
দেগঙ্গা পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার একটি জেনারেল ক্যাটেগরির বিধানসভা কেন্দ্র। এটি বারাসত লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। এই বিধানসভা এলাকায় দেগঙ্গা ব্লকের ৯টি এবং বারাসত ব্লকের ২টি গ্রাম পঞ্চায়েত রয়েছে। ১৯৫১ সালে এই কেন্দ্র গঠিত হয়। এখন পর্যন্ত এখানে ১৭ বার ভোট হয়েছে। শুরুর দিকে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রভাব ছিল বেশি। ১৯৫১ থেকে ১৯৬২ পর্যন্ত টানা তিনবার এবং পরে ১৯৭২ সালে জিতে মোট চারবার এই আসন দখল করে কংগ্রেস। তবে দেগঙ্গায় সবচেয়ে সফল দল ছিল ফরওয়ার্ড ব্লক। তারা মোট পাঁচবার জেতে, যার মধ্যে ১৯৯১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত টানা চারবার জয় পায়। প্রোগ্রেসিভ মুসলিম লিগ এবং ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ—দুই দলই দু’বার করে জিতেছে। সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূল কংগ্রেস এই কেন্দ্রে শক্ত অবস্থ...
দেগঙ্গা পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার একটি জেনারেল ক্যাটেগরির বিধানসভা কেন্দ্র। এটি বারাসত লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। এই বিধানসভা এলাকায় দেগঙ্গা ব্লকের ৯টি এবং বারাসত ব্লকের ২টি গ্রাম পঞ্চায়েত রয়েছে। ১৯৫১ সালে এই কেন্দ্র গঠিত হয়। এখন পর্যন্ত এখানে ১৭ বার ভোট হয়েছে। শুরুর দিকে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রভাব ছিল বেশি। ১৯৫১ থেকে ১৯৬২ পর্যন্ত টানা তিনবার এবং পরে ১৯৭২ সালে জিতে মোট চারবার এই আসন দখল করে কংগ্রেস। তবে দেগঙ্গায় সবচেয়ে সফল দল ছিল ফরওয়ার্ড ব্লক। তারা মোট পাঁচবার জেতে, যার মধ্যে ১৯৯১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত টানা চারবার জয় পায়। প্রোগ্রেসিভ মুসলিম লিগ এবং ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ—দুই দলই দু’বার করে জিতেছে। সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূল কংগ্রেস এই কেন্দ্রে শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছে। তারা টানা শেষ তিনটি বিধানসভা নির্বাচন জিতেছে।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী রহিমা মণ্ডল ৩২,৫৩৭ ভোটে জয়ী হন। তিনি হারান ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টের প্রার্থী করিম আলিকে। এই দলটি গড়েছিলেন ধর্মীয় নেতা পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকী। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকায় তাঁর দলের প্রার্থীর হার রাজনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। উল্লেখযোগ্য, রহিমা মণ্ডল ২০১৬ সালেও ২৫,৯৯০ ভোটে জিতেছিলেন। এক সময়ের শক্তিশালী ফরওয়ার্ড ব্লক ২০১১ ও ২০১৬ সালে দ্বিতীয় হলেও ২০২১ সালে চতুর্থ স্থানে নেমে যায়। তারা মাত্র ২,৯২৪ ভোট পায়, যা মোট ভোটের ১.৩৭ শতাংশ। ভারতীয় জনতা পার্টি ২০২১ সালে তৃতীয় স্থানে উঠে আসে।
লোকসভা নির্বাচনেও দেগঙ্গায় তৃণমূলের প্রভাব স্পষ্ট। গত চারটি লোকসভা ভোটেই এই বিধানসভা এলাকায় তারা এগিয়ে থেকেছে। ২০২৪ সালে তৃণমূল ৬০,৩৭৮ ভোটে এগিয়ে ছিল। যদিও ২০১৯ সালের ৭৩,৯০৬ ভোটের লিডের তুলনায় কিছুটা কম, তবু ব্যবধান যথেষ্ট বড়।
দেগঙ্গা একটি মুসলিম-প্রধান কেন্দ্র। এখানে এখনও পর্যন্ত কোনও অ-মুসলিম প্রার্থী জিততে পারেননি। ২০২১ সালে মোট ভোটার ছিল ২,৪২,৬৫২ জন। ২০১৯ সালে ছিল ২,৩০,৩৪০ এবং ২০১৬ সালে ছিল ২,১৫,৭৮০ জন। ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী, প্রায় ৬৪.৪০ শতাংশ ভোটার মুসলিম। তফসিলি জাতির ভোটার প্রায় ১০.৮১ শতাংশ। এই কেন্দ্র মূলত গ্রামীণ। মাত্র ৬.৮৪ শতাংশ ভোটার শহরাঞ্চলের। ভোটের হার সাধারণত ৮০ শতাংশের বেশি থাকে।
ভৌগোলিকভাবে দেগঙ্গা উত্তর বিদ্যাধরী সমভূমির অংশ, যা গঙ্গার বদ্বীপ এলাকার অন্তর্গত। এলাকা সমতল ও জলাভূমি-ঘেরা। বিদ্যাধরী নদী এই অঞ্চলের মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে। সেচের জন্য এই নদী গুরুত্বপূর্ণ, আগে নৌযান চলাচলের পথ হিসেবেও ব্যবহৃত হত। এখানে মূলত ধান, পাট ও সবজি চাষ হয়। শিল্প তেমন গড়ে ওঠেনি। অধিকাংশ মানুষ কৃষি, ছোট ব্যবসা বা শহরে কাজের ওপর নির্ভরশীল। দেগঙ্গা বারাসত সদর মহকুমার অন্তর্গত। জেলার দক্ষিণ-পশ্চিমে রয়েছে কলকাতা, উত্তরে নদিয়া, দক্ষিণে দক্ষিণ ২৪ পরগনা। পূর্বদিকে রয়েছে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সীমানা, যা এই এলাকার কৌশলগত গুরুত্ব বাড়ায়।
জেলা সদর বারাসত দেগঙ্গা থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে। এছাড়া মধ্যমগ্রাম (২৫ কিমি), উত্তর দমদম (৩০ কিমি) এবং টাকি (৩৫ কিমি) কাছাকাছি শহর। রাজ্য রাজধানী কলকাতা প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে, সড়ক ও রেলপথে ভালো যোগাযোগ রয়েছে। গত কয়েকটি বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচনে ধারাবাহিক সাফল্যের ভিত্তিতে বলা যায়, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও তৃণমূল কংগ্রেস এই আসন ধরে রাখার ক্ষেত্রে সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে। বিরোধীরা এখনও ছড়ানো-ছিটানো। তবে যদি প্রবল শাসক-বিরোধী হাওয়া তৈরি হয়, তাহলে পরিস্থিতি বদলাতেও পারে।
Karim ali
RSSCMJP
Dipika chattarjee
BJP
Md. hasanoor jaman chowdhury
AIFB
Nota
NOTA
Sattar ali
BSP
Md. rafikul islam
WPOI
Ajoy sadhukhan
SUCI
Md. hasanoor jaman chowdhury
AIFB
Tarun kanti ghosh
BJP
Baki billah karikar
BSP
Rafikul islam
WPOI
Ajoy sadhu khan
SUCI
Nota
NOTA
Rita panda
LJP