
কলকাতার উপকণ্ঠে পরিকল্পিত শহর কল্যাণী। কলকাতা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট অথরিটির অধীনে থাকা এই উপনগরী নদিয়া জেলার অন্তর্গত। সংরক্ষিত তফসিলি জাতি আসন। কল্যাণী বিধানসভা কেন্দ্র বনগা লোকসভা কেন্দ্রের সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে অন্যতম।
২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ডিলিমিটেশন কমিশনের নির্দেশে গঠিত হয় কল্যাণী বিধানসভা কেন্দ্র। তুলনামূলক ভাবে নতুন এই কেন্দ্রের রাজনৈতিক ইতিহাস যদিও দ্রুত বদলেছে। এই কেন্দ্রের মধ্যে পড়ে কল্যাণী এবং গয়েশপুর; এই দুই পুরসভা এলাকা। পাশাপাশি কল্যাণী ব্লকের সাতটি গ্রাম পঞ্চায়েতও এই বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত।
এখনও পর্যন্ত তিনটি বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে এই কেন্দ্রে। ফলাফলে কখনও একতরফা ছবি দেখা যায়নি। শুরুতে তৃণমূল কংগ্রেসের দাপট ছি...
কলকাতার উপকণ্ঠে পরিকল্পিত শহর কল্যাণী। কলকাতা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট অথরিটির অধীনে থাকা এই উপনগরী নদিয়া জেলার অন্তর্গত। সংরক্ষিত তফসিলি জাতি আসন। কল্যাণী বিধানসভা কেন্দ্র বনগা লোকসভা কেন্দ্রের সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে অন্যতম।
২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ডিলিমিটেশন কমিশনের নির্দেশে গঠিত হয় কল্যাণী বিধানসভা কেন্দ্র। তুলনামূলক ভাবে নতুন এই কেন্দ্রের রাজনৈতিক ইতিহাস যদিও দ্রুত বদলেছে। এই কেন্দ্রের মধ্যে পড়ে কল্যাণী এবং গয়েশপুর; এই দুই পুরসভা এলাকা। পাশাপাশি কল্যাণী ব্লকের সাতটি গ্রাম পঞ্চায়েতও এই বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত।
এখনও পর্যন্ত তিনটি বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে এই কেন্দ্রে। ফলাফলে কখনও একতরফা ছবি দেখা যায়নি। শুরুতে তৃণমূল কংগ্রেসের দাপট ছিল। পরে বিজেপির উত্থান স্পষ্ট হয়। ২০১১ সালে তৃণমূল প্রার্থী রামেন্দ্রনাথ বিশ্বাস জয়ী হন। সিপিএম প্রার্থী জ্যোৎস্না শিকদারকে তিনি হারান ১৫,৬৯০ ভোটে। ২০১৬ সালেও তৃণমূলই ক্ষমতা ধরে রাখে। ফের রামেন্দ্রনাথ বিশ্বাস জয়ী হন। এবার তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সিপিএমের অলোকেশ দাস। ব্যবধান আরও বেড়ে দাঁড়ায় ২৬,০৯৫ ভোটে।
কিন্তু ২০২১ সালের নির্বাচনে ছবিটা বদলায়। তৃণমূল নতুন মুখ হিসেবে অনিরুদ্ধ বিশ্বাসকে প্রার্থী করে। সেই সিদ্ধান্তই কাল হয় দলের জন্য। বিজেপি প্রার্থী অম্বিকা রায় তাঁকে হারান। ব্যবধান ছিল মাত্র ২,২০৬ ভোট। এখানেই স্পষ্ট হয় বিজেপির উত্থান। ২০১১ সালে বিজেপির ভোটের হার ছিল মাত্র ২.৫১ শতাংশ। ২০১৬ সালে তা বেড়ে হয় ৮.২৮ শতাংশ। ২০২১ সালে সেই হার লাফিয়ে পৌঁছয় ৪৪.০৪ শতাংশে। তৃণমূল পেয়েছিল ৪৩.০৪ শতাংশ ভোট। ব্যবধান ছিল অত্যন্ত সামান্য।
অন্য দিকে সিপিএমের পতনও চোখে পড়ার মতো। ২০১১ সালে দলটির ভোটের হার ছিল ৪২.৭৯ শতাংশ। ২০১৬ সালে তা কমে হয় ৩৬.৭৩ শতাংশ। ২০২১ সালে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করেও সিপিএমের প্রাপ্ত ভোট নেমে আসে ১০.০৬ শতাংশে।
লোকসভা নির্বাচনেও একই রকম রাজনৈতিক বদল লক্ষ্য করা যায়। ২০০৯ সালের লোকসভা ভোটে কল্যাণী বিধানসভা অংশে সিপিএম এগিয়ে ছিল ৩,৬২২ ভোটে। ২০১৪ সালে সেই জায়গায় তৃণমূল এগিয়ে যায় ৪৯,৭৮২ ভোটে। ২০১৯ সালে আবার পাল্টে যায় ছবি। বিজেপি এগিয়ে যায় ৭,০৫৬ ভোটে। ২০২৪ সালে সেই লিড বেড়ে দাঁড়ায় ১০,৪২২ ভোটে। সিপিএমের ভোট শতাংশ ক্রমাগত কমেছে। ২০০৯ সালে যেখানে ভোটের হার ছিল ৪৭.৮৭ শতাংশ, ২০১৪ সালে তা নেমে আসে ২৫.২৪ শতাংশে। ২০১৯ সালে আরও কমে হয় ৮.৩০ শতাংশ। ২০২৪ সালে বামফ্রন্টের সঙ্গে আসন সমঝোতায় কংগ্রেস প্রার্থী লড়লেও ভোটের হার দাঁড়ায় মাত্র ৫.৩৪ শতাংশ।
ভোটার সংখ্যাও ধীরে ধীরে বেড়েছে। ২০২৪ সালে কল্যাণী বিধানসভা কেন্দ্রে মোট ভোটার ছিলেন ২ লক্ষ ৬৭ হাজার ২০০ জন। ২০২১ সালে এই সংখ্যা ছিল ২ লক্ষ ৫৭ হাজার ৬৮৩। ২০১৯ সালে ছিল ২ লক্ষ ৪৪ হাজার ৭১৮। এলাকা মূলত আধা শহুরে। শহুরে ভোটার প্রায় ৬৯.৫৭ শতাংশ। গ্রামীণ ভোটার ৩০.৪৩ শতাংশ। তফসিলি জাতির ভোটার ৪২.৭২ শতাংশ। তফসিলি উপজাতির ভোটার ২.৩২ শতাংশ। মুসলিম ভোটার সামান্য বেশি, ১২ শতাংশেরও কিছু ওপরে।
ভোটদানের হার বরাবরই নজর কেড়েছে। ২০১১ সালে ভোট পড়েছিল ৯০.১১ শতাংশ। ২০১৬ সালে তা কমে হয় ৮১.৮১ শতাংশ। পরে আবার বাড়ে।
২০১৯ সালে ভোট পড়ে ৮৩.৭৫ শতাংশ। ২০২১ সালে ৮৫.৬৭ শতাংশ। ২০২৪ সালে ভোটদানের হার ছিল ৮২.০৭ শতাংশ।
ঐতিহাসিক দিক থেকেও কল্যাণীর গুরুত্ব আলাদা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এখানে ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিমানঘাঁটি ‘রুজভেল্ট টাউন’। সেই জায়গাতেই পশ্চিমবঙ্গের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী বিধানচন্দ্র রায়ের উদ্যোগে গড়ে ওঠে কল্যাণী শহর। এটি বাংলার প্রাচীনতম পরিকল্পিত শহরগুলির একটি। গ্রিড প্যাটার্নে সাজানো রাস্তা। প্রশস্ত অ্যাভিনিউ। খোলা পার্ক। নদিয়া জেলায় এই ছবি বিরল। আজও কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে এবং শহরের কয়েকটি ব্লকে সেই পুরনো বিমানঘাঁটির চিহ্ন দেখা যায়।
বর্তমানে কল্যাণী পরিচিত শিক্ষা ও গবেষণার কেন্দ্র হিসেবে। রয়েছে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়। রয়েছে আইআইএসইআর। রয়েছে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ বায়োমেডিক্যাল জিনোমিক্স। রয়েছে বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। একাধিক পলিটেকনিক এবং প্রযুক্তি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও আছে। ধীরে ধীরে শহরটি শিক্ষা ও গবেষণার হাব হয়ে উঠেছে।
কল্যাণী হুগলি নদীর পূর্ব তীরে অবস্থিত। আপার গঙ্গা ডেল্টার অংশ এই এলাকা। কলকাতা থেকে দূরত্ব প্রায় ৪৮ কিলোমিটার। হাওড়া থেকে ৪৭ থেকে ৫০ কিলোমিটার। কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে বা রেলপথ; দু’ভাবেই যাতায়াত সম্ভব। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দূরত্ব প্রায় ৫২ কিলোমিটার। রেল ও সড়ক যোগাযোগ ভালো। শিয়ালদহ ও ব্যারাকপুরের সঙ্গে নিয়মিত লোকাল ট্রেন চলে। কল্যাণী স্টেশন ছাড়াও গয়েশপুর, হালিশহর এবং কাঞ্চরাপাড়া খুব কাছেই। সবই তিন থেকে ন’কিলোমিটারের মধ্যে।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে লড়াই টানটান। তৃণমূল ও বিজেপি; দু’পক্ষই প্রায় সমানে সমান। গত তিনটি নির্বাচনে বিজেপি এগিয়ে থেকেছে। দু’টি লোকসভা নির্বাচন এবং ২০২১ সালের বিধানসভা ভোট; সব মিলিয়ে সামান্য হলেও সুবিধাজনক জায়গায় গেরুয়া শিবির। তবে ব্যবধান খুব বড় নয়। সেই কারণেই আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ রাখা এবং বিশ্বাসযোগ্য বার্তা দেওয়াই নির্ধারণ করবে কল্যাণীর ভবিষ্যৎ। ২০২৬ সালে এই কেন্দ্র যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেখবে, তা এখনই স্পষ্ট।
Aniruddha biswas
AITC
Sabuj das
CPI(M)
Nota
NOTA
Goutam malo
BSP
Amit kumar das
IND
Sangram biswas
PDS
Agniv hira
IND
Alakesh das
CPM
Dr. ranajit kumar biswas
BJP
Nota
NOTA
Biplab majumdar
SHS
Tushar kanti biswas
BSP
Samaresh biswas
PDS