
পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় বসিরহাট উত্তর বিধানসভা কেন্দ্র। এটি বসিরহাট লোকসভা আসনের অধীনে থাকা সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে অন্যতম। এখানে বহুদলীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা গিয়েছে চিরকাল। ২০১১ সালে গঠিত হয়েছিল এই কেন্দ্রটি। আগে বসিরহাট বিধানসভা আসনটিকে বসিরহাট উত্তর এবং বসিরহাট দক্ষিণে বিভক্ত করা হয়েছিল। মূল বসিরহাট আসনটি ১৯৫১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ছিল। নতুন আসন হওয়ার পর থেকে বসিরহাট উত্তরে চারবার নির্বাচন হয়েছে। এর মধ্যে ২০১১ সালের একটি উপনির্বাচনও অন্তর্ভুক্ত। ওই বছরের শুরুতে আসনে জয়লাভ করেছিলেন সিপিআই(এম)-এর মোস্তফা বিন কাসিম। তাঁর অকালমৃত্যুর পর অনুষ্ঠিত হয়েছিল উপনির্বাচন। সিপিআই(এম) এবং তৃণমূল কংগ্রেস দুটি আসনটিতে পালাক্রমে দু'বার করে জয়লাভ করেছে।...
পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় বসিরহাট উত্তর বিধানসভা কেন্দ্র। এটি বসিরহাট লোকসভা আসনের অধীনে থাকা সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে অন্যতম। এখানে বহুদলীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা গিয়েছে চিরকাল। ২০১১ সালে গঠিত হয়েছিল এই কেন্দ্রটি। আগে বসিরহাট বিধানসভা আসনটিকে বসিরহাট উত্তর এবং বসিরহাট দক্ষিণে বিভক্ত করা হয়েছিল। মূল বসিরহাট আসনটি ১৯৫১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ছিল। নতুন আসন হওয়ার পর থেকে বসিরহাট উত্তরে চারবার নির্বাচন হয়েছে। এর মধ্যে ২০১১ সালের একটি উপনির্বাচনও অন্তর্ভুক্ত। ওই বছরের শুরুতে আসনে জয়লাভ করেছিলেন সিপিআই(এম)-এর মোস্তফা বিন কাসিম। তাঁর অকালমৃত্যুর পর অনুষ্ঠিত হয়েছিল উপনির্বাচন। সিপিআই(এম) এবং তৃণমূল কংগ্রেস দুটি আসনটিতে পালাক্রমে দু'বার করে জয়লাভ করেছে। ২০১১ সালের উপনির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের এটিএম আবদুল্লাহ জয়ী হন।
বর্তমান বিধায়ক রফিকুল ইসলাম মণ্ডল আসনটিতে দুবার জিতেছেন। তাঁর প্রথম জয় আসে ২০১৬ সালে সিপিআই(এম) প্রার্থী হিসেবে। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীকে মাত্র ৪৯২ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। পরে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেন। ২০২১ সালের নির্বাচনে ৮৯,৩৫১ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাম-কংগ্রেস জোট সমর্থিত আইএসএফের মহম্মদ বায়জিদ আমিন দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন। বিজেপির নারায়ণচন্দ্র মণ্ডল অল্প ব্যবধানে তৃতীয় হন। তিনি আমিনের চেয়ে মাত্র ৩৬০ ভোটে পিছিয়ে ছিলেন।
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস বসিরহাট উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির চেয়ে ৮২,৯৫৫ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। ২০১৯ সালের সংসদীয় নির্বাচনের ব্যবধানের প্রায় সমান ছিল। যা ছিল ৮২,৭৫৬ ভোট। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বসিরহাট উত্তর কেন্দ্রে ২,৩৮,৬৭০ জন ভোটার ছিলেন। যা ২০২১ সালের মধ্যে বেড়ে ২,৬৮,০৩৪ জনে দাঁড়ায়। এই কেন্দ্রে মুসলিম ভোটাররা ফ্যাক্টর। যা মোট ভোটারের প্রায় ৬২.৭০ শতাংশ। তফসিলি ভোটারদের সংখ্যা প্রায় ১২.১৮ শতাংশ। এই কেন্দ্রটি মূলত গ্রামীণ। ৮২.৪ শতাংশ ভোটার থাকেন গ্রামে। বাকি ১৭.৬ শতাংশ আধা-শহুরে এলাকায় বসবাস করেন। ভোটের হার ধারাবাহিকভাবে বেশি থাকে। ২০১৬ সালে ৮৯.৬৬ শতাংশ এবং ২০২১ সালে ৮৮.৯৫ শতাংশ ভোট পড়েছিল।
ঐতিহাসিকভাবে বসিরহাট বাংলার সীমান্ত অঞ্চলের অংশ ছিল। এটি দীর্ঘদিন ধরে কৃষি আন্দোলন ও সীমান্ত রাজনীতির অংশ। এখানকার ভূখণ্ড সমতল ও নিচু, যা ইছামতি নদী এবং শাখা নদী দ্বারা পরিবেষ্টিত। বর্ষাকালে বন্যাও একটা চ্যালেঞ্জ।
কৃষিই স্থানীয় অর্থনীতির মেরুদণ্ড। ধান, পাট এবং সবজি প্রধান ফসল। মাছ ধরাও একটি প্রধান জীবিকা। বিশেষ করে নদী তীরবর্তী এলাকায়। শিল্প নেই বললেই চলে। ছোট কারখানা এবং কুটির শিল্প ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। কর্মসংস্থানের জন্য কলকাতা এবং আশেপাশের শহরগুলিতে যান তরুণরা।
নিকটতম শহর বসিরহাট শহর। যা নির্বাচনী এলাকার বেশিরভাগ অংশ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। রাজ্যের রাজধানী কলকাতা প্রায় ৬৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। সড়ক ও রেল উভয় পথেই সেখানে যাওয়া যায়। অন্যান্য কাছাকাছি শহরগুলির মধ্যে রয়েছে ২০ কিলোমিটার দূরে টাকি, ১৫ কিলোমিটার দূরে হাসনাবাদ এবং ৪০ কিলোমিটার দূরে বনগাঁ। ইছামতি নদীর ওপারে বাংলাদেশ। দেবহাটা এবং স্বরূপনগরের মতো শহরগুলি কাছাকাছি রয়েছে। ফলে এলাকাটি ভূ-রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল।
তৃণমূল কংগ্রেসের শক্তিশালী সংগঠন এই কেন্দ্রে। বিজেপি একটি শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী। ২০২৬ সালে বসিরহাট উত্তরে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। একসময় প্রভাবশালী সিপিআই(এম) এখন ব্যাকফুটে। অন্যদিকে কংগ্রেসের শক্তি নেই। বন্যা নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান এবং গ্রামীণ পরিকাঠামোর মতো জরুরি সমস্যাগুলি ইস্যু হতে পারে। জনসংখ্যার বিন্যাসের পরিপ্রেক্ষিতে সংখ্যালঘুদের ভোটই এখনে জয়-পরাজয় ঠিক করবে।
Md baijid amin
RSSCMJP
Narayan chandra mondal
BJP
Taslima khatun
IND
Nota
NOTA
Md kased ali sardar
IND
A.t.m. abdullah (rony)
AITC
Tarafan gazi
BJP
Abul kasem dhali
BSP
Nota
NOTA