
হাওড়া গ্রামীণের এলাকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শহর বাগনান। একটা সময় চাষবাসই ছিল এই এলাকার জীবনজীবিকা। তবে সময় পাল্টেছে। ছোটখাট শিল্প থেকে দোকানপাট, বাগনান আধা শহরের রূপ নিয়েছে। হাওড়ার আর পাঁচটা বিধানসভার মতো বাগনানেও একটা সময় বাম বনাম কংগ্রেসের লড়াই হত। সেই অবিভক্ত কমিউনিস্ট পার্টির জমানা থেকেই বাগনান জিতেছে বামেরা। রাজ্যের অন্যান্য কেন্দ্রের মতো এখানেও তারা লড়াই থেকে ছিটকে গিয়েছে।
১৯৫১ সালের প্রথম বিধানসভা নির্বাচন থেকে বাগনান আলাদা কেন্দ্র। ১৭বার নির্বাচন হয়েছে বাগনানে। কখনও জিতেছে কংগ্রেস। আবার কখনও বামেরা। ৯ বার বাগনান আসনটি জিতেছে সিপিএম। এর মধ্যে অবিভক্ত কমিউনিস্ট পার্টির অধীনেও একটি জয় রয়েছে। পাঁচবার আসনটি গিয়েছে কংগ্রেসের ঝুলিতে। সিপিএমের...
হাওড়া গ্রামীণের এলাকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শহর বাগনান। একটা সময় চাষবাসই ছিল এই এলাকার জীবনজীবিকা। তবে সময় পাল্টেছে। ছোটখাট শিল্প থেকে দোকানপাট, বাগনান আধা শহরের রূপ নিয়েছে। হাওড়ার আর পাঁচটা বিধানসভার মতো বাগনানেও একটা সময় বাম বনাম কংগ্রেসের লড়াই হত। সেই অবিভক্ত কমিউনিস্ট পার্টির জমানা থেকেই বাগনান জিতেছে বামেরা। রাজ্যের অন্যান্য কেন্দ্রের মতো এখানেও তারা লড়াই থেকে ছিটকে গিয়েছে।
১৯৫১ সালের প্রথম বিধানসভা নির্বাচন থেকে বাগনান আলাদা কেন্দ্র। ১৭বার নির্বাচন হয়েছে বাগনানে। কখনও জিতেছে কংগ্রেস। আবার কখনও বামেরা। ৯ বার বাগনান আসনটি জিতেছে সিপিএম। এর মধ্যে অবিভক্ত কমিউনিস্ট পার্টির অধীনেও একটি জয় রয়েছে। পাঁচবার আসনটি গিয়েছে কংগ্রেসের ঝুলিতে। সিপিএমের নিরুপমা চট্টোপাধ্যায় সাতবার এই আসনে জিতেছেন।
২০১১ সালে রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের হাত ধরে রাজনৈতিক পালাবদল ঘটে বাংলায়। বাগনানও অনুসরণ করে সেই পথ। সিপিএম বিধায়ক আক্কেল আলি খানকে ১৯,২৭০ ভোটে হারান তৃণমূল কংগ্রেসের অরুণাভ সেন। সেই সঙ্গে শুরু হয় বাগনানে তৃণমূলের জয়যাত্রা। ২০১৬ সালে সিপিএমের মিনা মুখোপাধ্যায় ঘোষের বিরুদ্ধে ৩০,১৯৭ ভোটের বেশি ব্যবধানে জেতেন অরুণাভ। ২০২১ সালেও তাঁর ব্যবধান প্রায় অপরিবর্তিত। ৩০,১২০ ভোটে জয়লাভ। এর মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসে বিজেপি। তাদের প্রার্থী অনুপম মল্লিক ৭৫,৯২২ ভোট পেয়েছিলেন। অরুণাভ সেন পেয়েছিলেন ১০৬,০৪২ ভোট।
লোকসভাতে একই প্রবণতা। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে বাগনান আসনে বিজেপির চেয়ে ৩৮,৪৭৩ ভোটে এগিয়ে ছিল তৃণমূল কংগ্রেস। যা ২০১৯ সালের ৪৮,২৯৪ ভোটে এগিয়ে থাকার থেকে চেয়ে কিছুটা কম। বিজেপি প্রতিপক্ষ হিসেবে উঠে এলেও পাটিগণিতের নিরিখে তৃণমূল কংগ্রেসের সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাগনানে মোট ভোটার ছিল ২,৩২,২১৬ জন। যা ২০১৯ সালে ২,৩১,২১৬ এবং ২০১৬ সালে ২,১০,৫০৯ জন থেকে সামান্য বেশি। মুসলিম ভোটার ২৮.২০ শতাংশ। তফসিলি জাতির ভোটার ৯.৯৮ শতাংশ। ৬৯.৩৮ শতাংশ ভোটার গ্রামীণ এলাকার। শহরাঞ্চলে বাস করেন ৩০.৬২ শতাংশ ভোটার। ভোটদানের হারও বেশি। ২০২১ সালে ৮৬.৪৮ শতাংশ ভোট পড়েছিল। ২০১৬ সালে ভোটদান ৮৫.৯৫ শতাংশ।
ভৌগোলিকভাবে বাগনান ঊর্বর গাঙ্গেয় সমভূমিতে অবস্থিত। এবং দুটি নদী দিয়ে বেষ্টিত। পশ্চিমে দামোদর এবং দক্ষিণে রূপনারায়ণ। কৃষিকাজই এখন মূল পেশা। ধান এখনও প্রধান ফসল। এছাড়া সবজি
চাষও ব্যাপক হয়। অর্থনীতি মূলত কৃষি এবং ক্ষুদ্র ব্যবসা নির্ভর। বড় শিল্প নেই। পেশার জন্য বহু মানুষ কলকাতায় যান। বাগনান রেলস্টেশন ও জাতীয় সড়়ক যোগাযোগের মাধ্যম।
বাগনান রাজ্যের রাজধানী কলকাতা থেকে প্রায় ৫৫ কিলোমিটার পশ্চিমে এবং জেলা সদর হাওড়া থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। নিকটবর্তী শহরগুলির মধ্যে রয়েছে উলুবেড়িয়া (২০ কিমি), দেউলটি (১০ কিমি) এবং বাগনান ২(৫ কিমি)। এই নির্বাচনী এলাকাটি রূপনারায়ণ নদীর ওপারে অবস্থিত পূর্ব মেদিনীপুর জেলার সঙ্গেও যুক্ত।
সাম্প্রতিক নির্বাচনী প্রবণতায় স্পষ্ট, ২০২৬ সালের নির্বাচনে বাগনান আসনে অ্যাডভান্টেজ তৃণমূল কংগ্রেস। বিজেপির উত্থান লক্ষণীয়। তবে সংখ্যালঘু ভোট ফ্যাক্টর। এখানেই হোঁচট খেতে পারে বিজেপি। তৃণমূলকে চ্যালেঞ্জ করতে গেলে সংগঠনও দরকার। একটা সময় বাম এবং কংগ্রেস লড়াইয়ে থাকলেও তারা আজ মাঠের বাইরে। জনভিত্তি কংগ্রেসের আর নেই। ভেঙে গিয়েছে বাম সংগঠনও।
Anupam mallik
BJP
Sk bosir ahmed
CPI(M)
Nota
NOTA
Sanjit patra
IND
Pampa sarkar bera
SUCI
Subhasish adhikary
IND
Ramesh khanra
IND
Mina mukherjee ghosh
CPM
Samiran roy
BJP
Nota
NOTA
Sanjit patra
IND
Nikhil ranjan bera
SUCI
Dilip dey
CPI(ML)(L)
Dilip kumar bauri
IUC
Bijon kumar malakar
IND
Amarendra gayen
IND