
দক্ষিণ ২৪ পরগনার অন্যতম বিধানসভা কেন্দ্র কুলপি। এটি ডায়মন্ড হারবার মহকুমার অংশ এবং মথুরাপুর লোকসভা আসনের অধীনে সাতটি বিভাগের মধ্যে একটি। ১৯৫১ সালে তৈরি হওয়া এই নির্বাচনী এলাকাটি ১৪টি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং ১৭২টি জনবসতিপূর্ণ গ্রাম সহ সমগ্র কুলপি কমিউনিটি ডেভলপমেন্ট ব্লককে অন্তর্ভুক্ত করে। ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে, কুলপিতে সাক্ষরতার হার ছিল ৭৫.৪৯ শতাংশ, যেখানে লিঙ্গ বৈষম্য ১২.৮৫ শতাংশ। তা সত্ত্বেও, এটি বাংলার সবচেয়ে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া ব্লকগুলির মধ্যে একটি, যেখানে ৫২.৬৪ শতাংশ পরিবার দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। এই বিধানসভা কেন্দ্রে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) সাতবার, তৃণমূল কংগ্রেস চারবার এবং কংগ্রেস তিনবার জয়লাভ করেছিল। এছাড়া বাং...
দক্ষিণ ২৪ পরগনার অন্যতম বিধানসভা কেন্দ্র কুলপি। এটি ডায়মন্ড হারবার মহকুমার অংশ এবং মথুরাপুর লোকসভা আসনের অধীনে সাতটি বিভাগের মধ্যে একটি। ১৯৫১ সালে তৈরি হওয়া এই নির্বাচনী এলাকাটি ১৪টি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং ১৭২টি জনবসতিপূর্ণ গ্রাম সহ সমগ্র কুলপি কমিউনিটি ডেভলপমেন্ট ব্লককে অন্তর্ভুক্ত করে। ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে, কুলপিতে সাক্ষরতার হার ছিল ৭৫.৪৯ শতাংশ, যেখানে লিঙ্গ বৈষম্য ১২.৮৫ শতাংশ। তা সত্ত্বেও, এটি বাংলার সবচেয়ে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া ব্লকগুলির মধ্যে একটি, যেখানে ৫২.৬৪ শতাংশ পরিবার দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। এই বিধানসভা কেন্দ্রে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) সাতবার, তৃণমূল কংগ্রেস চারবার এবং কংগ্রেস তিনবার জয়লাভ করেছিল। এছাড়া বাংলা কংগ্রেস একবার জেতে। একজন নির্দল প্রার্থীও একবার করে জয়লাভ করেছিলেন। ১৯৫২ সালে, যখন এটি টুইন মেম্বার সিট ছিল, তখন কিষাণ মজদুর প্রজা পার্টি এবং ভারতীয় জনসংঘ (এখন বিজেপি) যৌথভাবে বিজয়ী হয়েছিল। কুলপি কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুখ হলেন যোগরঞ্জন হালদার, যিনি চারবার এখান থেকে জয়লাভ করেছিলেন। তিনি প্রথমবার ২০০১ সালে জয়ী হন, ২০০৬ সালে অল্প ব্যবধানে হেরে যান । এরপর টানা তিনবার জয় নিয়ে ফিরে আসেন। ২০১১ সালে ১৮,২৭৯ ভোট, ২০১৬ সালে ১১,৪৫৫ ভোট এবং ২০২১ সালে ৩৩,৮১৮ ভোট পান। আগে সিপিআই(এম) তৃণমূলের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল, কিন্তু ২০২১ সালে বিজেপির প্রণব কুমার মল্লিক দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসেন, যা বামপন্থীদের পতনের সঙ্গে বিজেপির উত্থানেরছবি তুলে ধরে। বিজেপির ভোটের ভাগ ২০১১ সালে ২.৫৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০১৬ সালে ৪.৯৯ শতাংশে পৌঁছয় এবং ২০২১ সালে তা বেড়ে ৩২.৫০ শতাংশ হয়। ২০০৯ সাল থেকে সংসদীয় নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ধারাবাহিকভাবে কুলপি আসন ধরে রেখেছে। ২০০৯ এবং ২০১৪ সালে সিপিআই(এম) ছিল প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী, কিন্তু গত দুটি লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। তৃণমূল ২০১৯ সালে ২৫,৬৮৮ ভোটে এবং ২০২৪ সালে ৩২,০৪২ ভোটে বিজেপির চেয়ে এগিয়ে ছিল। কংগ্রেসের সঙ্গে জোট থাকা সত্ত্বেও সিপিআই(এম)-এর ভোটের অংশ ২০১৯ সালে ৬.১০ শতাংশ থেকে কমে ২০২৪ সালে ৩.৫৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছিল। ২০২৪ সালে কুলপিতে রেজিস্ট্রেড ভোটার ছিল ২,৩২,৫৮৯ জন। ২০২১ সালে এই সংখ্যাটা ছিল ২,২০,১৪৪ জন এবং ২০১৯ সালে ২০৮,৩৪৫ জন। কুলপিতে ৩৪.৭০ শতাংশ ভোটার নিয়ে মুসলিমরা সবচেয়ে বড় সম্প্রদায় এবং তফসিলি জাতি রয়েছে ২৯.৬৭ শতাংশ। আসনটি বেশিরভাগই গ্রামীণ, যেখানে মাত্র ৫.৮৪ শতাংশ শহুরে ভোটার। ২০২১ সালে এই কেন্দ্রে ভোটদানের হার ছিল ৮৭.৮৭ শতাংশ, ২০১৬ সালে ৮৭.২০ শতাংশ এবং ২০২৪ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ৮১.৪৩ শতাংশ। ২০১৯ সালের সংসদীয় নির্বাচনে ভোটদানের হার ছিল ৮৩.৭১ শতাংশ। কুলপি নিম্ন গাঙ্গেয় বদ্বীপে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ঠিক উপরে সমতল, নিচু ভূমিতে অবস্থিত। হুগলি নদী এর পশ্চিম সীমানা তৈরি করে, উর্বর পলিমাটি এই অঞ্চলটিকে বন্যাপ্রবণ করে তুলেছে। এখানকার কৃষিই মূল ভিত্তি, ধান এবং শাকসবজি ব্যাপকভাবে চাষ করা হয়, অন্যদিকে স্থানীয় জীবিকার জন্য মাছ ধরাও গুরুত্বপূর্ণ। ধীরে ধীরে এই এলাকার পরিকাঠামোর উন্নতি হচ্ছে, তবে ঘূর্ণিঝড়, বন্যা এবং লবণাক্ত জলের চ্যালেঞ্জগুলির কারণে অনেক গ্রাম এখনও পিছিয়ে রয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে, কুলপি হুগলি নদীর তীরে তার প্রাচীন বসতি এবং পুরাতন বাণিজ্য রুটের সঙ্গে সংযোগের জন্য পরিচিত। এই অঞ্চলটি পর্তুগিজ প্রভাবের অধীনে ছিল এবং পরে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির জমিদারির অংশ হয়ে ওঠে। কুলপি ডায়মন্ড হারবার থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার, বারুইপুর (জেলা সদর) থেকে ৫৫ কিলোমিটার এবং কলকাতা থেকে ৬৩ কিলোমিটার দূরে। কুলপি পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুক থেকে প্রায় ৪৫কিমি দূরে। এখান থেকে রায়চক ২১ কিমি দূরে। উত্তর ২৪ পরগণার বসিরহাট প্রায় ৯৫ কিমি দূরে। বাংলাদেশের খুলনা প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে, যদিও সরাসরি কোন সড়ক যোগাযোগ নেই। তৃণমূল কংগ্রেস ২০২৬ সালের নির্বাচনী লড়াইতে কুলপিতে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে। বিজেপিকে এখানে ভাল কিছু করতে হলে হিন্দু ভোটারদের একত্রিত করতে হবে। যদি তা না হয়, তাহলে প্রতিযোগিতাটি আবারও তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
Pranab kumar mallik
BJP
Siraj uddin gazi
RSSCMJP
Nota
NOTA
Ranajit singha
SUCI
Mrinmay mandal
IND
Rejaul haque khan
CPM
Nabendu sundar naskar
BJP
Dr. arup kumar halder
BSP
Nota
NOTA
Ranajit singha
SUCI
Sabir hossen chaprasi
LJP