
হাওড়া সদর মহকুমার একটি ব্লক-স্তরের শহুরে কেন্দ্র হল সাঁকরাইল। এটি একটি তফসিলি জাতি (SC) সংরক্ষিত বিধানসভা কেন্দ্র। ১৯৫১ সালে এই কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠা হয়। এক সময় এখানে ছিল সিপিআইএম-এর শক্ত ঘাঁটি। এই দল এখানে টানা চার দশকেরও বেশি সময় জিতেছে। তবে গত পঁচিশ বছর ধরে এখানে ঘাসফুল ফুটেছে। এই প্রসঙ্গে বলি, এই বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত রয়েছে সাঁকরাইল কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লকের ১২টি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং ডোমজুর ব্লকের ৪টি গ্রাম পঞ্চায়েত। এটি হাওড়া লোকসভার ৭টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে একটি। কলকাতা থেকে খুব একটা দূরে অবস্থিত নয় সাঁকরাইল। এটি কলকাতার কেন্দ্র এসপ্ল্যানেড থেকে প্রায় ১৫–২০ কিমি দূরে অবস্থিত।
১৯৫১ সাল থেকে এখানে মোট ১৭ বার বিধানসভা নির্বাচন হয়ে...
হাওড়া সদর মহকুমার একটি ব্লক-স্তরের শহুরে কেন্দ্র হল সাঁকরাইল। এটি একটি তফসিলি জাতি (SC) সংরক্ষিত বিধানসভা কেন্দ্র। ১৯৫১ সালে এই কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠা হয়। এক সময় এখানে ছিল সিপিআইএম-এর শক্ত ঘাঁটি। এই দল এখানে টানা চার দশকেরও বেশি সময় জিতেছে। তবে গত পঁচিশ বছর ধরে এখানে ঘাসফুল ফুটেছে। এই প্রসঙ্গে বলি, এই বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত রয়েছে সাঁকরাইল কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লকের ১২টি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং ডোমজুর ব্লকের ৪টি গ্রাম পঞ্চায়েত। এটি হাওড়া লোকসভার ৭টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে একটি। কলকাতা থেকে খুব একটা দূরে অবস্থিত নয় সাঁকরাইল। এটি কলকাতার কেন্দ্র এসপ্ল্যানেড থেকে প্রায় ১৫–২০ কিমি দূরে অবস্থিত।
১৯৫১ সাল থেকে এখানে মোট ১৭ বার বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে এখানে। প্রথম দু’টি নির্বাচনে এটি ছিল দ্বি-সদস্যবিশিষ্ট (টুইন সিট) আসন। ১৯৫১ সালে ফরওয়ার্ড ব্লক এখানে দু’টি আসনই জেতে। ১৯৫৭ সালে অবশ্য সিপিআই ও ফরওয়ার্ড ব্লক একটি করে আসন পায়। ১৯৬২ সালে একক আসনে বদলে যায় এই আসন। সেই বছর সিপিআই জয়ী হয়। তারপর এখানে সিপিআইএম-এর বিজয় রথ এগিয়ে যেতে থাকে। ১৯৬৯ থেকে ১৯৯১ পর্যন্ত টানা সাতবার সিপিআই(এম) জয়ী হয়। মাঝখানে ১৯৬৭ ও ১৯৯৬ সালে কংগ্রেস আসনটি দখল করে। ২০০১ সাল থেকে অবশ্য তৃণমূল কংগ্রেস টানা পাঁচবার এই আসনে জয় পেয়েছে।
মাথায় রাখতে হবে যে সাঁকরাইলের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে। ১৯৭৭ সালে বামফ্রন্ট ক্ষমতায় আসার অনেক আগেই এই আসনে সিপিআই(এম) জিতেছে। ২০১১ সালে বামফ্রন্ট ক্ষমতা হারানোর ১৫ বছর আগেই এই আসন থেকে তাদের কর্তৃত্ব চলে যায়। ১৯৯৬ সালে কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে এখানে জেতেন শীতল কুমার সর্দার। এরপর ২০০১ ও ২০০৬ সালে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে তিনি জয়ী হন। আর ২০১১ সালে পরিবর্তনের বছরে আবার জয় পান তিনি। ২০১৬ সালেও আবার জয় পান শীতল কুমার সর্দার। ২০২১ সালে অবশ্য তৃণমূল কংগ্রেস তাঁকে প্রার্থী করেনি। তার বদলে প্রার্থী হন প্রিয়া পাল। তিনি প্রভাকর পণ্ডিতকে ৪০,৪২৭ ভোটে পরাজিত করেন। লোকসভা নির্বাচনেও সাঁকরাইল বিধানসভায় তৃণমূলের ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে গিয়েছেন। ২০০৯, ২০১৪, ২০১৯ ও ২০২৪, চারটি নির্বাচনে তৃণমূল এগিয়ে ছিল এখানে।
২০২৫ সালের স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR)–এর খসড়া ভোটার তালিকা অনুযায়ী এখানে মোট ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২,১৭,৯৩২। ২০২৪ সালের তালিকা থেকে ৬৭,২৭৮টি নাম বাদ পড়েছে। ২০২১ সালে ভোটার ছিল ২,৭৭,০৭৬, ২০১৯ সালে ২,৫৯,৯২৩, ২০১৬ সালে ২,৪৪,১৮৮ এবং ২০১১ সালে ২,১১,৩৫৪ ভোটার ছিল। ২০০৬ সালের আগে এটি সাধারণ আসন ছিল। পরে সংরক্ষিত আসনে পরিণত হয় সাঁকরাইল। জনসংখ্যার হিসেবে এখানে মুসলিম ভোটার ৩৭.২০ শতাংশ। এখানে তফসিলি জাতি ভোটারের সংখ্যা ২৩.৫০ শতাংশ। ভোটদানের হার ২০১১ সালে সর্বোচ্চ ৮১.৩৭ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে সর্বনিম্ন ৭৬.২০ শতাংশ ছিল। এটি প্রধানত শহরাঞ্চলভিত্তিক কেন্দ্র।
ভৌগোলিকভাবে সাঁকরাইল হুগলি নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত। এটি নিম্ন গঙ্গা বদ্বীপের সমতল পলিমাটি অঞ্চল। এটি বন্যাপ্রবণ অঞ্চল। এখানকার অর্থনীতিতে কৃষি ও শিল্প—দুইয়ের মিশ্রণ রয়েছে। ধান, সবজি চাষের পাশাপাশি পাটকল, ছোট কারখানা ও গার্মেন্টস ইউনিট রয়েছে। NH-16 এবং রেলপথে ভাল যোগাযোগ রয়েছে। আশপাশের শহরগুলির মধ্যে হাওড়া ১০–১৫ কিমি, উলুবেড়িয়া ২৫–৩০ কিমি, ডোমজুর ১০ কিমি, পাঁচলা ১৫ কিমি, আন্দুল ৫–৮ কিমি, জগৎবল্লভপুর ২০ কিমি, বাগনান ৩৫ কিমি এবং কলকাতা ১৫ থেকে ২০ কিমি দূরে অবস্থিত।
SIR–এর খসড়া তালিকায় বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়েছে। আর এই নাম বাদ সাঁকরাইলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বাদ পড়া নামের অধিকাংশই মুসলিম সম্প্রদায়ের বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে আগামী নির্বাচন আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে। বিজেপি এই পরিস্থিতিকে কতটা কাজে লাগাতে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
Probhakar pandit
BJP
Samir malick
CPI(M)
Nota
NOTA
Samir shit
IND
Suvomay khelo
IND
Tapas dolui
IND
Bimal kanti naskar
IND
Budhen patra
IND
Samir malick
CPM
Probhakar pandit
BJP
Nota
NOTA
Tapan kumar bachar
IND
Samir naskar
IND
Ashok rajwar
IUC
Biswanath santra
IND
Gopal bag
IND