
দীর্ঘ বাম শাসনের পর তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি। ভোটার তালিকা সংশোধনের পরও কি সেই প্রভাব অটুট থাকবে? না কি সমীকরণ বদলাবে? সেই প্রশ্ন ঘুরছে মগরাহাট পূর্বের ভোটারদের মনে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ডায়মন্ড হারবার মহকুমার অন্তর্গত মগরাহাট পূর্ব একটি তফসিলি জাতি সংরক্ষিত বিধানসভা কেন্দ্র। পুরো মগরাহাট–২ কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লক, যার মধ্যে মগরাহাট শহর এবং ১৪টি গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত ৭৮টি বসতিপূর্ণ গ্রাম রয়েছে। সবক'টিই এই কেন্দ্রের অন্তর্ভুক্ত। ফলে জনসংখ্যার গঠনে বৈচিত্র্য থাকলেও চরিত্র মূলত গ্রামীণ। এটি জয়নগর লোকসভা কেন্দ্রের সাতটি বিধানসভা অংশের একটি। দীর্ঘ সময় ধরে এটি সিপিআই(এম)-এর শক্ত ঘাঁটি ছিল। সময়ের সঙ্গে তা তৃণমূল কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে।
মগরাহাট বিধানসভা...
দীর্ঘ বাম শাসনের পর তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি। ভোটার তালিকা সংশোধনের পরও কি সেই প্রভাব অটুট থাকবে? না কি সমীকরণ বদলাবে? সেই প্রশ্ন ঘুরছে মগরাহাট পূর্বের ভোটারদের মনে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ডায়মন্ড হারবার মহকুমার অন্তর্গত মগরাহাট পূর্ব একটি তফসিলি জাতি সংরক্ষিত বিধানসভা কেন্দ্র। পুরো মগরাহাট–২ কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লক, যার মধ্যে মগরাহাট শহর এবং ১৪টি গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত ৭৮টি বসতিপূর্ণ গ্রাম রয়েছে। সবক'টিই এই কেন্দ্রের অন্তর্ভুক্ত। ফলে জনসংখ্যার গঠনে বৈচিত্র্য থাকলেও চরিত্র মূলত গ্রামীণ। এটি জয়নগর লোকসভা কেন্দ্রের সাতটি বিধানসভা অংশের একটি। দীর্ঘ সময় ধরে এটি সিপিআই(এম)-এর শক্ত ঘাঁটি ছিল। সময়ের সঙ্গে তা তৃণমূল কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে।
মগরাহাট বিধানসভা কেন্দ্র প্রথম গঠিত হয় ১৯৫১ সালে দ্বি-আসন কেন্দ্র হিসেবে। ১৯৫২ এবং ১৯৫৭ সালের নির্বাচনে কংগ্রেস উভয় আসনে জয়ী হয়। ১৯৬২ সালে এটি ভাগ হয়ে মগরাহাট পশ্চিম সাধারণ আসন এবং মগরাহাট পূর্ব তফসিলি জাতি সংরক্ষিত আসন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। অস্তিত্বে আসার পর থেকে মগরাহাট পূর্বে ১৫টি বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে। এর মধ্যে সিপিআই(এম) ১০ বার জয় পেয়েছে, যার মধ্যে ১৯৭৭ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত টানা সাতবার জয় রয়েছে। কংগ্রেস দু’বার জয়ী হয়েছে। শেষ তিনটি নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস অপরাজিত রয়েছে।
সিপিআই(এম)-এর কাছ থেকে আসনটি ছিনিয়ে নিতে তৃণমূল কংগ্রেসকে দীর্ঘ সময় লড়াই করতে হয়েছে। ২০০১ ও ২০০৬ সালে সিপিআই(এম)-এর কাছে পরাজয়ের মুখ দেখতে হয়। নমিতা সাহাকে প্রার্থী করে দল লড়াই চালিয়ে যায়। তিনি ১৯৯৬ সালে কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবেও একবার পরাজিত হয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত ২০১১ সালে সিপিআই(এম)-এর চন্দন সাহাকে ৮,৮০৩ ভোটে হারিয়ে জয় পান। ২০১৬ সালে একই প্রতিদ্বন্দ্বীকে ৯,৫৬০ ভোটে হারিয়ে দ্বিতীয়বার জয়ী হন। ২০২১ সালে তাঁর জয়ের ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ায় ৫৪,০৭৯ ভোট। সে বার বিজেপির চন্দন কুমার নস্কর দ্বিতীয় হন এবং সিপিআই(এম) তৃতীয় স্থানে নেমে যায়। উল্লেখযোগ্য, তিনটি দলই এই তিন নির্বাচনে একই নেতাদের প্রার্থী করেছে।
লোকসভা নির্বাচনের ফলেও তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাধান্য স্পষ্ট। ২০০৯ সালে এই অংশে সোশ্যালিস্ট ইউনিটি সেন্টার অফ ইন্ডিয়া (কমিউনিস্ট) বিপ্লবী সমাজবাদী পার্টির থেকে ১৯,১৯৯ ভোটে এগিয়ে ছিল। সেটিই একমাত্র নির্বাচন যেখানে তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে ছিল না। ২০১৪ সালে তৃণমূল আরএসপির থেকে ১৫,০৮২ ভোটে এগিয়ে যায়। বিজেপি প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠার পরে এই ব্যবধান আরও বাড়ে— ২০১৯ সালে ৩৭,৬৪৪ ভোট এবং ২০২৪ সালে ৪৬,৮৭১ ভোটে এগিয়ে থাকে তৃণমূল।
২০২৫ সালের এসআইআর প্রক্রিয়ার পরে ভোটার সংখ্যা ১৪,১২৯ কমেছে। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারির খসড়া তালিকায় ভোটার সংখ্যা ২,৩৭,৮০৮। ২০২৪ সালে ছিল ২,৫১,৯৩৭, ২০২১ সালে ২,৪২,৫৩০, ২০১৯ সালে ২,২৮,৬১২, ২০১৬ সালে ২,১২,০১৯ এবং ২০১১ সালে ১,৭৭,৫৫৪। যদিও আসনটি তফসিলি জাতির জন্য সংরক্ষিত, মুসলিম ভোটার সংখ্যায় এগিয়ে। তফসিলি জাতি ভোটার ৩৪.৬১ শতাংশ, মুসলিম ভোটার ৪৪.৯০ শতাংশ। ৭১.৭০ শতাংশ ভোটার গ্রামে বাস করেন এবং ২৮.৩০ শতাংশ শহরে। ভোটদানের হারও উচ্চ— ২০১১ সালে ৮৫.৩০ শতাংশ, ২০১৬ সালে ৮৬.৭২ শতাংশ, ২০১৯ সালে ৮২.৫১ শতাংশ এবং ২০২১ সালে ৮৫.৩০ শতাংশ।
ভূপ্রকৃতির দিক থেকে মগরাহাট পূর্ব দক্ষিণ ২৪ পরগনার দক্ষিণাংশে নিম্ন গঙ্গা বদ্বীপের সমতল পলিমাটির অঞ্চলে অবস্থিত। জমি নিচু এবং উর্বর। জোয়ার-ভাটার প্রভাবে কিছু এলাকায় নোনা জল প্রবেশের সমস্যা দেখা যায়। পশ্চিমে হুগলি নদী এবং পূর্ব দিকে মাতলা ও বিদ্যাধরী নদী প্রবাহিত। অসংখ্য খাল ও নিকাশি ব্যবস্থা কৃষিকে সহায়তা করে।
ধান, সবজি, পানপাতা, আলু ও কিছু অর্থকরী ফসল প্রধান উৎপাদন। পুকুর ও খালে মৎস্যচাষও গুরুত্বপূর্ণ। ছোট ব্যবসা এবং কলকাতায় যাতায়াত করে কাজ করাও আয়ের উৎস। গ্রাম ও শহরে বিদ্যুৎ, পানীয় জল ও বাজার রয়েছে। রাজ্য ও জেলা সড়কের মাধ্যমে যোগাযোগ ভালো। শিয়ালদহ–লক্ষ্মীকান্তপুর লাইনে মগরাহাট রেলস্টেশন রয়েছে, যেখান থেকে শিয়ালদহ ও কলকাতায় নিয়মিত ট্রেন চলাচল করে।
ডায়মন্ড হারবার ১৫–২০ কিলোমিটার, বারুইপুর ২৫–৩০ কিলোমিটার, জয়নগর ৪০–৪৫ কিলোমিটার, ক্যানিং ৩৫ কিলোমিটার, বজবজ ৩০ কিলোমিটার, মহেশতলা ২০ কিলোমিটার এবং কলকাতা ৪০–৫০ কিলোমিটার দূরে। এসপ্ল্যানেড প্রায় ৪৫ কিলোমিটার। জেলার অন্য শহরগুলির মধ্যে রয়েছে ফলতা ও কাকদ্বীপ। হাওড়া জেলার উলুবেড়িয়া প্রায় ৫০ কিলোমিটার পশ্চিমে।
খসড়া ভোটার তালিকা থেকে ১৪,১২৯ নাম বাদ পড়েছে। ভোটে তার প্রভাব পড়তে পারে। তৃণমূল কংগ্রেস নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে মুসলিম ভোটারদের টার্গেট করার অভিযোগ তুলেছে। তবে চূড়ান্ত তালিকায় বড় পরিবর্তন না হলেও গত তিন নির্বাচনে বড় ব্যবধানের কারণে ফলাফলে বড় প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা কম। অপ্রত্যাশিত কিছু না ঘটলে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মগরাহাট পূর্বে তৃণমূল কংগ্রেসের জয়ের সম্ভাবনা প্রবল। তবে এসআইআর ও শাসকবিরোধী মনোভাব কাজ করলে সেক্ষেত্রে জয়ের ব্যবধান কমতে পারে।
Chandan kumar naskar
BJP
Chandan saha
CPI(M)
Nota
NOTA
Sanjay mandal
SUCI
Sudipta sanfui
IND
Somnath sarkar
IND
Biswajit biswas
IND
Chandan saha
CPM
Chandan kumar naskar
BJP
Nota
NOTA
Rabiram naskar
BSP
Sanjay mandal
SUCI
Pitam mondal
IND