
প্রচুর সংখ্যালঘু ভোটার থাকা সত্ত্বেও, এই আসনে ক্রমশ বাড়ছে বিজেপির ভোট। আর এটাই অন্য আসন থেকে বারুইপুর পশ্চিমকে আলাদা করেছে। পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার যাদবপুর লোকসভা আসনের মধ্যে পড়ে বারুইপুর পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্র। ২০০৮ সালের পর নির্বাচন কমিশনের সুপারিশের ভিত্ততে তৈরি হয় এই বিধানসভা আসন। সেবার বারুইপুর আসনটিকে বারুইপুর পশ্চিম এবং বারুইপুর পূর্ব ভাগে ভাগ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে, বারুইপুর পৌরসভা এবং বারুইপুর কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লকের ১০টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা রয়েছে।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে, বারুইপুর পশ্চিম তৃণমূল কংগ্রেসের একটি শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। প্রবীণ নেতা এবং বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় এখানে তিনবার প্রতিনিধিত্ব করে তিনবারই জিতেছেন। ...
প্রচুর সংখ্যালঘু ভোটার থাকা সত্ত্বেও, এই আসনে ক্রমশ বাড়ছে বিজেপির ভোট। আর এটাই অন্য আসন থেকে বারুইপুর পশ্চিমকে আলাদা করেছে। পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার যাদবপুর লোকসভা আসনের মধ্যে পড়ে বারুইপুর পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্র। ২০০৮ সালের পর নির্বাচন কমিশনের সুপারিশের ভিত্ততে তৈরি হয় এই বিধানসভা আসন। সেবার বারুইপুর আসনটিকে বারুইপুর পশ্চিম এবং বারুইপুর পূর্ব ভাগে ভাগ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে, বারুইপুর পৌরসভা এবং বারুইপুর কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লকের ১০টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা রয়েছে।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে, বারুইপুর পশ্চিম তৃণমূল কংগ্রেসের একটি শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। প্রবীণ নেতা এবং বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় এখানে তিনবার প্রতিনিধিত্ব করে তিনবারই জিতেছেন। ২০১১ সালে, সিপিআই(এম) এর কনক কান্ত পারিয়াকে ৩১,৮৮৮ ভোটে পরাজিত করেন তিনি। ২০১৬ সালে ফের জেতেন বিমান। সে সময় সিপিআই(এম)-এর সাইফুদ্দিন খানের বিরুদ্ধে তাঁর ভোটের ব্যবধান বেড়ে ৩৬,৫৩২ ভোটে পৌঁছায়। এরপর ২০২১ সালে বিজেপির দেবোপম চট্টোপাধ্যায়কে পরাজিত করে তার ভোটের ব্যবধান আরও বেড়ে ৬১,৯১০ ভোটে পৌঁছায়।
২০১১ সালের পর থেকে ক্রমশ নিজেদের ভোট বাড়িয়েছে বিজেপিও। সেবার মাত্র ৪,১৯১ ভোট পায় বিজেপি। ২০১৬ সালে ১৩,৮১২ ভোট আর ২০২১ সালে ৫৯,০৯৬ ভোট পান। এই ভোটবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্য কারণ এই আসনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ভোটার মুসলিম, যারা সাধারণত বিজেপিকে সমর্থন করেন না। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে, তৃণমূল কংগ্রেস বারুইপুর পশ্চিম আসনে বিজেপির চেয়ে ৪০,২৪৮ ভোটে এগিয়ে ছিল, যা ২০১৯ সালের ৩৫,০৩২ ভোটের লিড থেকে সামান্য বেশি।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বারুইপুর পশ্চিম আসনে ২,৫৩,৭৪৯ জন ভোটার ছিলেন, যা ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে ২,৩২,৭৪৩ জন এবং ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ২,১২,৮৯৮ জন ভোটার। মুসলিম এবং তফসিলি জাতির ভোটার প্রায় সমান ছিল, মুসলিমদের ৩০.৩০ শতাংশ (৭৬,৮৭২ জন ভোটার) এবং তফসিলি জাতির ভোটার ৩০.২৮ শতাংশ (৭৬,৮১৯ জন ভোটার)। এই আসনটির মিশ্র চরিত্র রয়েছে, যেখানে ৫১.৬০ শতাংশ গ্রামীণ এবং ৪৮.৪০ শতাংশ শহরাঞ্চলীয় ভোটার রয়েছে। এই আসনটিতে ৮০ শতাংশেরও বেশি ভোটার ভোট দিয়েছেন। ২০২১ সালে এখানে ৮৩.২৯ শতাংশ ভোট পড়েছে, যা ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের ৮২.১৬ শতাংশ ভোটের তুলনায় কিছুটা ভালো, কিন্তু ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ৮৫.৭৭ শতাংশের তুলনায় কম।
বারুইপুর পশ্চিম আসনের অংশ এই শহরটি ইংরেজ আমলে নীল চাষের জন্য পরিচিত ছিল এবং দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বাণিজ্য ও কৃষির কেন্দ্র ছিল। এই অঞ্চলটি ছোট নদী এবং খাল দ্বারা বেষ্টিত, যার মধ্যে আদি গঙ্গাও রয়েছে, যা একসময় কলকাতায় যাতায়াতের জন্য একটি নৌযান রুট ছিল।
কৃষিকাজই স্থানীয় অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যেখানে ধান, শাকসবজি এবং ফুলই প্রধান ফসল। তবে, নগরায়নের ফলে কৃষিজমি দখল করে নিয়েছে বড় বড় বিল্ডিং। বিশেষ করে পৌরসভার কাছাকাছি অঞ্চলে। এখানকার অনেক বাসিন্দা ছোট ব্যবসা, নির্মাণকর্মী এবং নানা পরিষেবা সংক্রান্ত কাজের সঙ্গে জড়িত। জনসংখ্যার একটি বড় অংশ কাজের জন্য কলকাতায় যাতায়াত করেন।
বারুইপুর রাজ্যের রাজধানী কলকাতা থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা সদর দপ্তর আলিপুর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। কাছাকাছি শহরগুলির মধ্যে রয়েছে সোনারপুর (১২ কিমি), রাজপুর (১০ কিমি) এবং ভাঙড় (২০ কিমি)।
বারুইপুর পশ্চিমে বিজেপির ক্রমবর্ধমান উত্থান সত্ত্বেও, তৃণমূল কংগ্রেসকে টেক্কা দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। বিজেপিকে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে, সংখ্যালঘু ভোট ব্যাঙ্কে ভাগ বসাতে হবে। শুধু তাই নয়, তফসিলি জাতি এবং শহুরে ভোটারদের সমর্থনও জোগাড় করতে হবে।
Debopam chattopadhyaya(babu)
BJP
Md lahek ali
CPI(M)
Raneswar das
IND
Nota
NOTA
Ajit baul
BSP
Sukumar naskar
IND
Mukul mondal
IND
Ananda kundu
IND
Safiuddin khan
CPM
Basabdatta banerjee
BJP
Nota
NOTA
Gopinath mondal
SUCI
Mukul mondal
IND
Debabrata mondal
IND
Mrinal kanti mondal
LJP