
কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্রটিতে আপাতভাবে অ্যাডভান্টেজ বিজেপি। এই কেন্দ্রে তারা বরাবরই এগিয়ে। এখন প্রশ্ন হল, তৃণমূল কি পারবে বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়তে? সেটাই হল লাখ টাকার প্রশ্ন। আসলে জেনারেল ক্যাটাগরির একটি সিট হল কৃষ্ণনগর উত্তর। এটি পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলায় অবস্থিত। এই কেন্দ্রটি কৃষ্ণনগর লোকসভা আসনের মধ্যে পড়ে। ইতিহাস ছড়িয়ে কোণায় কোণায় কৃষ্ণনগরের একটি আকর্ষণীয় ইতিহাস রয়েছে। নদিয়ার রাজ পরিবারের এবং বাংলার অন্যতম প্রভাবশালী হিন্দু শাসক রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের নামানুসারে এই শহরের নামকরণ বলে মনে করা হয়। এই রাজাকে শিল্পকলার পৃষ্ঠপোষকতার জন্য স্মরণ করা হয়। ইতিহাস অবশ্য ভারতে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন প্রতিষ্ঠায় সাহায্যকারী ব্যক্তিদের মধ্যেও তাকে স্মরণ ...
কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্রটিতে আপাতভাবে অ্যাডভান্টেজ বিজেপি। এই কেন্দ্রে তারা বরাবরই এগিয়ে। এখন প্রশ্ন হল, তৃণমূল কি পারবে বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়তে? সেটাই হল লাখ টাকার প্রশ্ন। আসলে জেনারেল ক্যাটাগরির একটি সিট হল কৃষ্ণনগর উত্তর। এটি পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলায় অবস্থিত। এই কেন্দ্রটি কৃষ্ণনগর লোকসভা আসনের মধ্যে পড়ে। ইতিহাস ছড়িয়ে কোণায় কোণায় কৃষ্ণনগরের একটি আকর্ষণীয় ইতিহাস রয়েছে। নদিয়ার রাজ পরিবারের এবং বাংলার অন্যতম প্রভাবশালী হিন্দু শাসক রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের নামানুসারে এই শহরের নামকরণ বলে মনে করা হয়। এই রাজাকে শিল্পকলার পৃষ্ঠপোষকতার জন্য স্মরণ করা হয়। ইতিহাস অবশ্য ভারতে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন প্রতিষ্ঠায় সাহায্যকারী ব্যক্তিদের মধ্যেও তাকে স্মরণ করে। তিনিই নাকি কয়েকজনের সঙ্গে মিলে বাংলার শেষ নবাব সিরাজ উদ-দৌলার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেন। তিনিই নাকি রবার্ট ক্লাইভের সঙ্গে যোগসাজশ করেন। যার ফলে পলাশীর যুদ্ধে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাতে সিরাজের পরাজয় হয়। ১৭৮৭ সালে ব্রিটিশরা নদিয়া জেলা তৈরি করার সময় কৃষ্ণনগরকে সদর দপ্তর করা হয়। এটি ১৮৬৪ সালে পৌরসভায় উন্নিত হয়। এটিই বাংলার সবথেকে পুরনো মিউনিসিপ্যালিটির মধ্যে একটি। পূর্ব পাকিস্তানের অংশ ছিল ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগ হওয়ার পর মুর্শিদাবাদ, মালদা, পশ্চিম দিনাজপুর ও নদিয়া কিছু সময়ের জন্য পূর্ব পাকিস্তানের অংশ ছিল। অবশ্য ১৭ অগাস্ট ১৯৪৭-এ র্যাডক্লিফ কমিশনের কথা মতো হুগলি নদী সম্পূর্ণরূপে যাতে ভারতে থাকে এবং কলকাতা ও গুয়াহাটির মধ্যে সংযোগ বজায় থাকে, সেটা নিশ্চিত করতে এই জেলাগুলিকে ভারতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। অবশ্য ১৯৪৭ সালে এবং আবার ১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তান থেকে বাঙালি হিন্দুদের আগমনের কারণে জেলাটি হিন্দু-সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে ওঠে। রাজনীতির ইতিহাস কী? কৃষ্ণনগরের রাজনৈতিক ইতিহাসও সমান চমকপ্রদ। এটি ১৯৫১ সালে একটি বিধানসভা কেন্দ্র হিসেবে প্রকাশ পায়। ১৯৬৭ সালের নির্বাচনের আগে এটি কৃষ্ণনগর পূর্ব এবং কৃষ্ণনগর পশ্চিমে বিভক্ত ছিল। ২০১১ সালের ডিলিমিটেশন কমিশন এগুলো বাতিল করে কৃষ্ণনগর উত্তর ও কৃষ্ণনগর দক্ষিণ তৈরি করে। কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্রটি কৃষ্ণনগর ১ কমিউনিটি ব্লকের পাঁচটি গ্রাম পঞ্চায়েত সহ সমগ্র কৃষ্ণনগর পৌরসভা নিয়ে গঠিত। কৃষ্ণনগর গঙ্গার একটি উপনদী জলঙ্গী নদীর দক্ষিণ তীরে গাঙ্গেয় ব-দ্বীপ অংশে অবস্থিত। নদী বয়ে যায় পূর্ব থেকে পশ্চিমে। সেটি শহরের প্রায় ১০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে ভাগীরথীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে। এখানকার ভূখণ্ড সমতল ও উর্বর। আশেপাশের গ্রামাঞ্চলের অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর। প্রধান ফসল ধান, পাট ও শাকসবজি। শহরটি তার কাদামাটি মডেলিং এবং হস্তশিল্পের জন্য পরিচিত। এখানকার ঘূর্ণিপাড়া বিখ্যাত। কৃষ্ণনগর জেলার জন্য এটি একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসাবেও কাজ করে। এখানকার পরিকাঠামো মোটের উপর উন্নত। শহরটি কলকাতার প্রায় ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণে সড়ক ও রেলের মাধ্যমে সংযুক্ত। কৃষ্ণনগর সিটি জংশন হল শিয়ালদা-লালগোলা লাইনের একটি গুরত্বপূর্ণ স্টেশন। কাছাকাছি শহরগুলির মধ্যে রয়েছে রানাঘাট ২৬ কিমি, শান্তিপুর ১৮ কিমি এবং নবদ্বীপ ১৬ কিমি। বাংলাদেশের সীমান্তের ওপারে কুষ্টিয়া হল নিকটতম শহর। এটি ৬০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত। মুকুল রায়কে ভুললে চলবে না কৃষ্ণনগরের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগ করেছেন সদ্য বিধায়ক পদ খারিজ হয়ে যাওয়া মুকুল রায়। মুকুল রায় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। তিনি দল ত্যাগ করেন এবং ২০১৭ সালে বিজেপিতে যোগ দেন। তিনি ২০২১ সালে বিজেপি মনোনীত প্রার্থী হিসাবে কৃষ্ণনগর উত্তর আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তৃণমূলের কৌশানি মুখোপাধ্যায়কে পরাজিত করে ৩৫০৮৯ ভোটে জয়ী হন। অবশ্য নির্বাচনের কয়েক মাসের মধ্যে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসে ফিরে আসেন। তারপরই দলবদল বিরোধী আইনে তাকে অযোগ্য ঘোষণা করার জন্য বিধানসভার স্পিকারের কাছে আবেদন করেছিল বিজেপি। যাইহোক রায়ের আইনজীবী পরে স্পিকারকে জানিয়েছিলেন যে তাঁর মক্কেল কখনও আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূলে যোগ দেননি। তৃণমূল কংগ্রেস এর আগে ২০১১ এবং ২০১৬ সালে দুইবার কৃষ্ণনগর উত্তর জিতেছিল। অবনী মোহন জোয়ারদার তাদের প্রার্থী ছিলেন। তিনি ২০১১ সালে সিপিআই(এম) এর বিধায়ক সুবিনয় ঘোষকে ৩৫,১১০ ভোটে পরাজিত করেছিলেন। ২০১৬ সালে কংগ্রেসের অসীম কুমার সাহাকে ১২,৯১৫ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে আসনটি ধরে রেখেছিলেন। ২০২০ সালে মোহন জোয়ারদারের মৃত্যু রাজনীতি বদলে দেয়। যার ফলে তৃণমূল মুকুল রায়ের বিরুদ্ধে কৌশানি মুখোপাধ্যায়কে প্রার্থী করে। যদিও বিজেপির ২০২১ সালের জয়ের কৃতিত্ব কেবল মুকুল রায়কে দেওয়া যায় না। দলটি ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে নিজের প্রভাব বাড়িয়েছিল। কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ে ৫৩,৫৫১ ভোটে এগিয়ে তারা। আর এই ফলাফলই বুঝিয়ে দেয় যে কেন কেন রায় দল পরিবর্তন করার পরে বিধায়ক পদ থেকে পদত্যাগ করেননি। আসলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মুকুল রায় নিজে বা তৃণমূল কেউই উপনির্বাচনে এই আসনটি জয়ের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী বলে মনে হচ্ছে না। আর তাদের এই অনুমান যে সঠিক, সেটা ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে প্রমাণ হয়ে যায়। এখানে বিজেপি আবার ৫৩,৪৭০ ভোটের ব্যাবধানে এগিয়ে যায়। ২০২৪ সালে কৃষ্ণনগর উত্তরের ২৪৬,৩৮৫ ভোটার ছিল। ২০২১ সালে ২৩৮,২২০ এবং ২০১৯ সালে ২২৯,৩৩৫ ভোটার ছিল৷ এখানে তফসিলি জাতি ভোটাররা ২০২১ সালে এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। এই কেন্দ্রে তাদের ভোটের শতাংশ ২৯.১৩ শতাংশ৷ এখানে ৫৪.০৪ শতাংশ শহরের এবং ৪৯.৯৬ শতাংশ গ্রামীণ ভোটার রয়েছে। এখানে চিরকালই বেশি সংখ্যায় মানুষ ভোট দিয়ে এসেছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মুকুল রায় থাকুক না থাকুক, এই কেন্দ্রে বিজেপি ২০২৬ সালে অ্যাডভান্টেজ। তবে তৃণমূলের কাছে এখনও সুযোগ রয়েছে। বামফ্রন্ট-কংগ্রেস জোট যদি নিজেদের মতো করে একটু খেলা দেখাতে পারে, তাহলে ভোটের ফল যেতে পারে বদলে।
Koushani mukherjee
AITC
Silvi saha
INC
Nota
NOTA
Dipika pramanik
PMPT
Sadhan kumar mandal
IND
Ashoke chandra das
BSP
Joydip chaudhuri
SUCI
Asim kumar saha
INC
Chanchal kumar biswas
BJP
Nota
NOTA
Prabir kumar ghosh
SHS
Ashoke chandra das
BSP
Kamal kanti datta
SUCI
Amal tarafdar
CPI(ML)(L)