
হাড়োয়া পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার একটি জেনারেল তালিকার বিধানসভা কেন্দ্র। এটি বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্রের অধীন সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের একটি। এই বিধানসভা কেন্দ্রটি বারাসত–২ ব্লকের চারটি, দেগঙ্গা ব্লকের চারটি এবং হাড়োয়া ব্লকের চারটি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত। এটি একটি মুসলিম-অধ্যুষিত এবং সম্পূর্ণ গ্রামীণ কেন্দ্র। এখানে কোনও শহুরে ভোটার নেই।
১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ২০২৪ সালের উপনির্বাচন-সহ মোট ১৮টি বিধানসভা নির্বাচনে হয়েছে হাড়োয়াতে। এই কেন্দ্রটি বরাবরই রাজনৈতিকভাবে পরিবর্তনশীল থেকেছে এবং সময়ে সময়ে বিভিন্ন দলের প্রতি সমর্থন বদলেছে। প্রাথমিক দশকগুলিতে এটি কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি ছিল। পরবর্তী সময়ে এটি সিপিআই(এম)-এর দুর্গে পরিণত হয়। তবে ২০১১ সালে রা...
হাড়োয়া পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার একটি জেনারেল তালিকার বিধানসভা কেন্দ্র। এটি বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্রের অধীন সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের একটি। এই বিধানসভা কেন্দ্রটি বারাসত–২ ব্লকের চারটি, দেগঙ্গা ব্লকের চারটি এবং হাড়োয়া ব্লকের চারটি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত। এটি একটি মুসলিম-অধ্যুষিত এবং সম্পূর্ণ গ্রামীণ কেন্দ্র। এখানে কোনও শহুরে ভোটার নেই।
১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ২০২৪ সালের উপনির্বাচন-সহ মোট ১৮টি বিধানসভা নির্বাচনে হয়েছে হাড়োয়াতে। এই কেন্দ্রটি বরাবরই রাজনৈতিকভাবে পরিবর্তনশীল থেকেছে এবং সময়ে সময়ে বিভিন্ন দলের প্রতি সমর্থন বদলেছে। প্রাথমিক দশকগুলিতে এটি কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি ছিল। পরবর্তী সময়ে এটি সিপিআই(এম)-এর দুর্গে পরিণত হয়। তবে ২০১১ সালে রাজ্যে ৩৪ বছরের বামফ্রন্ট শাসনের অবসানের পর থেকে শাসক তৃণমূল কংগ্রেস এই কেন্দ্রে শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছে।
১৯৫১ সালের প্রথম নির্বাচনে হাড়োয়া ছিল দ্বৈত আসনের কেন্দ্র। যেখানে কংগ্রেস ও সিপিআই একটি করে আসন জেতে। ১৯৫৭ সাল থেকে এটি একক আসনে পরিণত হয়। ১৯৭৭ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত টানা সাতবার এই আসন জেতে সিপিআই(এম)। ২০১১ সালে সেই ধারাবাহিকতা ভেঙে তৃণমূল কংগ্রেস প্রথমবার এখানে জয়লাভ করে এবং তারপর থেকে সবকটি নির্বাচনে আসনটি ধরে রেখেছে। অতীতে কংগ্রেস চারবার এবং বিদ্রোহী বাংলা কংগ্রেস—যা পরে মূল কংগ্রেসে মিশে যায়, দু’বার এই আসন জিতেছিল।
২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী জুলফিকর আলি মোল্লা সিপিআই(এম)-এর ইমতিয়াজ হোসেনকে মাত্র ১,১২৪ ভোটে হারিয়ে দলের খাতা খোলেন। ২০১৬ সালে তৃণমূল নতুন মুখ হাজী নুরুল ইসলামকে প্রার্থী করে এবং তিনি ইমতিয়াজ হোসেনকে ৪২,৪০৭ ভোটের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেন। ২০২১ সালে হাজী নুরুল ইসলাম আরও বড় ব্যবধানে—৮০,৯৭৮ ভোটে—আইএসএফ সমর্থিত বাম–কংগ্রেস জোট প্রার্থী কুতুবউদ্দিন ফাতেহকে হারিয়ে জয়ী হন। ২০২৪ সালে হাজী নুরুল ইসলাম লোকসভায় নির্বাচিত হওয়ায় বিধানসভা আসনে উপনির্বাচন হয়, যেখানে তৃণমূলের প্রার্থী শেখ রবিউল ইসলাম আইএসএফ প্রার্থী পিয়ারুল ইসলামকে ১,১৫,১৮৮ ভোটে হারান।
লোকসভা নির্বাচনের প্রবণতাতেও হাড়োয়ায় তৃণমূল কংগ্রেসের আধিপত্য স্পষ্ট। ২০০৯ সালে তৃণমূল সিপিআই-এর থেকে ১,৮০৭ ভোটে এগিয়ে ছিল। ২০১৪ সালে এই লিড বেড়ে দাঁড়ায় ৪৩,৩৫৫ ভোটে। ২০১৯ সালে বিজেপি দ্বিতীয় স্থানে উঠে এলেও তৃণমূলের উপর কোনও প্রভাব ফেলতে পারেনি—লিড বেড়ে হয় ৯৭,৫৪৮ ভোট। ২০২৪ সালে বিজেপির জায়গা নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসে আইএসএফ, কিন্তু তৃণমূলের লিড আরও বেড়ে ১,১০,৯৯১ ভোটে পৌঁছয়।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের খসড়া ভোটার তালিকা অনুযায়ী, হাড়োয়ায় মোট ভোটার সংখ্যা ২,৬৯,০৪৯ জন। যা ২০২৪ সালের ২,৬৮,৯৬১-এর তুলনায় সামান্য বেশি। আগের বছরগুলিতে ভোটার সংখ্যা ছিল—২০২১ সালে ২,৫৯,২০৬ জন, ২০১৯ সালে ২,৪৬,৬৮২ জন, ২০১৬ সালে ২,৩১,১৮৩ জন এবং ২০১১ সালে ১,৮৬,৬৩০ জন। হাড়োয়ার ভোটারদের মধ্যে মুসলিম সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ সর্বাধিক—৬৫.৭০ শতাংশ। এরপর রয়েছে তফসিলি জাতি (১৫.৬০ শতাংশ) এবং তফসিলি উপজাতি (৪.৩৩ শতাংশ)। এটি সম্পূর্ণ গ্রামীণ কেন্দ্র। ভোটদানের হার বরাবরই বেশি। ২০১১ সালে ৮৯.৮০%, ২০১৬ সালে ৮৬.৮১%, ২০১৯ সালে ৮৪.৫৪% এবং ২০২১ সালে ৮৭.৭০%।
ভৌগোলিকভাবে হাড়োয়া ইছামতী–রায়মঙ্গল সমভূমির অন্তর্গত, যা নিম্ন গঙ্গা বদ্বীপ অঞ্চলে অবস্থিত। এখানকার মাটি প্রধানত পলিমাটি এবং বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে বহু নদী, খাল ও জলপথ রয়েছে। ভূমি সমতল ও নিচু, এবং বৃহত্তর অঞ্চলের কিছু অংশ সুন্দরবনের প্রান্তবর্তী জনবসতির অন্তর্ভুক্ত। কৃষিই এখানকার প্রধান জীবিকা, যার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ক্ষুদ্র ব্যবসা ও স্থানীয় বাজারকেন্দ্রিক পরিষেবা।
হাড়োয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথে অবস্থিত, যা কলকাতা ও উত্তর ২৪ পরগনার অন্যান্য অংশের সঙ্গে সংযোগ রক্ষা করে। হাড়োয়া বাজার ও হাড়োয়া ব্রিজ থেকে শ্যামবাজার, নাগেরবাজার, এয়ারপোর্ট, কাইখালি, বাগুইআটি ও রাজাহাটের দিকে নিয়মিত বাস পরিষেবা রয়েছে। নিকটতম রেলস্টেশন হারুয়া রোড, যা শিয়ালদহ–হাসনাবাদ শাখা লাইনে অবস্থিত। জেলা সদর বারাসত প্রায় ২৫ কিমি, বসিরহাট প্রায় ৩০ কিমি এবং কলকাতা প্রায় ৪৫ কিমি দূরে।
নিকটবর্তী অন্যান্য শহরের মধ্যে রয়েছে দেগঙ্গা, মিনাখাঁ, বাদুড়িয়া, টাকি ও হাসনাবাদ—সবই প্রায় ২০ থেকে ৪০ কিমির মধ্যে। এছাড়াও হাড়োয়া বাংলাদেশ সীমান্তের খুব বেশি দূরে নয়। টাকি ও ঘোষাডাঙার মতো সীমান্তবর্তী এলাকাগুলি প্রায় ২৫–৩৫ কিমি দূরে অবস্থিত এবং ইছামতী ও রায়মঙ্গল নদীর ওপারে বাংলাদেশের গ্রামীণ অঞ্চল বিস্তৃত।
খসড়া ভোটার তালিকায় ভোটার সংখ্যার সামান্য হ্রাস (যদি চূড়ান্ত তালিকায় পরিবর্তন না হয়) কেবল জয়ের ব্যবধানেই প্রভাব ফেলতে পারে, ফলাফলে নয়। হাড়োয়ায় তৃণমূল কংগ্রেস কার্যত অপ্রতিদ্বন্দ্বী। ২০০৯ সালের পর থেকে অনুষ্ঠিত আটটি নির্বাচনেই তারা জয়ী হয়েছে বা লিড করেছে। বর্তমানে তাদের সামনে কোনও চ্যালেঞ্জ নেই। অপ্রত্যাশিত কিছু না ঘটলে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও তৃণমূল কংগ্রেস অনায়াসেই হাড়োয়া আসন ধরে রাখবে।
Kutubuddin fathe
RSSCMJP
Rajendra saha (somu)
BJP
Nota
NOTA
Md kutubuddin
IND
Akher ali molla
UTSAP
Abul kalam
JSTDVPMTP
Imtiaz hossain
CPM
Manmatha bachar
BJP
Md.nazrul islam
BSP
Nota
NOTA