
হাওড়া জেলার শহর ডোমজুড়। এই অসংরক্ষিত বিধানসভা কেন্দ্রটির ইতিহাস বলে, দীর্ঘ কয়েক দশক বামপন্থীদের দুর্গ ছিল। আজ সেটাই পরিচিত তৃণমূল কংগ্রেসের খাসতালুক হিসেবে। শ্রীরামপুর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ডোমজুড় বিধানসভা এলাকা। বালি জগাছা সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকের পুরোটা এবং ডোমজুড় ব্লকের সাতটি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে এই কেন্দ্রটি গঠিত। নাম বা ভৌগোলিক বিন্যাস দেখে যে কেউ এই কেন্দ্রটিকে গ্রামীণ আসন বলে ভুল করতে পারেন! কিন্তু আদতে এটি একটি শহুরে নির্বাচনী ক্ষেত্র, যার অবস্থান হাওড়া ও কলকাতা শহরের একেবারেই গায়ে।
১৯৫১ সালে তৈরি হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের ১৭টি বিধানসভা নির্বাচনের সবকটিতেই অংশ নিয়েছে ডোমজুড়। শুরুর তিনটি ভোটে জিতেছিল অবিভক্ত ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিআই)।...
হাওড়া জেলার শহর ডোমজুড়। এই অসংরক্ষিত বিধানসভা কেন্দ্রটির ইতিহাস বলে, দীর্ঘ কয়েক দশক বামপন্থীদের দুর্গ ছিল। আজ সেটাই পরিচিত তৃণমূল কংগ্রেসের খাসতালুক হিসেবে। শ্রীরামপুর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ডোমজুড় বিধানসভা এলাকা। বালি জগাছা সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকের পুরোটা এবং ডোমজুড় ব্লকের সাতটি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে এই কেন্দ্রটি গঠিত। নাম বা ভৌগোলিক বিন্যাস দেখে যে কেউ এই কেন্দ্রটিকে গ্রামীণ আসন বলে ভুল করতে পারেন! কিন্তু আদতে এটি একটি শহুরে নির্বাচনী ক্ষেত্র, যার অবস্থান হাওড়া ও কলকাতা শহরের একেবারেই গায়ে।
১৯৫১ সালে তৈরি হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের ১৭টি বিধানসভা নির্বাচনের সবকটিতেই অংশ নিয়েছে ডোমজুড়। শুরুর তিনটি ভোটে জিতেছিল অবিভক্ত ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিআই)। এরপরই ব্যাটন হাতে নেয় সিপিআই(এম)। ১৯৭৭ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত টানা সাতটি জয়সহ মোট নয়বার এই কেন্দ্রটি তাদের দখলে ছিল। মাঝে কংগ্রেস জিতেছিল ১৯৬৭ ও ১৯৭২ সালে। এরপর রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের উত্থান বাম জমানার ইতি টানে। ২০১১ সাল থেকে টানা তিনবার ডোমজুড় জয় করে নিজেদের আধিপত্য কায়েম রেখেছে জোড়াফুল শিবির। ২০১১ সালে তৎকালীন সিপিআই(এম) বিধায়ক মোহান্ত চট্টোপাধ্যায়কে ২৪,৯৮৬ ভোটে পরাজিত করেন তৃণমূলের রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১৬ সালে তাঁর জয়ের ব্যবধান ছিল আকাশছোঁয়া- ১ লক্ষ ৭ হাজার ৭০১ ভোট! হারিয়েছিলেন নির্দল প্রার্থী প্রমিতা দত্তকে। তবে ২০২১ সালের নির্বাচনের ঠিক কয়েক মাস আগে রাজীবের বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত কার্যত বুমেরাং হয়ে দাঁড়ায়। পদ্ম-প্রতীকে টিকিট পেলেও তৃণমূলের কল্যাণ ঘোষের কাছে ৪২,৬২০ ভোটে হারতে হয় তাঁকে। ওই বছরই ফের ঘরওয়াপসি হয় রাজীবের। আপাতত তৃণমূলের সাজঘরে বসে ২০২৬-এর নির্বাচনে ফের প্রার্থী হওয়ার সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছেন।
ডোমজুড়ের রাজনীতির ভোলবদল শুরু হয়েছিল ২০০৯ সালের লোকসভা ভোট থেকেই। সেই সময় সিপিআই(এম)-এর থেকে ৭,৮৯৭ ভোটে এগিয়ে গিয়েছিল তৃণমূল। তারপর থেকে এই কেন্দ্রে তারা নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে। ২০১৪ সালে তৃণমূলের এই লিড বেড়ে দাঁড়ায় ৩৯,৯২৩। এতদিন বিজেপি ডোমজুড়ে কার্যত প্রান্তিক শক্তি হিসেবে তৃতীয় স্থানে থাকলেও, ২০১৯ সাল থেকে তারা তৃণমূলের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এসেছে। ওই লোকসভা ভোটে বামেদের টপকে গেলেও তৃণমূলের থেকে ৫৫,০৩৩ ভোটে পিছিয়ে ছিল বিজেপি। ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে সেই ব্যবধান আরও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৮,৭১৩। ডোমজুড়ে নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যাও ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। ২০১১ সালে যেখানে ভোটার সংখ্যা ছিল ২,১৬,৬৭৬। ২০২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩,১০,৭১৭। এই কেন্দ্রের বৃহত্তম ভোটব্যাঙ্ক হল সংখ্যালঘু সম্প্রদায়। যা মোট ভোটারের প্রায় ২৪ শতাংশ। ডোমজুড়ের আদি বাসিন্দা তফশিলি জাতিভুক্ত মানুষ রয়েছেন ১৩.৪১ শতাংশ। এখানকার ৮৭.৬৭ শতাংশ ভোটার শহুর। মাত্র ১২.৩৩ শতাংশ ভোটার গ্রামীণ। ভোট দেওয়ার হার সবসময়ই বেশি। ২০১১ সালে এই হার ছিল ৮৬.২৬ শতাংশ। ২০২১ সালে ছিল ৮৩.৮৭ শতাংশ।
এই জনপদের নামের নেপথ্যে রয়েছে একটা মজার ইতিহাস। ‘ডোম’ হল হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রান্তিক একটি জাতি। ‘জুড়’ মানে হলো জনবসতি। অর্থাৎ এটি ছিল ডোম সম্প্রদায়ের এলাকা। কালক্রমে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ এসে আস্তানা গড়ে ডোমজুড়কে একটি শহরের রূপ দিয়েছেন। হুগলি নদীর পশ্চিম তীরে সমতলে অবস্থিত এই অঞ্চলটি হাওড়া সদর মহকুমার অন্তর্গত। হাওড়া জেলা হুগলি, রূপনারায়ণ এবং দামোদর নদ-বেষ্টিত হলেও আজকের ডোমজুড় আর নদীর ধারের খেতখামারে সীমাবদ্ধ নেই। এটি এখন কারখানা, ছোট ওয়ার্কশপ এবং আবাসনের শহর। এই কেন্দ্রটি হাওড়া, আমতা ও কোনা করিডোরের শিল্পাঞ্চলের অন্যতম সংযোগস্থল। এখানকার অর্থনীতির চালিকাশক্তি হলো সোনার গয়নার কাজ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, গুদামঘর এবং পরিষেবা ক্ষেত্র। এখানকার অধিকাংশ মানুষই কাজের জন্য কলকাতা বা হাওড়ায় যাতায়াত করেন। কৃষিনির্ভরতা আজ তলানিতে।
রাস্তাঘাট ও যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত। কোনা এক্সপ্রেসওয়ে এবং একাধিক প্রধান রাস্তার মাধ্যমে এই শহর কলকাতা ও হাওড়ার সঙ্গে যুক্ত। ধর্মতলা বা ময়দান এলাকা থেকে দূরত্ব মাত্র ২০ থেকে ২৫ কিমি। হাওড়া ব্রিজ বা বিদ্যাসাগর সেতু পার করে কলকাতায় পৌঁছানো ডোমজুড়বাসীর জন্য খুব একটা সময়সাপেক্ষ নয়। রেলপথের ক্ষেত্রে হাওড়া-আমতা লাইনে রয়েছে ডোমজুড় ও ডোমজুড় রোড স্টেশন। ২০-২২ কিমি দূরত্বে হাওড়া স্টেশনে পৌঁছাতে অসংখ্য লোকাল ট্রেন এখানে লাইফলাইনের কাজ করে। হাওড়া থেকে শিয়ালদহ বা এয়ারপোর্ট সাইডে যাতায়াতের জন্য বাসিন্দারা অনায়াসেই শহরতলি এবং মেট্রো পরিষেবা ব্যবহার করতে পারেন।
আসন্ন ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস যদি কোনও একটি আসন নিয়ে নিশ্চিত থাকে, তবে তা হবে ডোমজুড়। ২০০৯ সাল থেকে সাতটি বড় নির্বাচনে তারা এখানে ধরাছোঁয়ার বাইরে লিড ধরে রেখেছে। বাম-কংগ্রেস জোট এখন এখানে কার্যত অপ্রাসঙ্গিক। অন্যদিকে, ব্যবধানের বোঝা এতই বেশি যে বিজেপি তৃণমূলকে কোনও জোরালো টক্করই দিতে পারছে না। নির্বাচনের বিরল কোনও নাটকীয় অনিশ্চয়তা ছাড়া ২০২৬-এ ডোমজুড়ে তৃণমূলকে হারানো যে কোনও শক্তির কাছেই অত্যন্ত কঠিন।
Rajib banerjee s/o- late dhananjoy banerjee
BJP
Uttam bera
CPI(M)
Sumanta kayal
IND
Nota
NOTA
Subhas santra
IND
Rajani begum
BNARP
Subir dalui
IND
Sk. shamim hossain
IND
Tanmoy das
IND
Rajib banerjee s/o- amarnath banerjee
IND
Nandita roy
IND
Srikumar naskar
IND
Sanchayita ghosh
IND
Rajib mondal
IND
Protima dutta w/o - late tapan kumar dutta
IND
Jayanta das
BJP
Kailash naskar
IND
Nota
NOTA
Sabila begum sardar
IUC
Surojit naskar
IND
Pratima dutta w/o - biswajit dutta
IND
Jayanta mondal
IND