
পশ্চিমবঙ্গে হাইপ্রোফাইল ও হাইভোল্টেজ বিধানসভা কেন্দ্রগুলির মধ্যে অন্যতম কলকাতা পোর্ট। জেনারেল ক্যাটেগরির এই কেন্দ্রটি কলকাতা দক্ষিণ লোকসভা কেন্দ্রের আওতায়। অতীতে এই কেন্দ্রের নাম ছিল গার্ডেন রিচ। ১৯৫২ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত গার্ডেন রিচ কেন্দ্র নামেই ভোট হয়েছে। পরে তা কলকাতা পোর্ট নাম হয়। এই কেন্দ্রে বন্দর বিধানসভার বিধায়ক ফিরহাদ হাকিম। কলকাতার মেয়র এবং রাজ্যের মন্ত্রীও। তাই এই কেন্দ্রের দিকে বাডতি নজর থাকবেই ২০২৬ সালের ভোটে। ২০১১ সাল থেকে কলকাতা বন্দর আসনে তৃণমূল কংগ্রেসের একছত্র দাপট এ যাবত ১৪টি বিধানসভা ভোটের মধ্যে বন্দর আসনটিতে ৮ বার জিতেছে কংগ্রেস ও ৬ বার জিতেছে বামেরা। ডিলিমিটেশনের পর ২০১১ সাল থেকে কলকাতা পোর্ট বা বন্দর নাম হয় এই আসনের। কলকাতা ...
পশ্চিমবঙ্গে হাইপ্রোফাইল ও হাইভোল্টেজ বিধানসভা কেন্দ্রগুলির মধ্যে অন্যতম কলকাতা পোর্ট। জেনারেল ক্যাটেগরির এই কেন্দ্রটি কলকাতা দক্ষিণ লোকসভা কেন্দ্রের আওতায়। অতীতে এই কেন্দ্রের নাম ছিল গার্ডেন রিচ। ১৯৫২ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত গার্ডেন রিচ কেন্দ্র নামেই ভোট হয়েছে। পরে তা কলকাতা পোর্ট নাম হয়। এই কেন্দ্রে বন্দর বিধানসভার বিধায়ক ফিরহাদ হাকিম। কলকাতার মেয়র এবং রাজ্যের মন্ত্রীও। তাই এই কেন্দ্রের দিকে বাডতি নজর থাকবেই ২০২৬ সালের ভোটে। ২০১১ সাল থেকে কলকাতা বন্দর আসনে তৃণমূল কংগ্রেসের একছত্র দাপট এ যাবত ১৪টি বিধানসভা ভোটের মধ্যে বন্দর আসনটিতে ৮ বার জিতেছে কংগ্রেস ও ৬ বার জিতেছে বামেরা। ডিলিমিটেশনের পর ২০১১ সাল থেকে কলকাতা পোর্ট বা বন্দর নাম হয় এই আসনের। কলকাতা পুরনিগমের ১৩টি ওয়ার্ড ও ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের আংশিক এলাকা এই কেন্দ্রের আওতায় পড়ে। ২০১১ সাল থেকে কলকাতা বন্দর আসনে তৃণমূল কংগ্রেসের একছত্র দাপট। ২০১১ সালে ফিরহাদ এই আসনে ফরোয়ার্ড ব্লকের মইনুদ্দিন শামসকে ২৫ হাজারের বেশি ভোটে হারিয়ে ডেবিউ করেন। সেই বছর কংগ্রেস নেতা রাম পেয়ারি রাম দলের সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হয়ে নির্দল প্রার্থী হিসেবে লড়াই করেছিলেন। কারণ, ওই আসনে জোটসঙ্গী তৃণমূল কংগ্রেসকেই প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নেয় কংগ্রেস। ২০১৬ সালে ফের জিতেছিলেন হাকিম। সেই সময় তাঁর জয়ের ব্যবধান আরও বেড়ে দাঁড়ায় ২৬,৫৪৮ ভোটে। প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন কংগ্রেসের রাকেশ সিং। ২০২১ সালের নির্বাচনে ব্যবধান রেকর্ড গড়ে পৌঁছে যায় ৬৮,৫৫৪ ভোটে। তিনি হারান বিজেপি প্রার্থী অবধ কিশোর গুপ্তকে। সেই নির্বাচনে বাম-কংগ্রেস জোটের কংগ্রেস প্রার্থী পান মাত্র ৩.৬৭ শতাংশ ভোট, এটি ওই আসনে কংগ্রেসের ইতিহাসে সবচেয়ে কম পাওয়া ভোট। সাম্প্রতিক নির্বাচগুলিতে ভোটারদের মুড কলকাতা বন্দর কেন্দ্রে ২০০৯ সালের লোকসভা ভোটে তৃণমূল লিড পেয়েছিল। তখনই ইঙ্গিত মেলে, ২০১১ সালে এই বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটারদের মুড। ২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস সিপিএমের থেকে ৩২ হাজার ৭১৫ ভোটে এগিয়ে ছিল। কিন্তু ২০১৪ সালে সেই ব্যবধান কমে দাঁড়ায় মাত্র ৬,৮৭৪ ভোটে, কারণ সেই সময় বিজেপি সিপিএম-কে টপকে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে আসে। ২০১৯ সালের ভোটে তৃণমূল আবার ঘুরে দাঁড়ায় এবং ব্যবধান ৩৬,২৩৯ ভোটে পৌঁছয়। ২০২৪ সালে এই লিড আরও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২ হাজার ৮৯৩ ভোটে। গত কয়েকটি নির্বাচনে বিজেপি ধারাবাহিকভাবে দ্বিতীয় স্থান ধরে রেখেছে। ২০২১ থেকে জোটবদ্ধভাবে লড়াই করলেও কংগ্রেস ও সিপিএম ক্রমশ জমি হারিয়েছে। ২০২১ সালে তাদের সম্মিলিত ভোট ছিল মাত্র ৩.৬৭ শতাংশ, যা ২০২৪ সালে বেড়ে হয়েছে ১৪.৩৪ শতাংশ। মুসলিম ভোটব্যাঙ্কের আধিপত্য ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে কলকাতা পোর্ট কেন্দ্রে মোট ভোটার ২ লক্ষ ৩৮ হাজার ৮৫১। ২০১৯ ও ২০২১-এর থেকে বেড়েছে। এই কেন্দ্রে মুসলিম ভোটব্যাঙ্ক অর্ধেকেরই বেশি। ৫১.৮০ শতাংশ মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস এই কেন্দ্রে। গার্ডেরিচ, মেটিয়াবুরুজ ও খিদিরপুর সংলগ্ন এলাকায় মুসলিম জনজাতি বেশি। উত্তর প্রদেশ, বিহারের বিভিন্ন জেলা থেকে কলকাতা বন্দরে কাজ করতে আসা মানুষ পরবর্তীকালেই স্থায়ী বাসিন্দা হয়েছেন। এছাড়াও অভিযোগ, বাংলাদেশ থেকে এসে অবৈধ ভাবে বসবাস করেন অনেকে। আপাদমস্তক শহুরে ভোটার বন্দর কেন্দ্রে। এই লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্ভুক্ত কলকাতার বন্দরসাইডের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা,গার্ডেনরিচ, মেটিয়াবুরুজ, কিদ্দারপুর ও খিদিরপুরের কিছু অংশ। এলাকার বড় অংশই হুগলি নদীর কাছাকাছি, আর এখানে বন্দর, জাহাজ তৈরির কারখানা, ডক রোড এবং গুদামঘর, সব মিলিয়ে বন্দরের পরিকাঠামোই প্রধান বৈশিষ্ট্য। অর্থনীতি ও ভৌগলিক এলাকা মেটিয়াবুরুজ কাপড়ে বাজার বেশ খ্যাত। অন্যদিকে গার্ডেনরিচ হল শিপিং এবং শিল্প-কারখানার অন্যতম কেন্দ্র। খিদিরপুরে রয়েছে শতাব্দী প্রাচীন বাজার এবং ঔপনিবেশিক যুগের স্থাপত্য, যা আজও আকর্ষণীয় চিহ্ন বহন করে। বন্দরের সম্প্রসারণ ও উন্নয়নের ফলে এই অঞ্চল দ্রুত বেড়েছে। তবে শহুরে নানা সমস্যাও রয়ে গেছে, জট, অপর্যাপ্ত নিকাশি ব্যবস্থা, সরু রাস্তা এবং মাঝে মধ্যেই জল জমে যাওয়ার ঘটনা। এলাকাজুড়ে পরিকাঠামো অসম, নতুন ফ্লাইওভার ও উন্নত রাস্তা যেমন রয়েছে, তেমনই তার পাশেই রয়ে গেছে পুরনো ও ভিড়ভাট্টা গলিও। দুর্দান্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা এসপ্ল্যানেড থেকে ৯ কিমি। অর্থাত্ একেবারে মধ্য কলকাতায়। ১০থেকে ১৪ কিমির মধ্যেই হাওড়া ও শিয়ালদা স্টেশন। দমদম বিমান বন্দর থেকে ২৫ কিমি দূরে। মাত্র ৮ কিমি দূরত্বের মধ্যে পার্কস্ট্রিট। আলিপুর মাত্র ৫ কিমি দূরে। ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নতই। কলকাতার সব রকমের সুবিধাও রয়েছে। ২০২৬ সালের ভোটে বন্দর কেন্দ্রে বিজেপি-র সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল মুসলিম ভোটব্যাঙ্ক। ২০০৯ সাল থেকেই দেখা যাচ্ছে, এই এলাকার মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের আস্থা তৃণমূল কংগ্রেসের উপরেই। অন্যদিকে কংগ্রেস ও বামেরা যদি জোট বাঁধে, তাদের ওই একই টার্গেট থাকবে।
Awadh kishore gupta
BJP
Md mukhtar
INC
Nota
NOTA
Sanjay dey
IND
Khan sarfaraz
BSP
Kalpana chohan
IND
Sk jayed hossain
SUCI
Manjay kumar roy
JD(U)
Jay prakash shaw
IND
Biswajit halder
IND
Rakesh singh
INC
Awadh kishore gupta
BJP
Nota
NOTA
Vivek kumar thakur
IND
Sarfaraz khan
BSP
Subrata saha
IND
Raj kumar chhetry
IND
Biswajit halder
IND
Sk. rajuddin
IND
Karan singh
IND
Deoraj yadav
IND