
রাজ্যে যে যে বিধানসভায় তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি রয়েছে তার মধ্যে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার আমডাঙা অন্যতম। এটি একটি ব্লক-স্তরের জনপদ। এটি একটি সাধারণ শ্রেণির বিধানসভা কেন্দ্র এবং ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের একটি। এই কেন্দ্রের মধ্যে রয়েছে পুরো আমডাঙা ব্লক এবং বারাসত-১ ব্লকের দত্তপুকুর-১, দত্তপুকুর-২ ও কাশিমপুর গ্রাম পঞ্চায়েত।
আমডাঙা বিধানসভা কেন্দ্র গঠন করা হয়েছিল ১৯৭৭ সালে। এখন পর্যন্ত এখানে ১০টি বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই কেন্দ্রের ভোটাররা সাধারণত রাজ্যে ক্ষমতাসীন দলকেই সমর্থন জানিয়ে এসেছে। সেই কারণেই বামফ্রন্ট আমলে ১৯৭৭ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত টানা সাতবার সিপিআই(এম) এখানে জয়ী হয়েছিল। এরপর ২০১১ সালের পর থেকে তৃণমূল কং...
রাজ্যে যে যে বিধানসভায় তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি রয়েছে তার মধ্যে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার আমডাঙা অন্যতম। এটি একটি ব্লক-স্তরের জনপদ। এটি একটি সাধারণ শ্রেণির বিধানসভা কেন্দ্র এবং ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের একটি। এই কেন্দ্রের মধ্যে রয়েছে পুরো আমডাঙা ব্লক এবং বারাসত-১ ব্লকের দত্তপুকুর-১, দত্তপুকুর-২ ও কাশিমপুর গ্রাম পঞ্চায়েত।
আমডাঙা বিধানসভা কেন্দ্র গঠন করা হয়েছিল ১৯৭৭ সালে। এখন পর্যন্ত এখানে ১০টি বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই কেন্দ্রের ভোটাররা সাধারণত রাজ্যে ক্ষমতাসীন দলকেই সমর্থন জানিয়ে এসেছে। সেই কারণেই বামফ্রন্ট আমলে ১৯৭৭ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত টানা সাতবার সিপিআই(এম) এখানে জয়ী হয়েছিল। এরপর ২০১১ সালের পর থেকে তৃণমূল কংগ্রেস টানা তিনবার এই কেন্দ্র দখল করেছে। এই কেন্দ্রের একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হল, এখনও পর্যন্ত আমডাঙা থেকে প্রতিবারই মুসলিম বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন। সিপিআই(এম) -এর হাশিম আব্দুল হালিম, ১৯৭৭ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত টানা ছয়বার এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন। তিনি ১৯৮২ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত রাজ্য বিধানসভার স্পিকারও ছিলেন। তাঁর পরে একবার বিধায়ক হন তাঁর দলীয় সতীর্থ আবদুস সাত্তার। ২০১১ সাল থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের রফিকুর রহমান টানা তিনবার এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছেন।
২০১১ সালে রফিকুর রহমান তৎকালীন সিপিআই(এম) বিধায়ক আবদুস সাত্তারকে ২১,৫৫৭ ভোটে পরাজিত করেন। ২০১৬ সালে সেই ব্যবধান আরও বেড়ে দাঁড়ায় ২২,৯৬৫ ভোট। ২০২১ সালের নির্বাচনে সিপিআই(এম) সরাসরি প্রার্থী না দিয়ে ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (ICF)-কে সমর্থন জানায়। সেই নির্বাচনে TMC-এর রফিকুর রহমান BJP প্রার্থী জয়দেব মান্নাকে ২৫,৪৮০ ভোটে হারিয়ে আমডাঙা কেন্দ্র ধরে রাখেন।
বিশেষ বিষয় হল, বিজেপির ভোটের হার এই বিধানসভায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০১১ সালে যেখানে বিজেপির ভোটের হার ছিল মাত্র ২.৮৬ শতাংশ, তা বেড়ে ২০১৬ সালে ৮.১৬ শতাংশ হয়। ২০২১ সালে ভোট ২৯.৯৭ শতাংশে পৌঁছয়। এর ফলে বিজেপি এখানে স্পষ্টভাবে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এলেও, তৃণমূল কংগ্রেসের থেকে অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে।
লোকসভা নির্বাচনের ক্ষেত্রেও আমডাঙা বিধানসভায় একই ধারা লক্ষ্য করা যায়। ২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে এখানে তৃণমূল কংগ্রেস সিপিআই(এম)-এর থেকে ২০,৪৮৯ ভোটে এগিয়ে ছিল। ২০১৪ সালে এই ব্যবধান ছিল ২১,০০৮ ভোট। এর পরে বিজেপি প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে আসে। ২০১৯ সালে তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপির উপর ৩৬,৫৬৬ ভোটের লিড নেয় এবং ২০২৪ সালে সেই লিড ছিল ৩৫,২৭৩ ভোট।
২০২৪ সালে আমডাঙা বিধানসভা কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ২,৫১,২৯১। ২০২১ সালে এই সংখ্যা ছিল ২,৪২,৪৬২ এবং ২০১৯ সালে ২,৩০,২৬৬। ভোটারদের মধ্যে মুসলিমরাই এখানে সংখ্যা গরিষ্ঠ। মোট ভোটারের মধ্যে ৪১.৩০ শতাংশ মুসলিম। তফসিলি জাতির ভোটার ১৯.০৭ শতাংশ এবং তফসিলি উপজাতির ভোটার ১.২০ শতাংশ। এই কেন্দ্রটি মূলত গ্রামীণ হলেও, উল্লেখযোগ্য শহুরে অংশও রয়েছে। মোট ভোটারের মধ্যে ৭১.০৫ শতাংশ গ্রামীণ এবং ২৮.৯৫ শতাংশ শহুরে ভোটার। ভোটদানের হার বরাবরই এই কেন্দ্রে বেশি। ২০১১ সালে ৯১.১০ শতাংশ, ২০১৬ সালে ৮৯.০৫ শতাংশ, ২০১৯ সালে ৮৪.৬০ শতাংশ এবং ২০২১ সালে ৮৭.৩০ শতাংশ ভোট পড়েছিল।
ভৌগলিক অবস্থানের কথা বললে, আমডাঙা উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত সদর মহকুমায় অবস্থিত। বারাসত ও জেলার উত্তর প্রান্তবর্তী সীমান্ত ব্লকগুলির মধ্যবর্তী সমতল পলিভূমির অংশ। অঞ্চলটি নিচু জমির উপর গড়ে উঠেছে। এলাকায় অসংখ্য ছোট নদী ও খাল জালের মতো ছড়ানো রয়েছে। স্থানীয় অর্থনীতি মূলত ধান চাষ, সবজি উৎপাদন, ইটভাটা, ছোট ব্যবসার উপর নির্ভরশীল। বারাসত ও কলকাতার মতো নিকটবর্তী শহরাঞ্চলেও বহু মানুষ এই এলাকা থেকে প্রতিদিন যাতায়াত করে।
আমডাঙা শহর উত্তর ২৪ পরগনার জেলা সদর বারাসত থেকে মাত্র ১১–১৫ কিমি উত্তরে অবস্থিত। সড়কপথে কলকাতার মধ্যাঞ্চল থেকে প্রায় ৩৫–৪৫ কিমি দূরে (রুটভেদে দূরত্ব কিছুটা পরিবর্তিত হয়)। শহরতলির গুরুত্বপূর্ণ শহর হাবরা আমডাঙা থেকে প্রায় ২৫ কিমি দূরে অবস্থিত। বনগাঁও সড়ক ও রেলপথে আমডাঙা থেকে সহজেই পৌঁছনো যায়, দূরত্ব প্রায় ৫৩ কিমি।
সড়কপথে আমডাঙার সঙ্গে বারাসত, দেগঙ্গা, হাবরা এবং পার্শ্ববর্তী ব্লকগুলির সংযোগ রয়েছে। বাসিন্দারা সাধারণত শিয়ালদা-বনগাঁ এবং শিয়ালদা–হাসনাবাদ শাখার নিকটবর্তী স্টেশনগুলির মাধ্যমে কলকাতা শহরতলি রেল পরিষেবা ব্যবহার করেন। স্টেশনগুলিতে সামান্য সড়কপথেই পৌঁছানো যায়। এই রাস্তা ও ঘন ঘন লোকাল ট্রেন পরিষেবা আমডাঙাকে বৃহত্তর কলকাতা এবং উত্তর ২৪ পরগনার বাকি অংশের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত করেছে। যদিও বিধানসভা কেন্দ্রটি নিজে প্রধানত গ্রামীণ চরিত্র বজায় রেখেছে। টানা তিনটি বিধানসভা জয় এবং ২০০৯ সালের পর থেকে এই বিধানসভা অংশে অনুষ্ঠিত চারটি লোকসভা নির্বাচনের প্রতিটিতেই লিড নেওয়ার ফলে আমডাঙা কার্যত তৃণমূল কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে। শেষ তিনটি নির্বাচনে বিজেপি স্পষ্টভাবে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এলেও, এখনও তারা তৃণমূল কংগ্রেসের আধিপত্যের প্রতি কোনও বড় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে পারেনি।
এই এলাকায় বিজেপির সামনে মূল চ্যালেঞ্জ হল শক্তিশালী তৃণমূল-বিরোধী প্রচার গড়ে তোলা। যা সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু ভোটারদের একত্রিত করতে পারে এবং একই সঙ্গে দুর্বল হয়ে পড়া বাম-কংগ্রেস জোটের কিছুটা পুনরুত্থানের মাধ্যমে তৃণমূলের মুসলিম ভোটে ভাঙন ধরাতে সক্ষম হয়। তা না হলে এই কেন্দ্র তৃণমূলের দখলেই থাকবে।
Joydev manna
BJP
Jamal uddin
RSSCMJP
Nota
NOTA
Ranjit santra
IND
Mafid mondal
IND
Shafique ali
BSP
Sahajan ali
UTSAP
Goutam biswas
SUCI
Hari pada biswas
LJP
Abdus sattar
CPM
Arindam dey
BJP
Nota
NOTA
Matiar rahaman biswas
PDS
Safique ali
BSP
Goutam biswas
SUCI
Kaosar ali mallik
IND