
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬: কৃষ্ণনগর দক্ষিণ কেন্দ্র
পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া জেলায় কৃষ্ণনগর দক্ষিণ কেন্দ্র। কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত এটি। ১৯৫১ সালে এই বিধানসভা কেন্দ্র তৈরি হয়েছিল। সে সময়ে এটি অবিভক্ত কৃষ্ণনগর আসনের মধ্যে পড়ত। ১৯৬৭ সালে কৃষ্ণনগর আসন ভেঙে পূর্ব এবং পশ্চিম নাম দেওয়া হয়। যা ২০০৬ পর্যন্ত ছিল। ২০০৮ সালের ডিলিমিটেশন (সীমা নির্ধারণ) হওয়ার পর তৈরি হয় কৃষ্ণনগর উত্তর এবং কৃষ্ণনগর দক্ষিণ। ২০১১ সাল থেকে এই দুই কেন্দ্রে ভোট হচ্ছে। বর্তমানে কৃষ্ণনগর দক্ষিণ কেন্দ্রের মধ্যে পড়ে কৃষ্ণনগর ১ কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লকের ৫টি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং গোটা কৃষ্ণনগর ২ ব্লক।
২০১১ সাল থেকে কৃষ্ণনগর দক্ষিণ কেন্দ্রে ৩ বার বিধানসভা ভোট হয়েছে। প্রতিব...
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬: কৃষ্ণনগর দক্ষিণ কেন্দ্র
পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া জেলায় কৃষ্ণনগর দক্ষিণ কেন্দ্র। কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত এটি। ১৯৫১ সালে এই বিধানসভা কেন্দ্র তৈরি হয়েছিল। সে সময়ে এটি অবিভক্ত কৃষ্ণনগর আসনের মধ্যে পড়ত। ১৯৬৭ সালে কৃষ্ণনগর আসন ভেঙে পূর্ব এবং পশ্চিম নাম দেওয়া হয়। যা ২০০৬ পর্যন্ত ছিল। ২০০৮ সালের ডিলিমিটেশন (সীমা নির্ধারণ) হওয়ার পর তৈরি হয় কৃষ্ণনগর উত্তর এবং কৃষ্ণনগর দক্ষিণ। ২০১১ সাল থেকে এই দুই কেন্দ্রে ভোট হচ্ছে। বর্তমানে কৃষ্ণনগর দক্ষিণ কেন্দ্রের মধ্যে পড়ে কৃষ্ণনগর ১ কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লকের ৫টি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং গোটা কৃষ্ণনগর ২ ব্লক।
২০১১ সাল থেকে কৃষ্ণনগর দক্ষিণ কেন্দ্রে ৩ বার বিধানসভা ভোট হয়েছে। প্রতিবারই জয়লাভ করেছেন তৃণমূল প্রার্থী ঊজ্জ্বল বিশ্বাস। তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্যাবিনেটের একজন মন্ত্রীও বটে। ২০১১ এবং ২০১৬ সালের ভোটে তিনি CPIM প্রার্থীকে যথাক্রমে ১১ হাজার ২৮ এবং ১২ হাজার ৮১৪ ভোটে হারিয়েছিলেন। তৃতীয় স্থানে থাকা BJP ২০২১ সালে বেশ কিছুটা লাভবান হয় এই আসনে। ৯ হাজার ৩৫ ভোটে হেরেও দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসেন BJP-র মহাদেব সরকার।
২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে এই বিধানসভা কেন্দ্র থেকে BJP ৬ হাজার ৭২৪ ভোটে এগিয়ে ছিলেন। সেই থেকেই কৃষ্ণনগর দক্ষিণে ছাপ ফেলতে শুরু করে পদ্ম শিবির। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে এই বিধানসভা আসনে BJP ৮ হাজার ৯৩৮ ভোটে এগিয়ে ছিলেন। যা রীতিমতো তৃণমূল কংগ্রেসকে চিন্তায় রেখেছে।
২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের সময়ে এই কেন্দ্রের ভোটার সংখ্যা ছিল ২ লক্ষ ২৫ হাজার ১১৮। ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের সময়ে ছিল ২ লক্ষ ১৬ হাজার ৪২৯ এবং ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটের সময়ে ২ লক্ষ ১ হাজার ৭৯১। ২৭.৫০% মুসলিম ভোটার রয়েছে এই কেন্দ্রে। মূলত গ্রামীণ এই বিধানসভা কেন্দ্র এলাকার ১০.৯১% ভোটার শহুরে। বরাবরই ভোটের হার এখানে ভাল। ২০১১ সালে ছিল ৮৮.৩৯%, ২০১৬ সালে ৮৭.৮০%, ২০১৯ সালে ৮৫.৪৯%, ২০২১ সালে ৮৬.৯৩%।
জেলা সদর কৃষ্ণনগরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের আমল থেকে অর্থাৎ ১৮ শতাব্দী থেকে এই এলাকার পরিচিত। যা পরবর্তীতে সেই রাজার নামেই নামাঙ্কিত হয়। কৃষ্ণনগর রাজবাড়ি এই এলাকার সাংস্কৃতিক এবং ধর্মীয় পরিচয় বহন করছে। ঘূর্ণির মাটির শিল্পের জন্য এই অঞ্চল বিখ্যাত।
ভাগীরথীর অববাহিকায় মূলত উর্বর জমিই কৃষ্ণনগর দক্ষিণের ভৌগলিক অবস্থানের পরিচয় বহন করে। এই অঞ্চল দিয়ে বয়ে গিয়েছে জলঙ্গি নদী। ফলে কৃষিকাজে এই এলাকা উন্নত। ধান, জুট এবং সবজি চাষ হয় এখানে। অর্থনীতি মূলত নির্ভরশীল কৃষিকাজের উপরই। এছাড়াও ক্ষুদ্রশিল্প, ছোট কারখানা রয়েছে। চাকরি করতে নিটকবর্তী শহরে যান স্থানীয় মানুষ, অথবা পাড়ি দেন কলকাতা কিংবা দেশের অন্যান্য বড় শহরে।
এই কেন্দ্রের পরিকাঠামো উন্নত হচ্ছে। রেল ও সড়কপথে সংযুক্ত কৃষ্ণনগর দক্ষিণ কেন্দ্রটি। শিয়ালদা-লালগোলা লাইনের সঙ্গে এই কেন্দ্র যুক্ত কৃষ্ণনগর সিটি জংশন স্টেশনের মাধ্যমে।
কলকাতা থেকে কৃষ্ণনগরের দূরত্ব ১০৫ কিমি। শান্তিপুর থেকে এটি ২৫ কিমি, রানাঘাট থেকে ৩৫ কিমি, কল্যাণী থেকে ৪০ কিমি দূরে অবস্থিত। এর পূর্বে রয়েছে বাংলাদেশ। মেহেরপুর শহরে এই কেন্দ্রের সীমান্ত লাগোয়া। উত্তরে রয়েছে মুর্শিদাবাদ এবং দক্ষিণে উত্তর ২৪ পরগনা।
২০২৬ নির্বাচনের আগে এই কেন্দ্র নিয়ে সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিত বসে নেই তৃণমূল। লোকসভা নির্বাচনগুলি BJP-র ভোটের হার বৃদ্ধি তৃণমূলকে বুঝিয়েছে, আগামী নির্বাচনে এই কেন্দ্র থেকে জয় মোটে সহজ হবে না। কারণ মার্জিন ক্রমশই কমেছে। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পূর্বাভাস দিচ্ছে পরিসংখ্যানই।
Mahadev sarkar
BJP
Biswas sumit
CPI(M)
Nota
NOTA
Swapan kumar sarkar
BSP
Ananda modak
IND
Santu bhattacharya
CPI(ML)(L)
Debasish majhi
IND
Meghlal sheikh
CPM
Mahadev sarkar
BJP
Nota
NOTA
Sudeb sarkar
BSP
Anchharul haque biswas
CPI(ML)(L)