
বসিরহাট দক্ষিণ পশ্চিমবঙ্গের একটি গুরুত্বপূর্ণ আধা-শহুরে বিধানসভা কেন্দ্র। যেখানে গত এক দশকেরও বেশি সময়ে ভোটারদের রাজনৈতিক পছন্দ বারবার বদলেছে। কখনও সিপিআই(এম), কখনও বিজেপি, আবার কখনও তৃণমূল কংগ্রেস, এই তিন দলের মধ্যেই ঘুরপাক খেয়েছে জনসমর্থন। ফলে কেন্দ্রটির রাজনৈতিক লড়াই বরাবরই খোলা ও অনিশ্চিত থেকেছে।
উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় অবস্থিত বসিরহাট দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রটি ২০১১ সালে গঠিত হয়। এটি একটি সাধারণ আসন এবং বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের একটি। এই কেন্দ্রের মধ্যে রয়েছে বসিরহাট পৌরসভা, বসিরহাট-১ ব্লক এবং টাকি পৌরসভা। শহর ও গ্রামের মিশেলে কেন্দ্রটির চরিত্র আধা-শহুরে।
এর আগে এই অঞ্চলটি অবিভক্ত বসিরহাট বিধানসভা কেন্দ্রের অংশ ছিল, যা ১৯৫...
বসিরহাট দক্ষিণ পশ্চিমবঙ্গের একটি গুরুত্বপূর্ণ আধা-শহুরে বিধানসভা কেন্দ্র। যেখানে গত এক দশকেরও বেশি সময়ে ভোটারদের রাজনৈতিক পছন্দ বারবার বদলেছে। কখনও সিপিআই(এম), কখনও বিজেপি, আবার কখনও তৃণমূল কংগ্রেস, এই তিন দলের মধ্যেই ঘুরপাক খেয়েছে জনসমর্থন। ফলে কেন্দ্রটির রাজনৈতিক লড়াই বরাবরই খোলা ও অনিশ্চিত থেকেছে।
উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় অবস্থিত বসিরহাট দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রটি ২০১১ সালে গঠিত হয়। এটি একটি সাধারণ আসন এবং বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের একটি। এই কেন্দ্রের মধ্যে রয়েছে বসিরহাট পৌরসভা, বসিরহাট-১ ব্লক এবং টাকি পৌরসভা। শহর ও গ্রামের মিশেলে কেন্দ্রটির চরিত্র আধা-শহুরে।
এর আগে এই অঞ্চলটি অবিভক্ত বসিরহাট বিধানসভা কেন্দ্রের অংশ ছিল, যা ১৯৫১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত অস্তিত্বে ছিল। সীমানা পুনর্নির্ধারণ কমিশনের সুপারিশে ২০১১ সালের আগে ওই আসনটি ভেঙে বসিরহাট উত্তর ও বসিরহাট দক্ষিণ, এই দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়। বসিরহাট দক্ষিণ গঠনের পর এখনও পর্যন্ত চারবার নির্বাচন হয়েছে, যার মধ্যে ২০১৪ সালের একটি উপনির্বাচনও রয়েছে। ফলাফল বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয়, ভোটাররা কোনও একটি দলে স্থায়ীভাবে আটকে থাকেননি; বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিকল্প খুঁজেছেন।
২০১১ সালের প্রথম নির্বাচনে সিপিআই(এম)-এর প্রার্থী নারায়ণ মুখোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেসের নারায়ণ গোস্বামীকে ১২,৪১০ ভোটে হারান। তাঁর মৃত্যুর পরে ২০১৪ সালে উপনির্বাচন হয়। সেই নির্বাচনে চমক দেয় বিজেপি। ২০১১ সালে চতুর্থ স্থানে থাকা দলটির প্রার্থী শমীক ভট্টাচার্য তৃণমূলের দীপেন্দু বিশ্বাসকে ১,৫৮৬ ভোটে পরাজিত করেন।
তবে ২০১৬ সালে পাল্টে যায় ছবি। দীপেন্দু বিশ্বাস ২৪,০৫৮ ভোটে শমীক ভট্টাচার্যকে হারিয়ে তৃণমূলকে এই কেন্দ্রে প্রথম জয় এনে দেন। পরে দীপেন্দু বিজেপিতে যোগ দিলে ২০২১ সালের নির্বাচনে তৃণমূল সপ্তর্ষি বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রার্থী করে। তিনি বিজেপির তারক নাথ ঘোষকে ২৪,৪৬৮ ভোটে পরাজিত করেন। এই ফলাফল থেকেই বোঝা যায়, বর্তমানে তৃণমূল এগিয়ে থাকলেও বিজেপিই তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী।
লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলেও একই রকম ওঠানামা দেখা গেছে। ২০০৯ সালে বসিরহাট দক্ষিণ এলাকায় তৃণমূল সিপিআই-এর থেকে ২০,৩২৬ ভোটে এগিয়ে ছিল। কিন্তু ২০১৪ সালে বিজেপি এই কেন্দ্রে তৃণমূলের থেকে ৩০,২২৩ ভোট বেশি পেয়ে শীর্ষে উঠে আসে। পরবর্তী সময়ে আবার ঘুরে দাঁড়ায় তৃণমূল। ২০১৯ সালে তারা বিজেপির থেকে ১৪,৯০০ ভোটে এবং ২০২৪ সালে ১৫,০২৩ ভোটে এগিয়ে থাকে। অর্থাৎ, গত দু’টি লোকসভা নির্বাচনে ব্যবধান প্রায় একই রকম থেকেছে।
ভোটার সংখ্যার দিক থেকেও কেন্দ্রটি ক্রমেই বড় হচ্ছে। ২০২৪ সালে বসিরহাট দক্ষিণে মোট ভোটার ছিলেন ২,৮০,৫৪৩ জন। ২০২১ সালে এই সংখ্যা ছিল ২,৭৫,৯৩৪, ২০১৯ সালে ২,৬৪,৪৩১, ২০১৬ সালে ২,৪৯,৮০৭ এবং ২০১১ সালে ২,১৩,৪৪১। এখানে প্রায় ৪০.৭০ শতাংশ ভোটার মুসলিম এবং প্রায় ১৭.৫০ শতাংশ তফসিলি জাতিভুক্ত। ফলে সংখ্যালঘু ও তফসিলি জাতির ভোট এই কেন্দ্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জনবসতির দিক থেকে কেন্দ্রটি প্রায় সমানভাবে ভাগ করা ৪৪.৯১ শতাংশ গ্রামীণ এবং ৫৫.০৯ শতাংশ শহুরে ভোটার। ভোটার উপস্থিতিও তুলনামূলকভাবে বেশি এবং স্থিতিশীল, ২০১১ সালে ৮৭.২০ শতাংশ, ২০১৬ সালে ৮৬.৮১ শতাংশ, ২০১৯ সালে ৮৪.৮০ শতাংশ, ২০২১ সালে ৮৫.৫২ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ৮৪.০৫ শতাংশ ভোট পড়েছে।
বসিরহাট শহর এই কেন্দ্রের প্রাণকেন্দ্র। এটি বসিরহাট মহকুমার সদর দফতর এবং ইছামতি নদীর তীরে, বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে অবস্থিত। ব্রিটিশ আমলে বসিরহাট একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছিল। লবণ ও নীল ছিল তখনকার প্রধান পণ্য। আজও বসিরহাটের বাজার আশপাশের গ্রাম ও সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে মানুষকে টানে।
ইছামতি নদী বসিরহাট দক্ষিণের ভূগোল ও জীবনযাত্রায় বড় প্রভাব ফেলে। নদীর পলিমাটি কৃষি ও ইটভাটার জন্য উপকারী হলেও পলি জমা, ভাঙন ও বন্যা দীর্ঘদিনের সমস্যা। বসিরহাট ও টাকির মাঝখানে ইছামতি একদিকে সীমান্ত নদী, অন্যদিকে জীবিকা ও বাণিজ্যের পথ। কৃষি, ক্ষুদ্র শিল্প, ইটভাটা, মাছ ধরা, নৌ পরিষেবা এবং সীমান্তবর্তী পর্যটন, সব মিলিয়ে এখানকার অর্থনীতি গড়ে উঠেছে। সড়ক ও রেলপথে বসিরহাট কলকাতার সঙ্গে ভালোভাবেই যুক্ত। কলকাতা থেকে সড়কপথে দূরত্ব প্রায় ৬০-৭০ কিলোমিটার। শিয়ালদা-হাসনাবাদ শাখা রেলপথ বসিরহাটকে বারাসাত হয়ে শিয়ালদার সঙ্গে যুক্ত করেছে, যা নিত্যযাত্রীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রাজনৈতিক দিক থেকে দেখলে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বসিরহাট দক্ষিণে লড়াই যে হাড্ডাহাড্ডি হতে চলেছে, তা স্পষ্ট। বিজেপি এখানে তৃণমূলকে চ্যালেঞ্জ জানাতে তৈরি। বিশেষ করে ২০১৪ সালের পর থেকে তাদের উত্থান এবং ২০১৯ ও ২০২৪ সালে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠার প্রেক্ষিতে। বিজেপির সম্ভাবনা বাড়তে পারে যদি বামফ্রন্ট-কংগ্রেস ভোট কিছুটা পুনরুজ্জীবিত হয়ে তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে ভাগ বসায় এবং লড়াই ত্রিমুখী হয়। একই সঙ্গে বিজেপি হিন্দু ভোট একত্রিত করার কৌশল নেবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
Tarak nath ghosh
BJP
Amit majumdar
INC
Nota
NOTA
Debashis sarkar
BSP
Ajay kumar bain
SUCI
Aktar rasul bachhu
JSTDVPMTP
Samik bhattacharya
BJP
Amit majumdar
INC
Nota
NOTA
Debabrata biswas (babu)
CPI(ML)(L)
Dilip bairagi
BSP
Ajay kumar bain
SUCI
Barun das
PDS
Tasirul mondal
RPI(A)