
কালীগঞ্জ নদিয়া জেলার কৃষ্ণনগর সদর মহকুমার একটি ব্লক-স্তরের শহর এবং একটি সাধারণ বিভাগের বিধানসভা আসন। এই কেন্দ্রটি কালিগঞ্জ কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লকের আওতাধীন ১৩টি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত। এবং কৃষ্ণনগর লোকসভা আসনের সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের একটি।
১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে কালীগঞ্জে মোট ১৮ বার নির্বাচন হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ২০২৫ সালের উপনির্বাচন। প্রথম কয়েক দশকজুড়ে কংগ্রেস এই এলাকায় ১২টি নির্বাচনের মধ্যে ৯টিতে জয় পায়। এবং ২০১৬ সালে আবারও স্বল্প ব্যবধানে ফিরে আসে। তাদের মোট জয়ের সংখ্যা এখন ১০। বিপ্লবী সমাজতান্ত্রিক পার্টি (আরএসপি) চারবার জয়ী হয়েছে। ১৯৭৭ ও ১৯৮২ সালে টানা দু’বার এবং পরে
২০০১ ও ২০০৬ সালে। ১৯৭১ সালে একবার একজন নির্দল প্...
কালীগঞ্জ নদিয়া জেলার কৃষ্ণনগর সদর মহকুমার একটি ব্লক-স্তরের শহর এবং একটি সাধারণ বিভাগের বিধানসভা আসন। এই কেন্দ্রটি কালিগঞ্জ কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লকের আওতাধীন ১৩টি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত। এবং কৃষ্ণনগর লোকসভা আসনের সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের একটি।
১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে কালীগঞ্জে মোট ১৮ বার নির্বাচন হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ২০২৫ সালের উপনির্বাচন। প্রথম কয়েক দশকজুড়ে কংগ্রেস এই এলাকায় ১২টি নির্বাচনের মধ্যে ৯টিতে জয় পায়। এবং ২০১৬ সালে আবারও স্বল্প ব্যবধানে ফিরে আসে। তাদের মোট জয়ের সংখ্যা এখন ১০। বিপ্লবী সমাজতান্ত্রিক পার্টি (আরএসপি) চারবার জয়ী হয়েছে। ১৯৭৭ ও ১৯৮২ সালে টানা দু’বার এবং পরে
২০০১ ও ২০০৬ সালে। ১৯৭১ সালে একবার একজন নির্দল প্রার্থী জয় লাভ করেন।
গত এক দশকে তৃণমূল কংগ্রেস কালীগঞ্জে প্রধান শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে। তারা তিনবার আসনটি দখল করেছে। ২০২১ সালের জয়, এরপর ২০২৫ সালের উপনির্বাচনসহ। ২০২৪ সালে তৎকালীন বিধায়ক নাসিরুদ্দিন আহমেদের মৃত্যুর পর উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে তাঁর মেয়ে আলিফা আহমেদ ৫০,০৪৯ ভোটে জয় পান। যা নাসিরুদ্দিনের ২০২১ সালের জয়ের (৪৬,৯৮৭) থেকেও বেশি ব্যবধান। উভয় ক্ষেত্রেই বিজেপির অভিজিৎ ঘোষ দ্বিতীয় স্থানে থাকেন। আর কংগ্রেস-বামফ্রন্ট জোটের অংশ হিসেবে লড়াই করা সত্ত্বেও তৃতীয় স্থানে নেমে যায়। ফলে কালিগঞ্জে প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে বিজেপির উত্থান স্পষ্ট হলেও, তৃণমূলের সঙ্গে তাদের ব্যবধান এখনও অনেকটাই।
লোকসভা ফলাফলেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। ২০২৪ সালে কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র কালিগঞ্জ এলাকায় ৩০,৭৭৩ ভোটে এগিয়ে ছিলেন। ২০১৯ সালের ৩৭,২২৮ ভোটের তুলনায় কিছুটা কম হলেও, তৃণমূলের শক্ত অবস্থান অটুট থাকে। বিজেপি আবারও দ্বিতীয় অবস্থান ধরে রাখে। তবে ব্যবধান কমাতে এখনও বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
হিন্দু দেবী কালীর নামে নামকরণ হলেও কালিগঞ্জ মূলত মুসলিম-প্রধান এলাকা। ২০২১ সালে নিবন্ধিত ভোটার সংখ্যা ছিল ২,৪৮,৩৫৮। ২০১৬ থেকে ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী মুসলিম ভোটারের অনুপাত প্রায় ৫৪ শতাংশ, তফসিলি জাতি ১৪.৪৩ শতাংশ। এলাকা অধিকাংশই গ্রামীণ। মাত্র ৯.৩৩ শতাংশ শহরাঞ্চল, কিন্তু ভোটদানের হার অত্যন্ত উঁচু, বহুবারই ৮০ শতাংশ
ছাড়িয়ে গেছে।
ভূগোলের দিক থেকে কালিগঞ্জ নদিয়া জেলার উর্বর পলিমাটি সমভূমিতে অবস্থিত, জলঙ্গী ও ভাগীরথীর মতো নদীবেষ্টিত এক কৃষিপ্রধান অঞ্চল। সমতল ভূমি, কালো এঁটেল মাটি (স্থানীয়ভাবে কালান্তর) এবং নদীপলির কারণে ধান, পাট ও সরিষা এখানে প্রধান ফসল। বড় শিল্প না থাকায় অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর।
জেলা সদর কৃষ্ণনগর থেকে প্রায় ৫৩ কিলোমিটার উত্তরে কালিগঞ্জ; উত্তরে মুর্শিদাবাদ, পশ্চিমে বর্ধমান এবং পূর্বে বাংলাদেশের সীমান্ত। যা একে একটি সংবেদনশীল সীমান্ত অঞ্চলের চরিত্র দেয়। নিকটবর্তী নগরগুলির মধ্যে রয়েছে দেবগ্রাম (১০ কিমি), জুরানপুর (৬ কিমি) এবং বহরমপুর (৪০ কিমি)। কলকাতা প্রায় ১৭০ কিলোমিটার দূরে, এবং সড়ক ও রেল, উভয় পথেই সহজ যোগাযোগ রয়েছে।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক সমীকরণ বলছে, বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসের ক্রমাগত পতনের ফলে তৃণমূল কংগ্রেস কালিগঞ্জে বেশ স্বচ্ছন্দ অবস্থানে। বিজেপি ধীরে ধীরে জমি তৈরি করলেও এখনও তৃণমূলের জন্য বড় কোনও হুমকি হয়ে ওঠেনি। ভোটারদের পছন্দে নাটকীয় পরিবর্তন না এলে কালিগঞ্জে তৃণমূলের সামনে খুব বেশি প্রতিরোধের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।
Abhijit ghosh
BJP
Abul kashem
INC
Nota
NOTA
Abhijit ghosh
IND
Sujata mandal
BSP
Jayanta das
BNARP
Mohiuddin mondal
SUCI
Kabil uddin shaikh
IND
Ahamed nasiruddin (lal)
AITC
Saikat sarkar
BJP
Nota
NOTA
Harroj ali shaikh
SUCI
Biplab roy
SHS
Altaf hossain sekh
CPI(ML)(L)
Sunil mandal
BSP
Swapan modak
SP