
হুগলি নদীর পূর্ব তীরে থাকা উত্তর ২৪ পরগনার শহর হল নৈহাটি। এটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্মভূমি হিসেবে প্রসিদ্ধ। তিনি ভারতের জাতীয় সংগীত বন্দে মাতরম রচনা করেছিলেন। নৈহাটি একটি জেনারেল ক্যাটাগরির বিধানসভা কেন্দ্র। যার অস্তিত্ব ১৯৫১ সাল থেকে, এবং এটি ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের একটি অংশ। নৈহাটি পুরসভা ও ব্যারাকপুর–১ ব্লকের চারটি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে এই কেন্দ্র গঠিত। দীর্ঘদিন ধরে এখানে কংগ্রেস ও বামফ্রন্টের মধ্যে রাজনৈতিক আনুগত্য বদলালেও, তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির উত্থানে সেই দুই দল এখন প্রান্তিক অবস্থানে।
নৈহাটিতে এখন পর্যন্ত ১৮টি বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে, এর মধ্যে ২০২৪ সালের উপনির্বাচনও রয়েছে। বামফ্রন্ট ৯ বার জয়লাভ করেছে (এর মধ্যে সিপিএম ৭ বার এবং অবিভক...
হুগলি নদীর পূর্ব তীরে থাকা উত্তর ২৪ পরগনার শহর হল নৈহাটি। এটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্মভূমি হিসেবে প্রসিদ্ধ। তিনি ভারতের জাতীয় সংগীত বন্দে মাতরম রচনা করেছিলেন। নৈহাটি একটি জেনারেল ক্যাটাগরির বিধানসভা কেন্দ্র। যার অস্তিত্ব ১৯৫১ সাল থেকে, এবং এটি ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের একটি অংশ। নৈহাটি পুরসভা ও ব্যারাকপুর–১ ব্লকের চারটি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে এই কেন্দ্র গঠিত। দীর্ঘদিন ধরে এখানে কংগ্রেস ও বামফ্রন্টের মধ্যে রাজনৈতিক আনুগত্য বদলালেও, তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির উত্থানে সেই দুই দল এখন প্রান্তিক অবস্থানে।
নৈহাটিতে এখন পর্যন্ত ১৮টি বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে, এর মধ্যে ২০২৪ সালের উপনির্বাচনও রয়েছে। বামফ্রন্ট ৯ বার জয়লাভ করেছে (এর মধ্যে সিপিএম ৭ বার এবং অবিভক্ত সিপিআই ২ বার)। কংগ্রেস বামেদের আধিপত্য ভেঙে ৫ বার জিতেছে। ২০১১ সালের পর থেকে প্রতিটি নির্বাচনেই তৃণমূল কংগ্রেস জয়ী হয়েছে, ২০২৪ সালের উপনির্বাচনও এই লিস্টে রয়েছে। ওই উপনির্বাচনটি হয়েছিল তৃণমূলের তিনবারের বিধায়ক পার্থ ভৌমিক লোকসভায় নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁর বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফার কারণে।
জনপ্রিয় থিয়েটার শিল্পী পার্থ ভৌমিক ২০১১ সালে নৈহাটিতে তৃণমূলের প্রথম জয় এনে দেন। তিনি সিপিএম নেতা রঞ্জিত কুণ্ডুর টানা তিনবারের জয়ের ধারা ভেঙে ২৭,৪৭০ ভোটে জয়ী হন। এর আগে ২০০১ ও ২০০৬ সালে তৃণমূল বড় ব্যবধানে হেরেছিল। ২০১৬ সালে সিপিএম রঞ্জিত কুণ্ডুর বদলে গার্গী চট্টোপাধ্যায়কে প্রার্থী করলে ভৌমিকের জয়ের ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ায় ২৮,৬২৮। ২০২১ সালে তিনি হ্যাটট্রিক করেন, যদিও ব্যবধান কমে ১৮,৮৫৫ হয়। ওই নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী ফাল্গুনী পাত্র সিপিএমকে ছাপিয়ে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে আসে। ২০২৪ সালে পার্থ ভৌমিক ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়। এরপর উপনির্বাচনে তৃণমূলের সনৎ দে বিজেপির রূপক মিত্রকে ৪৯,২৭৭ ভোটে পরাজিত করেন।
শেষ চারটি লোকসভা নির্বাচনের মধ্যে তিনটিতেই নৈহাটি অংশে তৃণমূল এগিয়ে থাকলেও, এই অবস্থান চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ২০০৯ সালে সিপিএমের বিরুদ্ধে তৃণমূলের লিড ছিল মাত্র ২,৩২৮ ভোট। ২০১৪ সালে সেই লিড বেড়ে দাঁড়ায় ৩,৪১,৩২১। কিন্তু ২০১৯ সালে বিজেপি ১,২২৬ ভোটে এগিয়ে যায়। ২০২৪ সালে তৃণমূল আবার বিজেপির বিরুদ্ধে ১৫,৫১৮ ভোটের লিড ফেরত পায়।
২০২৬ সালের নির্বাচনের খসড়া ভোটার তালিকায় নৈহাটিতে ভোটার সংখ্যা ছিল ১,৯৮,৭৩২ জন। ২০২৪ সালে ১,৯৫,১০৫ জন। এর আগে ২০২১ সালে ছিল ১,৯৩,৯৩০ জন, ২০১৯ সালে ১,৮৭,৯৩১ জন ২০১৬ সালে ১,৮০,৯২৩ জন এবং ২০১১ সালে ১,৫৩,৫২২ জন। তফসিলি জাতির ভোটার ১৫.০৯ শতাংশ, তফসিলি উপজাতি ১.৯৭ শতাংশ এবং মুসলিম ভোটার ১০.৩০ শতাংশ। কেন্দ্রটি মূলত শহুরে—৮৮.২৬ শতাংশ ভোটার পুরসভা এলাকায় এবং ১৩.৭৪ শতাংশ গ্রামে বসবাস করেন।
নৈহাটির ইতিহাস জড়িয়ে আছে হুগলি নদী তীরবর্তী পাটশিল্পের উত্থানের সঙ্গে। উনিশ শতকের শেষ ভাগে সস্তা শ্রম, কয়লা ও বন্দরের সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে নদীর ধারে পাটকল গড়ে ওঠে। কাশীপুর থেকে নৈহাটি পর্যন্ত শিল্পাঞ্চলে ১৮৯০-এর দশকে প্রবল শ্রমিক আন্দোলন ও অস্থিরতা দেখা যায়। এই প্রাথমিক শিল্পায়ন নৈহাটির শ্রমজীবী সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্বকে বিশ শতক জুড়ে প্রভাবিত করেছে। পাটশিল্পের বিশ্বব্যাপী উত্থান নৈহাটিকে কৃষিভিত্তিক গ্রামাঞ্চল ও কারখানা-নির্ভর শহরের সংযোগস্থলে পরিণত করে।
ভৌগোলিকভাবে নৈহাটি সমতল পলিমাটি অঞ্চলে অবস্থিত এবং ঘনবসতিপূর্ণ শহর। অর্থনীতি মূলত পাটকল, সহায়ক ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প ও ছোট উৎপাদন শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। ঐতিহাসিকভাবে স্থানীয় বাঙালিরা কৃষি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায় ঝুঁকতেন, আর বিহার, উত্তরপ্রদেশ ও ওড়িশা থেকে আসা পরিযায়ী শ্রমিকরা কলোনি ও মিল লাইনে বসতি গড়ে তোলে। এই অ-বাঙালি পাড়া-মহল্লাগুলি নৈহাটির সংস্কৃতি ও ভোটের আচরণে স্পষ্ট প্রভাব ফেলেছে। শ্রম ও সাম্প্রদায়িক টানাপোড়েন আজও রাজনৈতিক সমীকরণে প্রতিফলিত হয়।
পরিকাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থা শক্তিশালী। নৈহাটি জংশন শিয়ালদহ মেইন লাইনে অবস্থিত, ব্যারাকপুর ও শিয়ালদহের সঙ্গে ঘন ঘন লোকাল ট্রেন চলাচল করে। ব্যারাকপুর ট্রাঙ্ক রোড ও কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে সড়ক যোগাযোগ, আর হুগলি পেরিয়ে চুঁচুড়া ও অন্যান্য ঘাটে ফেরি পরিষেবা রয়েছে।
কলকাতার এসপ্ল্যানেড প্রায় ৩০ কিমি দক্ষিণে, হাওড়া ৩২ কিমি দক্ষিণ-পশ্চিমে, শিয়ালদহ ২৮ কিমি দক্ষিণে, দমদম বিমানবন্দর ২০ কিমি দক্ষিণে, বারাসত ২৫ কিমি দক্ষিণ-পূর্বে, ব্যারাকপুর ১০ কিমি দক্ষিণে এবং চুঁচুড়া নদীর ওপারে ১০ কিমি পশ্চিমে অবস্থিত।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন কার্যত দ্বিমুখী লড়াই হতে চলেছে। তৃণমূলের একমাত্র চ্যালেঞ্জার হিসেবে বিজেপি মাঠে থাকবে। কারণ বাম-কংগ্রেস জোট ক্রমশ প্রান্তিক অবস্থায় পৌঁছেছে। বিজেপি তফসিলি জাতির ভোটার ও পাটকল এলাকায় বসবাসকারী অ-বাঙালি ভোটারদের দিকে নজর দেবে এবং হিন্দু ভোট একত্র করার চেষ্টা করবে। অন্যদিকে, শক্ত সংগঠন ও টানা চারবারের বিধানসভা জয়ের সুবাদে তৃণমূল এখানে স্পষ্ট সুবিধাজনক অবস্থানে। তবে ২০১৯ সালের লোকসভা লিড ও ২০২১ সালে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিজেপির উত্থান দেখায় যে লড়াই এখনও চলবে। শহুরে ওয়ার্ডগুলিতে ভোটদানের হার এবং পরিযায়ী শ্রমিক পরিবারগুলির ভোটের দোলাচলই শেষ পর্যন্ত ফল নির্ধারণ করবে। অর্থাৎ নৈহাটি এমন একটি শহর, যেখানে সামান্য ভোটের হেরফেরেই ফল উল্টে যেতে পারে।
Phalguni patra
BJP
Indrani kundu mukherjee
CPI(M)
Nota
NOTA
Kanai das
IND
Pabitra roy
BSP
Gargi chatterjee
CPM
Phalguni patra
BJP
Nota
NOTA
Subrata dhak
IND
Sarit chakraborty (babli)
CPI(ML)(L)
Haripada biswas
BSP
Raghunath mandi
IND
Ananda sarkar
IND