
পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া জেলার অন্তর্গত পলাশিপাড়া কেন্দ্রটি কৃষ্ণনগর লোকসভা আসনের সাতটি বিধানসভার মধ্যে একটি। এটি সমগ্র তেহট্ট ২ কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লক, তেহট্ট ১ ব্লকের দুটি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং নাকাশিপাড়া ব্লকের চারটি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত। ১৯৭৭ সালে গঠিত পলাশিপাড়া, এ পর্যন্ত ১০টি বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দিয়েছে। সিপিআই(এম) বেশিরভাগ সময়ই এই আসনে আধিপত্য দেখিয়েছে। ১৯৭৭ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে আটটি নির্বাচনেই জয়লাভ করে সিপিআই(এম) , এরপর তৃণমূল কংগ্রেস পরপর দুটি নির্বাচনে জয় পায়। এস.এম. সাদি ছিলেন শেষ কমিউনিস্ট নেতা যিনি ২০১১ সালে এই আসনে জয়ী হন, সেবার তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের মানিক ভট্টাচার্যকে ১,৬৫২ ভোটের সামান্য ব্যবধানে পরাজিত করেন, যা এই অঞ্চলে তৃণ...
পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া জেলার অন্তর্গত পলাশিপাড়া কেন্দ্রটি কৃষ্ণনগর লোকসভা আসনের সাতটি বিধানসভার মধ্যে একটি। এটি সমগ্র তেহট্ট ২ কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লক, তেহট্ট ১ ব্লকের দুটি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং নাকাশিপাড়া ব্লকের চারটি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত। ১৯৭৭ সালে গঠিত পলাশিপাড়া, এ পর্যন্ত ১০টি বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দিয়েছে। সিপিআই(এম) বেশিরভাগ সময়ই এই আসনে আধিপত্য দেখিয়েছে। ১৯৭৭ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে আটটি নির্বাচনেই জয়লাভ করে সিপিআই(এম) , এরপর তৃণমূল কংগ্রেস পরপর দুটি নির্বাচনে জয় পায়। এস.এম. সাদি ছিলেন শেষ কমিউনিস্ট নেতা যিনি ২০১১ সালে এই আসনে জয়ী হন, সেবার তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের মানিক ভট্টাচার্যকে ১,৬৫২ ভোটের সামান্য ব্যবধানে পরাজিত করেন, যা এই অঞ্চলে তৃণমূলের উত্থানের ইঙ্গিত দেয়। তৃণমূল কংগ্রেস তাদের প্রার্থী পরিবর্তন করে ২০১৬ সালের নির্বাচনে তাপস কুমার সাহাকে টিকিট দেয়, এবং এই পদক্ষেপটি লাভজনক ফল দেয। তাপস কুমার সাহা সিপিআই(এম) এর তৎকালীন বিধায়ক সাদিকে ৫,৫৫৯ ভোটে পরাজিত করেন। ২০২১ সালের নির্বাচনে তৃণমূল মানিক ভট্টাচার্যকে তাদের প্রার্থী হিসেবে ফিরিয়ে আনার পর তাপস কুমার সাহাকে তেহট্ট আসনে টিকিট দেওয়া হয়। এবার মানিক ভট্টাচার্য সফল প্রমাণিত হন, কারণ তিনি আসনটি জিতে বিজেপির বিভাস চন্দ্র মণ্ডলকে ৫১,৩৩৬ ভোটের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেন। পলাশিপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রের লোকসভা নির্বাচনের ভোটের ট্রেন্ডে সিপিআই(এম) এবং তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে একই রকম কঠিন লড়াই দেখা গেছে। ২০০৯ সালে তৃণমূল কংগ্রেস সিপিআই(এম)-এর চেয়ে ২,৮৭৭ ভোটে এগিয়ে ছিল। ২০১৪ সালে সিপিআই(এম) ২,৯৪৪ ভোটের ব্যবধানে আবারও এগিয়ে যায়। ২০১৯ সালে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার যুগের অবসান ঘটে। এবার সিপিআই(এম)-এর পতন ঘটে এবং বিজেপি তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে। ২০১৯ সালে তৃণমূল এই কেন্দ্র থেকে ৩৬,০৬০ ভোটে এগিয়ে ছিল, এরপর ২০২৪ সালেও সমানভাবে প্রভাবশালী ফলাফল দেখায় দলটি। বিজেপির থেকে ৩৪,১০০ ভোটে এগিয়ে থাকে। ২০২৪ সালে পলাশিপাড়া আসনে ২,৫২,৬৩৪ জন রেজিস্টেড ভোটার ছিলেন। ২০২১ সালে সংখ্যাটা ছিল ২,৪৪,৮৬৭ জন। ২০১৯ সালে ২,৩১,২৪৪ জন, ২০১৬ সালে ২,১৮,১৮১ জন এবং ২০১১ সালে ১,৮৫,৫২৫ জন। ৪৯.২০ শতাংশ ভোটার নিয়ে মুসলিমরা সবচেয়ে প্রভাবশালী, যেখানে তফসিলি জাতি মোট ভোটারের ১৫.৭৯ শতাংশ এবং তফসিলি উপজাতি ১.০৮ শতাংশ। এটি সম্পূর্ণরূপে গ্রামীণ নির্বাচনী এলাকা যেখানে কোনও শহুরে ভোটার নেই। বছরের পর বছর ধরে ভোটদানের হার উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। ২০১১ সালে ভোটদানের হার ছিল ৮৬.০৫ শতাংশ, ২০১৬ সালে ৮৩.৭৫ শতাংশ, ২০১৯ সালে ৮০.৭২ শতাংশ, ২০২১ সালে ৮৩.১৩ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ৭৮.২১ শতাংশ। পলাশিপাড়ার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে, এর নাম এবং বসতি স্থাপনের সঙ্গে ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধ এবং ১৮ শতকে বাংলায় মারাঠা আক্রমণের সময় আত্মরক্ষার জন্য পালিয়ে আসা অভিবাসীদের সম্পর্ক রয়েছে। নদিয়া জেলার উত্তর অংশে থাকা পলাশিপাড়া ভাগীরথী নদীর পূর্ব তীরে অবস্থিত। ভূখণ্ডটি সমতল এবং উর্বর, গঙ্গার শাখানদী দ্বারা পুষ্ট, যা কৃষিকে এর অর্থনীতির মেরুদণ্ড করে তোলে। ধান, পাট এবং শাকসবজি প্রধান ফসল, অন্যদিকে ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং কুটির শিল্প গ্রামীণ জীবিকা নির্বাহের অন্যতম মাধ্যম। পরিকাঠামোগত দিক থেকে তেহট্ট এবং নাকাশিপাড়ার মধ্য দিয়ে সড়ক যোগাযোগ এই নির্বাচনী এলাকাকে ৩৫ কিলোমিটার দূরে জেলা সদর দফতর কৃষ্ণনগরের সঙ্গে সংযুক্ত করে। নিকটতম রেলওয়ে স্টেশন হল ২০ কিলোমিটার দূরে বেথুয়াডহরি, যা এই অঞ্চলটিকে শিয়ালদা-লালগোলা লাইনের সঙ্গে সংযুক্ত করে। কাছাকাছি শহরগুলির মধ্যে রয়েছে ১৫ কিলোমিটার দূরে তেহট্ট এবং ২০ কিলোমিটার দূরে নাকাশিপাড়া। মুর্শিদাবাদ জেলার সদর দফতর বহরমপুর প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। রাজ্যের রাজধানী কলকাতা প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত এবং সড়ক ও রেলপথে যাতায়াত করা যায়। সংলগ্ন জেলাগুলিতে, রানাঘাট ৬০ কিলোমিটার দূরে, শান্তিপুর ৫৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। পলাশিপাড়া বাংলাদেশ সীমান্তের কাছাকাছি, চাঁপাই নবাবগঞ্জ জেলা প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে সীমান্তের ওপারে অবস্থিত। এই নৈকট্য ঐতিহাসিকভাবে অভিবাসনের ধরণকে প্রভাবিত করেছে এবং নির্বাচনী এলাকার জনসংখ্যা ও রাজনীতিতে প্রভাব ফেলেছে। তৃণমূল কংগ্রেস ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পলাশিপাড়া আসনটি সহজেই ধরে রাখবে বলে মনে হচ্ছে, কারণ গত সাতটি প্রধান নির্বাচনের মধ্যে পাঁচটিতেই তারা নেতৃত্ব দিয়েছে। কংগ্রেসকে জোটসঙ্গী হিসেবে পাওয়ার পরও বামফ্রন্টের হারানো গৌরব ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। বিজেপি এখানে ক্রমে শক্তি বাড়াচ্ছে, কিন্তু তা তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করার মতো যথেষ্ট নয়। তৃণমূল কংগ্রেসকে টেক্কা দেওয়ার জন্য বামফ্রন্ট-কংগ্রেস জোটের শক্তিশালী পুনরুজ্জীবন এবং বিজেপির পিছনে সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু ভোট একত্রিত হওয়া জরুরি, যা অসম্ভব না হলেও বেশ কঠিন কাজ।
Bibhash chandra mandal
BJP
S.m. sadi
CPI(M)
Maniruzzaman mondal
SUCI
Ratikanta thakur
BSP
Ramesh barman
IND
Nota
NOTA
Bijoy dutta
IND
Panchanan mandal
IND
S.m.sadi
CPM
Bibhash mandal
BJP
Monoj ray
SHS
Batshobha sekh
SUCI
Nota
NOTA
Dwijen biswas
BSP
F.r. sekh
SDPI