
দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাতগাছিয়া সাধারণ বিধানসভা আসন। এটি ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্ভুক্ত। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী প্রয়াত জ্যোতি বসুর সঙ্গে এই বিধানসভার যোগ ছিল। ১৯৭২ সালে বরানগরে হারেন জ্যোতিবাবু। তারপর সাতগাছিয়ায় চলে যান। ১৯৭৭ সালে প্রথম জেতেন জ্যোতি বসু। ২০০০ সালে অবসর নেওয়া পর্যন্ত পাঁচবার জয়লাভ করেন। ফলে একটা সময় এটি ভিভিআইপি আসন ছিল।
জ্যোতি বসু সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ার পর তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য দরজা খুলে যায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী সোনালী গুহ ২০০১ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে চারবার জয়ী হন। ২০২১ সালে তৃণমূল তাঁকে টিকিট না দিয়ে মোহনচন্দ্র নস্করকে প্রার্থী করে। গুহ দলবদল করে বিজেপিতে যোগ দেন। বিজেপির চন্দন পাল...
দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাতগাছিয়া সাধারণ বিধানসভা আসন। এটি ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্ভুক্ত। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী প্রয়াত জ্যোতি বসুর সঙ্গে এই বিধানসভার যোগ ছিল। ১৯৭২ সালে বরানগরে হারেন জ্যোতিবাবু। তারপর সাতগাছিয়ায় চলে যান। ১৯৭৭ সালে প্রথম জেতেন জ্যোতি বসু। ২০০০ সালে অবসর নেওয়া পর্যন্ত পাঁচবার জয়লাভ করেন। ফলে একটা সময় এটি ভিভিআইপি আসন ছিল।
জ্যোতি বসু সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ার পর তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য দরজা খুলে যায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী সোনালী গুহ ২০০১ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে চারবার জয়ী হন। ২০২১ সালে তৃণমূল তাঁকে টিকিট না দিয়ে মোহনচন্দ্র নস্করকে প্রার্থী করে। গুহ দলবদল করে বিজেপিতে যোগ দেন। বিজেপির চন্দন পালকে ২৩,৩১৮ ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে আসনটি জিতে নেন তৃণমূল প্রার্থী। কিন্তু আসল গল্পটি ছিল পর্দার আড়ালে। বিজেপি ৫৪.৮০ শতাংশ বুথে এগিয়ে ছিল। তৃণমূল এগিয়ে ছিল মাত্র ৪৫.২০ শতাংশ বুথে।
লোকসভা নির্বাচনে সাতগাছিয়া বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের আধিপত্য আরও জোরালো ছিল। ২০১৯ সালে বিজেপির চেয়ে ২৪,৭৭৯ ভোট এবং ২০২৪ সালে ৬০,৬১৮ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে ছিল। ডায়মন্ড হারবার এখন রাজ্যের ভিভিআইপি লোকসভা। ওই কেন্দ্রের সাংসদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
২০২১ সালে সাতগাছিয়ায় ভোটারের সংখ্যা ছিল ২৭০,১৯৩। ২০১৯ সালের ২৫৮,৫৯১ জন থেকে বেশি। মোট ভোটারের মধ্যে ৩৩.৬০ শতাংশ মুসলিম এবং ১৬.২৯ শতাংশ তফসিলি জাতিভুক্ত। কেন্দ্রটি প্রধানত গ্রামীণ। এখানে ৭৪.১০ শতাংশ ভোটার গ্রামে এবং ২৫.৯০ শতাংশ শহুরে এলাকায় বসবাস করেন। ২০১৬ সালে ভোটের হার ছিল ৮৫.৪১ শতাংশ। ২০১৯ সালে ভোটের হার ৮৫.১৭ শতাংশ। ২০২১ সালে ভোটের হার ৮৭.২২ শতাংশ।
সাতগাছিয়া দক্ষিণবঙ্গের নিম্নভূমির ব-দ্বীপ সমভূমিতে অবস্থিত। যা হুগলি নদী এবং তার শাখা নদী দিয়ে বেষ্টিত। এখানকার ভূখণ্ড সমতল এবং বর্ষাকালে জলমগ্ন হওয়ার প্রবণতা রয়েছে। কৃষিই স্থানীয় অর্থনীতির মেরুদণ্ড। ধান, সবজি এবং পান পাতার চাষ প্রচলিত। ভিআইপি কেন্দ্র হওয়া সত্ত্বেও সাতগাছিয়ার পরিকাঠামো বেশ সাধারণ মানের। রাস্তা সরু। রক্ষণাবেক্ষণ নেই। গণপরিবহণ সীমিত। স্বাস্থ্য পরিষেবাও নেই বললেই চলে। উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুব কম এবং দূরে দূরে অবস্থিত। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে জ্যোতি বসু থাকলেও সাতগাছিয়ার হাল বলার মতো নয়।
সাতগাছিয়া জেলা সদর আলিপুর থেকে প্রায় ২৮ কিলোমিটার এবং রাজ্য রাজধানী কলকাতা থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। কাছাকাছি শহরগুলোর মধ্যে রয়েছে ১২ কিলোমিটার দূরে বজবজ, ৩০ কিলোমিটার দূরে ডায়মন্ড হারবার এবং ২৫ কিলোমিটার দূরে বারুইপুর। কেন্দ্রটি পশ্চিমে হাওড়া জেলা এবং দক্ষিণে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার সঙ্গে সীমানা ভাগ করে নিয়েছে। হাওড়ার উলুবেড়িয়া প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে। পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুক সাতগাছিয়া থেকে প্রায় ৬৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেসের আত্মতুষ্টিতে ভোগার কোনও সুযোগ নেই। সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলিতে বিজেপির বুথ-স্তরের আধিপত্য বেড়েছে। বিজেপির সংগঠন পোক্ত হলে তৃণমূলের জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে সিপিআইএমের ভোটও। ২০১৬ সালে তারা ৩৯.৭১ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। ২০২১ সালে তা কমে ৬.৮৯ শতাংশে নেমে আসে। ফলে সিপিএমের ভোট ফারাক গড়ে দিতে পারে।
Chandan pal
BJP
Goutam pal
CPI(M)
Sk rabiyal
SUCI
Sanjay kumar sah
BSP
Nota
NOTA
Debajyoti basu
IND
Paramita ghosh
CPM
Saptarshi basu
BJP
Nota
NOTA
Satyendranath ghosh
BSP
Dilip pal
CPI(ML)(L)
Tirthankar ghosh
IND