
বারুইপুর পূর্ব আসনটি তফশিলি জাতির জন্য সংরক্ষিত। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রটি যাদবপুর লোকসভার অন্তর্গত। অতীতে বারুইপুর একটি বিধানসভা কেন্দ্র ছিল। ২০০৮ সালে পুনর্বিন্যাসের পর বারুইপুর পূর্ব আসনটি গঠিত হয়। আরেকটি হল, বারুইপুর পশ্চিম। বারুইপুর বিধানসভা কেন্দ্র গঠিত হয়েছিল ১৯৫১ সালে। বারুইপুর ব্লকের ৯টি গ্রাম পঞ্চায়েত ও জয়নগর ১ ব্লকের ৬টি পঞ্চায়েত নিয়ে বারুইপুর পূর্ব কেন্দ্র।
আসন পুনর্বিন্যাসের আগে
অবিভক্ত বারুইপুর বিধানসভা কেন্দ্র ১৯৫২ সাল থেকে মোট ১৫টি বিধানসভা নির্বাচন দেখেছে। যার মধ্যে ১৯৯৮ সালের উপনির্বাচনও রয়েছে। এই কেন্দ্রে ভোটাররা বরাবরই মিশ্র রায় দিয়েছেন। ১৯৫২ ও ১৯৫৭ সালে এটি ছিল যুগ্ম আসন। ১৯৫২ সালে কংগ্রেস ও সিপিআই একটি ক...
বারুইপুর পূর্ব আসনটি তফশিলি জাতির জন্য সংরক্ষিত। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রটি যাদবপুর লোকসভার অন্তর্গত। অতীতে বারুইপুর একটি বিধানসভা কেন্দ্র ছিল। ২০০৮ সালে পুনর্বিন্যাসের পর বারুইপুর পূর্ব আসনটি গঠিত হয়। আরেকটি হল, বারুইপুর পশ্চিম। বারুইপুর বিধানসভা কেন্দ্র গঠিত হয়েছিল ১৯৫১ সালে। বারুইপুর ব্লকের ৯টি গ্রাম পঞ্চায়েত ও জয়নগর ১ ব্লকের ৬টি পঞ্চায়েত নিয়ে বারুইপুর পূর্ব কেন্দ্র।
আসন পুনর্বিন্যাসের আগে
অবিভক্ত বারুইপুর বিধানসভা কেন্দ্র ১৯৫২ সাল থেকে মোট ১৫টি বিধানসভা নির্বাচন দেখেছে। যার মধ্যে ১৯৯৮ সালের উপনির্বাচনও রয়েছে। এই কেন্দ্রে ভোটাররা বরাবরই মিশ্র রায় দিয়েছেন। ১৯৫২ ও ১৯৫৭ সালে এটি ছিল যুগ্ম আসন। ১৯৫২ সালে কংগ্রেস ও সিপিআই একটি করে আসন পায়, আর ১৯৫৭ সালে সিপিআই দু’টি আসনই জেতে। ১৯৬২ সালে একক আসনে পরিণত হওয়ার পর সিপিআই(এম) ছ’বার জয়লাভ করে (১৯৯৮ সালের উপনির্বাচন-সহ), কংগ্রেস চারবার, SUCI দু’বার এবং তৃণমূল কংগ্রেস একবার জয় পায়।
নয়া বিধানসভা তৈরির পরে তৃণমূলের দাপট
বারুইপুর পূর্ব গঠিত হওয়ার পর থেকেই এটি তৃণমূল কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এখনও পর্যন্ত তিনটি বিধানসভা নির্বাচনেই তৃণমূল জয় পেয়েছে। ২০১১ ও ২০১৬ সালে নিবার্চিত হন নির্মল মণ্ডল, তিনি যথাক্রমে সিপিআই(এম)-এর বিমল মিস্ত্রিকে ১৮,৪৭৯ ভোটে এবং সুজয় মিস্ত্রিকে ২০,৩৬২ ভোটে হারান। ২০২১ সালে কোভিডে নির্মল মণ্ডলের মৃত্যু হলে তৃণমূল প্রার্থী করে বিভাস সর্দারকে। তিনি বিজেপির চন্দন মণ্ডলকে ৪৯,৬৪১ ভোটে হারিয়ে আসনটি ধরে রাখেন।
২০২৪ সালে সেই লিড বেড়ে দাঁড়ায় ৪৮,৭৭৬ ভোটে
লোকসভা নির্বাচনের ফলেও বারুইপুর পূর্বে তৃণমূলের প্রাধান্য স্পষ্ট। ২০০৯ সালে সিপিআই(এম)-এর থেকে তৃণমূল এগিয়ে ছিল ১৬,৮১৭ ভোটে, ২০১৪ সালে ব্যবধান ছিল ৪,৫৯০ ভোট। ২০১৯ সালে বিজেপি সিপিআই(এম)-কে পিছনে ফেলে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে, তবুও তৃণমূল এগিয়ে থাকে ২৭,৫০৫ ভোটে। ২০২৪ সালে সেই লিড বেড়ে দাঁড়ায় ৪৮,৭৭৬ ভোটে।
ভোটদানের হারও বরাবরই বেশি
২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের খসড়া ভোটার তালিকা অনুযায়ী, বারুইপুর পূর্বে মোট ভোটার ২,৭২,৬০৪ জন, যা ২০২৪ সালের ২,৮৫,৪৫৬ থেকে কিছুটা কম। এর আগে ভোটার সংখ্যা ছিল ২০২১ সালে ২,৬৫,০৯১, ২০১৯ সালে ২,৪৫,৫০৭, ২০১৬ সালে ২,২২,৫৮৩ এবং ২০১১ সালে ১,৮৯,০২৩। এখানে তফসিলি জাতিভুক্ত ভোটার সবচেয়ে বড় অংশ, ৪৫.৬৬ শতাংশ SC সম্প্রদায়ের। মুসলিম ভোটার ৩২.১০ শতাংশ। কেন্দ্রটি মূলত গ্রামীণ, ৯০.৬৬ শতাংশ ভোটার গ্রামে এবং মাত্র ৯.৩৪ শতাংশ শহরাঞ্চলে বসবাস করেন। ভোটদানের হারও বরাবরই বেশি, ২০১১ সালে ৮৪.৮০%, ২০১৬ সালে ৮৬.৩০%, ২০১৯ সালে ৮৩.৪৭%, ২০২১ সালে ৮৪.৯৩% এবং ২০২৪ সালে ৭৮.৫৯%।
বারুইপুরের রয়েছে সমৃদ্ধ ঐতিহাসিক পরিচয়। একসময় এটি পুরনো কলকাতা–পূর্ববঙ্গ রেলপথের গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন ছিল। ব্রিটিশ আমলে নীলচাষের জন্য পরিচিত এই এলাকা পরে কৃষি ও স্থানীয় বাণিজ্যের কেন্দ্র হয়ে ওঠে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার সমতল পলিমাটির এই অঞ্চলের অর্থনীতি মূলত কৃষি, ছোট ব্যবসা ও পরিষেবা নির্ভর। বহু মানুষ কাজের সূত্রে কলকাতায় যাতায়াত করেন। রেল ও সড়ক যোগাযোগ যথেষ্ট ভাল। বারুইপুর জংশন শিয়ালদহ–ক্যানিং শাখায় অবস্থিত। বারুইপুর–ক্যানিং রোড ও স্টেট হাইওয়ে-১ এই অঞ্চলকে কলকাতা ও জেলার অন্যান্য অংশের সঙ্গে যুক্ত করেছে।
পার্শ্ববর্তী গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলির মধ্যে রয়েছে, কলকাতা (২৫ কিমি উত্তরে), বারাসত (৩৫ কিমি উত্তর-পূর্বে), ডায়মন্ড হারবার (৪০ কিমি দক্ষিণ-পশ্চিমে), ক্যানিং (৩০ কিমি দক্ষিণ-পূর্বে) ও সোনারপুর (১০ কিমি উত্তরে)। গত দু’টি নির্বাচনে তৃণমূল ও বিজেপির ভোটের ব্যবধান ছিল ২১ শতাংশেরও বেশি। অপ্রত্যাশিত কিছু না ঘটলে, ২০২৬ সালেও বারুইপুর পূর্ব তৃণমূল কংগ্রেসের হাতেই থাকবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
Chandan mondal
BJP
Swapan naskar
CPI(M)
Nota
NOTA
Snehasis saha
IND
Joydev naskar
SUCI
Sankar deb mondal
BSP
Chinmay naskar
IND
Sujoy mistry
CPM
Amulya kumar naskar
BJP
Ajay saha
SUCI
Nota
NOTA
Bimal krishna mondal
BSP
Chinmoy naskar
IND
Alok sardar
IND