
চাপড়া বিধানসভা কেন্দ্রটি নদিয়া জেলায় অবস্থিত। এটি কৃষ্ণনগর সদর মহকুমায় অবস্থিত একটি ব্লকস্তরের শহর। সেইসঙ্গে কৃষ্ণনগর লোকসভার অন্তর্গত সাতটি বিধানসভার মধ্যে একটি। ২০১০ সালের সীমানা নির্ধারণ কমিশনের আদেশ অনুসারে এই কেন্দ্র সমগ্র চাপড়া সম্প্রদায় উন্নয়ন ব্লককে নিয়ে গঠিত, যার মধ্যে ৭৭টি জনবসতিপূর্ণ গ্রাম রয়েছে।
১৯৬২ সালে গঠিত, চাপড়া আসনে ১৫টি নির্বাচন সংঘটিত হয়েছে। ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) আটবার জয়লাভ করেছে, ১৯৭৭ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত টানা সাতটি জয়ের ধারাবাহিকতা রয়েছে সিপিএমের। বাংলা কংগ্রেসও এখানে দু'বার জয়লাভ করেছে, অন্যদিকে সংযুক্ত বিপ্লবী পরিষদ এবং কংগ্রেস একবার করে জয় পয়েছে। ২০১১ সাল থেকে, তৃণমূল কংগ্রেস তিনবার আসনটিতে জয়ী হয়ে...
চাপড়া বিধানসভা কেন্দ্রটি নদিয়া জেলায় অবস্থিত। এটি কৃষ্ণনগর সদর মহকুমায় অবস্থিত একটি ব্লকস্তরের শহর। সেইসঙ্গে কৃষ্ণনগর লোকসভার অন্তর্গত সাতটি বিধানসভার মধ্যে একটি। ২০১০ সালের সীমানা নির্ধারণ কমিশনের আদেশ অনুসারে এই কেন্দ্র সমগ্র চাপড়া সম্প্রদায় উন্নয়ন ব্লককে নিয়ে গঠিত, যার মধ্যে ৭৭টি জনবসতিপূর্ণ গ্রাম রয়েছে।
১৯৬২ সালে গঠিত, চাপড়া আসনে ১৫টি নির্বাচন সংঘটিত হয়েছে। ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) আটবার জয়লাভ করেছে, ১৯৭৭ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত টানা সাতটি জয়ের ধারাবাহিকতা রয়েছে সিপিএমের। বাংলা কংগ্রেসও এখানে দু'বার জয়লাভ করেছে, অন্যদিকে সংযুক্ত বিপ্লবী পরিষদ এবং কংগ্রেস একবার করে জয় পয়েছে। ২০১১ সাল থেকে, তৃণমূল কংগ্রেস তিনবার আসনটিতে জয়ী হয়েছে। তৃণমূল রুকবানুর রহমানকে তাদের প্রার্থী হিসেবে বেছে নেয়। ২০০১ এবং ২০০৬ সালের জয়ী সিপিআই(এম) প্রার্থী শামসুল ইসলাম মোল্লাকে রহমান এরপর ২০১১ সালে ২,৬৩৩ ভোটে এবং ২০১৬ সালে ১৩,৪৬৩ ভোটে পরাজিত করেন। ২০২১ সালে, রহমান স্বতন্ত্র প্রার্থী জাবের শেখকে ১২,১১৮ ভোটে পরাজিত করেন, বিজেপি এইসময় তৃতীয় স্থানে আসে এবং সিপিআই(এম) চতুর্থ স্থানে নেমে যায়। জনসংখ্যাগত বাধা সত্ত্বেও, বিজেপি এই আসনে বৃদ্ধি দেখিয়েছে, ২০১১ সালে ভোটের ভাগ ৪.৩১ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০১৬ সালে ৭.৯৫ শতাংশ এবং ২০২১ সালে ২৭.২৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
লোকসভার ফলাফল এই প্রবণতাগুলিকেই প্রতিফলিত করছে। গত চারটি সংসদীয় নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে রয়েছে, যেখানে ২০১৯ সাল থেকে বিজেপি সিপিআই(এম)-কে পেছনে ফেলে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এসেছে। ২০০৯ সালে তৃণমূল সিপিআই(এম)-কে ১২,২৪৮ ভোট এবং ২০১৪ সালে ১,৪৮২ ভোটে হারিয়েছিল। ২০১৯ সালে তাদের লিড ৪৯,৩৭২-এ পৌঁছে যায় কারণ সিপিআই(এম) বিজেপির পরে তৃতীয় স্থানে নেমে যায়। ২০২৪ সালে তৃণমূলের লিড আরও বেড়ে ৫৬,৮৭৫ ভোট দাঁড়িয়েছে। তৃণমূলের এই বিশাল লিডের জন্য সিপিআই(এম)-এর পতনকে দায়ী করা যেতে পারে, যার ভোট ভাগ ২০১৯ সালে ১০.৫০ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ১২.৩৭ শতাংশে নেমে আসে, যেখানে বিজেপি ২৮.৬০ শতাংশ এবং ২৭.৯৫ শতাংশ ভোট পেয়েছিল।
২০২৪ সালে চাপড়ায় ২,৫৮,৮২১ জন রেজিস্ট্রেড ভোটার ছিলেন। ২০২১ সালে সংখ্যাটা ছিল ২,৪৮,০১৪ জন এবং ২০১৯ সালে ২,৩৬,৫৫৮ জন। বিজেপি এইআসনে জনসংখ্যাগত সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি, যেখানে ৪৯ শতাংশ মুসলিম ভোটার রয়েছে, তফসিলি জাতি রয়েছে ১৩.৪০ শতাংশ। ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে, চাপড়ার জনসংখ্যার ৫৯.৭২ শতাংশ ছিল মুসলিম এবং ৩৭.১৫ শতাংশ ছিল হিন্দু। বাংলাদেশ সীমান্তের কাছাকাছি হওয়ায় এই এলাকা মুসলিম অধ্যুষিত। ভোটদানের হার এখানে ভাল, ২০১১ সালে ৮৭.৯৫ শতাংশ ভোট পড়ে। তবে ২০২৪ সালে তা কমে ৭৮.৩৫ শতাংশে দাঁড়ায়। ২০১৬ সালে ভোটদানের হার ছিল ৮৫.২৫ শতাংশ, ২০১৯ সালে ৮২.২২ শতাংশ এবং ২০২১ সালে ৮৬.১১ শতাংশ।
চাপড়া গঙ্গা এবং এর উপনদীগুলির পলিমাটি দ্বারা তৈরি সমভূমিতে অবস্থিত, যার বেশিরভাগই সমতল ভূখণ্ড এবং কৃষিকাজের জন্য উপযুক্ত উর্বর মাটি। ধান, গম এবং পাট হল প্রধান ফসল এবং ছোট সেচ খালগুলি ব্লকগুলির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত। জলঙ্গি নদী এই এলাকার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, যা কৃষিকাজ এবং দৈনন্দিন জীবনের জন্য জল সরবরাহ করে। চাপড়ার পরিকাঠামোতে পানীয় জল, বিদ্যুৎ, গ্রামীণ রাস্তা এবং মোবাইল সংযোগের মতো মৌলিক সুযোগ-সুবিধা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। স্থানীয় বাজার এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলি শহরবাসী এবং গ্রামবাসীদের পরিষেবা প্রদান করে।
চাপড়া জেলা সদর কৃষ্ণনগর থেকে ১৬ কিমি উত্তরে এবং রাজ্যের রাজধানী কলকাতা থেকে প্রায় ১১০ কিমি উত্তরে অবস্থিত। কাছাকাছি শহরগুলির মধ্যে চাপড়া থেকে ৩৯ কিমি দূরে অবস্থিত পলাশিপাড়া, প্রায় ২৫ কিমি দূরে নাকাশিপাড়া এবং মাত্র ১৬ কিমি দক্ষিণে রয়েছে জেলা সদর কৃষ্ণনগর। মুর্শিদাবাদ শহরটি ৭৮ কিমি দূরে, অন্যদিকে উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাত প্রায় ১২০ কিমি দূরে অবস্থিত। চাপড়া থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সীমান্ত সড়কপথে প্রায় ১০৫ কিমি দূরে।
২০০৯ সাল থেকে, তৃণমূল কংগ্রেস এখানে সাতটি নির্বাচনেই জয়লাভ করেছে, যা তাদেরকে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীদের থেকে অনেক এগিয়ে রেখেছে। মুসলিম ভোটার বেশি থাকায় বিজেপির পক্ষে এই আসনে জয় ছিনিয়ে আনা অনেকটাই কঠিন। ভোটদানের ধরণে বড় পরিবর্তন না হলে বা মুসলিম ভোটে বিভাজন না হলে, চাপড়া আসন থেকে তৃণমূল কংগ্রেসকে ক্ষমতাচ্যুত করা ২০২৬ সালে প্রায় অসম্ভব।
Jeber sekh
IND
Kalyan kumar nandi
BJP
Jahangir biswas (raju)
CPI(M)
Kanchan maitra
RSSCMJP
Nota
NOTA
Rokibul hossain molla
BSP
Mozammel hossain mondal
SUCI
Shamsul islam mollah
CPM
Sutirtha chakraborty(chuni)
BJP
Samaresh biswas
SHS
Nota
NOTA
Dhananjay ganguly
CPI(ML)(L)