
SIR। ভোটার তালিকায় বদল। কুলতলির রাজনীতিতে কী এর আদৌ কোনও প্রভাব পড়বে? এক সময়ের লাল ঘাঁটি কুলতলি আপাতত ঘাসফুলের দুর্গ। ২০২৬-এর ভোটে কি সেই ছবি পাল্টাতে চলেছে?
কুলতলি দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর মহকুমার মধ্যে পড়ে। এই কুলতলি ব্লককে ঘিরেই ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাড়ছে রাজনৈতিক তরজা। তফসিলি জাতির জন্য সংরক্ষিত এই বিধানসভা কেন্দ্র। এক সময় SUCI-এর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। পরবর্তী সময়ে এখানে ধীরে ধীরে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রভাব বাড়তে শুরু করে। কিন্তু সম্প্রতি SIR-এর পরে ভোটার তালিকা থেকে ৭৫ হাজারেরও বেশি নাম বাদ পড়েছে। আর তারপরেই কুলতলির রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছেন বিশ্লেষকরা। কেন? জানব। তার আগে একটু কুলতলি বিধানসভা কেন্দ্রের বিষয়ে...
SIR। ভোটার তালিকায় বদল। কুলতলির রাজনীতিতে কী এর আদৌ কোনও প্রভাব পড়বে? এক সময়ের লাল ঘাঁটি কুলতলি আপাতত ঘাসফুলের দুর্গ। ২০২৬-এর ভোটে কি সেই ছবি পাল্টাতে চলেছে?
কুলতলি দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর মহকুমার মধ্যে পড়ে। এই কুলতলি ব্লককে ঘিরেই ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাড়ছে রাজনৈতিক তরজা। তফসিলি জাতির জন্য সংরক্ষিত এই বিধানসভা কেন্দ্র। এক সময় SUCI-এর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। পরবর্তী সময়ে এখানে ধীরে ধীরে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রভাব বাড়তে শুরু করে। কিন্তু সম্প্রতি SIR-এর পরে ভোটার তালিকা থেকে ৭৫ হাজারেরও বেশি নাম বাদ পড়েছে। আর তারপরেই কুলতলির রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছেন বিশ্লেষকরা। কেন? জানব। তার আগে একটু কুলতলি বিধানসভা কেন্দ্রের বিষয়ে জেনে নেওয়া যাক।
১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত কুলতলি বিধানসভা। জয়নগর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের একটি। কুলতলি কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লক এবং জয়নগর ২ ব্লকের চারটি গ্রাম পঞ্চায়েত এই কেন্দ্রের মধ্যেই পড়ে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখনও পর্যন্ত এই কেন্দ্রে ১৪ বার বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে। SUCI(C) এই আসনে মোট ১০ বার জিতেছে। সিপিআই(এম) ২ বার। কংগ্রেস এবং তৃণমূল কংগ্রেস একবার করে। ১৯৭৭ থেকে ২০০৬, টানা সাতবার এই কেন্দ্রে জিতেছে SUCI। সেই অধ্যায়ের অবসান ঘটে ২০১১ সালে। সে বছর সিপিআই(এম)-এর প্রার্থী রামশঙ্কর হালদার ৪,৮১৩ ভোটের ব্যবধানে এসইউসিআই(সি)-র জয়কৃষ্ণ হালদারকে পরাজিত করেন। ২০১৬ সালেও রামশঙ্কর হালদার আসনটি ধরে রাখেন। সে বার তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের গোপাল মাঝিকে ১১,৭২০ ভোটে হারান। সেই নির্বাচনে এসইউসিআই(সি) তৃতীয় স্থানে নেমে যায়।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কুলতলির রাজনৈতিক ছবিটাই বদলে যায়। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী গণেশচন্দ্র মণ্ডল বিপুল ব্যবধানে বিজেপির মিন্টু হালদারকে হারান। ব্যবধান ছিল ৪৭,১৭৭ ভোট। সেই নির্বাচনে সিপিআই(এম) এবং এসইউসিআই(সি) যথাক্রমে তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে নেমে যায়। লোকসভা নির্বাচনের ফলও তাৎপর্যপূর্ণ। ২০০৯ সালে এসইউসিআই(সি) ৫,১২৩ ভোটে আরএসপি-কে এগিয়ে ছিল। ২০১৪ সালে আরএসপি ১৮,২৯৫ ভোটে এসইউসিআই(সি)-কে ছাপিয়ে যায়। ২০১৯ সালে তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপির বিরুদ্ধে ৮,৪১১ ভোটের লিড পায়। ২০২৪ সালে সেই লিড বেড়ে দাঁড়ায় ৩৮,৪০৭ ভোটে।
তবে ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে ভোটার সংখ্যায়। সংশোধিত ভোটার তালিকা অনুযায়ী কুলতলিতে মোট ভোটার সংখ্যা এখন ২,০৯,১৩৭। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ২,৮৪,৬৭১। অর্থাৎ এক ধাক্কায় কমেছে ৭৫,৫৩৪ জন ভোটার। ২০২১ সালে ভোটার ছিলেন ২,৬৫,৫৬১ জন। ২০১৯ সালে ২,৪৮,৪৮৯, ২০১৬ সালে ২,৩০,১৮০ এবং ২০১১ সালে ১,৮৭,৯৫০ জন ভোটার ছিলেন এই কেন্দ্রে। ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী কুলতলিতে তফসিলি জাতির ভোটার ছিল ৩৯.১১ শতাংশ, তফসিলি উপজাতি ১.৯৩ শতাংশ এবং মুসলিম ভোটার ৩০.৬০ শতাংশ। যদিও ভোটার তালিকা সংশোধনের পরে এই অনুপাত বদলে গিয়ে থাকতে পারে। কুলতলি সম্পূর্ণ গ্রামীণ এলাকা। এখানে কোনও শহুরে ভোটার নেই। ভোটদানের হার বরাবরই বেশি। ২০১১ সালে ৮৯.০৩ শতাংশ, ২০১৬ সালে ৮৫.৯৮ শতাংশ, ২০১৯ সালে ৮১.৪৬ শতাংশ এবং ২০২১ সালে ৮৫.৬৫ শতাংশ ভোট পড়ে।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০১৯ ও ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে লিডের পর কুলতলিতে ক্রমেই তৃণমূল কংগ্রেসের আধিপত্য বাড়ছিল। কিন্তু ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়ায় সেই সমীকরণ বদলে যেতে পারে, ধারণা বিশ্লেষকদের। এতে বিজেপি কিছুটা অ্যাডভান্টেজে আছে বলেই ধারণা রাজনৈতিক মহলের। ফলে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কুলতলি যে বেশ একটা হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সাক্ষী হতে চলেছে, তাই নিয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই।
Mintu halder
BJP
Ram sankar halder
CPI(M)
Jaykrishna haldar
SUCI
Kanan bala mondal
BSP
Nota
NOTA
Ratan kumar naskar
IND
Kartick mondal
BMUP
Gobinda majhi
IND
Bablu sanfui
LJP
Gopal majhi
AITC
Jaykrishna haldar
SUCI
Bikram naskar
BJP
Nota
NOTA
Tapan bairagi
IND
Pallabi das
LJP
Bhutnath sardar
BMUP