৪২%। তবে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তা নাটকীয়ভাবে কমে ৫৮.৫৫ শতাংশে নেমে আসে। যা আগের তুলনায় ৩০ শতাংশেরও বেশি কম। লাভপুর তার গভীর সাংস্কৃতিক ও বৌদ্ধিক ঐতিহ্যের জন্য সুপরিচিত। প্রখ্যাত বাঙালি ঔপন্যাসিক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের জন্মস্থান। এই অঞ্চলটি বাউল এবং লোকসংগীতের ঐতিহ্যের জন্যও পরিচিত। যা বীরভূমের এক অনন্য বৈশিষ্ট্য। সাঁওতালি সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য এবং কাছেই অবস্থিত রবীন্দ্রনাথের শান্তিনিকেতনের প্রভাব লাভপুরের সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
এই অঞ্চলটি বীরভূমের পলিমাটি সমৃদ্ধ সমতলে অবস্থিত। যার ওপর দিয়ে ময়ূরাক্ষী ও অজয়ের মতো নদী বয়ে গেছে। এই সমতল ভূমিতে কৃষিকাজই প্রধান জীবিকা। এখানে ধান, তৈলবীজ, ডাল ও সবজি ব্যাপকভাবে
চাষ করা হয়। অনেক বাসিন্দার কাছে গবাদি পশু পালনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লাভপুরের পরিকাঠামো মোটামুটি মানের। সাধারণ রাস্তাঘাট, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা পরিষেবা রয়েছে। তবে কিছু এলাকায় এখনও নির্ভরযোগ্য নাগরিক সুবিধার অভাব রয়েছে।
লাভপুর শহর বীরভূমের জেলা সদর সিউড়ি থেকে প্রায় ৪১ কিমি দূরে অবস্থিত। দক্ষিণ-পূর্বে কলকাতা প্রায় ১৮০ কিমি দূরে। বোলপুর (শান্তিনিকেতন) ২৪ কিমি দূরে অবস্থিত। এছাড়া সাঁইথিয়া প্রায় ২২ কিমি, রামপুরহাট ৪৭ কিমি এবং ইলামবাজার লাভপুর থেকে ২৮ কিমি দূরে। জেলার বাইরে ঝাড়খণ্ডের দুমকা প্রায় ৯০ কিমি, পাকুড় প্রায় ১১০ কিমি দূরে। ২০২৬ সালের নির্বাচনে লাভপুরে তৃণমূল কংগ্রেস সুবিধাজনক অবস্থানে থেকেই লড়াই শুরু করবে। তবে বিজেপিও চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে সক্ষম। বিশেষ করে এসসি এবং এসটি ভোট ফ্যাক্টর হতে পারে। সিপিএম এককালে রাজত্ব করলেও তাদের ভোট ৫ শতাংশের নীচে নেমে গিয়েছে।
Biswajit mondal
BJP
Syed mahfuzul karim
CPI(M)
Nota
NOTA
Islam monirul
IND
Murmu sunil
BSP
Bahadur ghosh
PMPT
Tapas mondal
AMB
Syed mahfuzul karim (mahfuz)
CPM
Nirmal chandra mandal
BJP
Nota
NOTA