
এই আসনে এখনও রাজা তৃণমূল। তবে ঘাড়েই নিশ্বাস ফেলছে বিজেপি। তাই আশা করা যায়, ২০২৬-এ এখানে ভালই লড়াই হবে। উত্তর ২৪ পরগনার একটি হাই প্রোফাইল কেন্দ্র হল বারাসত। এটি জেলার সদর শহর। এটি কলকাতা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট অথরিটির অংশ। আর এই কেন্দ্রটি জেনারেল ক্যাটাগরির। এটি বারাসত লোকসভা কেন্দ্রের ৭টি বিধানসভা অংশের একটি। বিধানসভা কেন্দ্রটি বারাসত পৌরসভার পুরো এলাকা এবং বারাসত ১ ব্লকের ছোট জাগুলিয়া গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত। কবে থেকে ভোট হয়? বারাসত প্রথমবার ১৯৫১ সালে বিধানসভা কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। তারপর থেকে প্রতিটি বিধানসভা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে এটি। একসময় এখান থেকে টানা জিতেছে অল ইন্ডিয়া ফরওয়ার্ড ব্লক। তারা এই কেন্দ্রে মোট ৯ বার জয় পেয়েছে। ...
এই আসনে এখনও রাজা তৃণমূল। তবে ঘাড়েই নিশ্বাস ফেলছে বিজেপি। তাই আশা করা যায়, ২০২৬-এ এখানে ভালই লড়াই হবে। উত্তর ২৪ পরগনার একটি হাই প্রোফাইল কেন্দ্র হল বারাসত। এটি জেলার সদর শহর। এটি কলকাতা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট অথরিটির অংশ। আর এই কেন্দ্রটি জেনারেল ক্যাটাগরির। এটি বারাসত লোকসভা কেন্দ্রের ৭টি বিধানসভা অংশের একটি। বিধানসভা কেন্দ্রটি বারাসত পৌরসভার পুরো এলাকা এবং বারাসত ১ ব্লকের ছোট জাগুলিয়া গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত। কবে থেকে ভোট হয়? বারাসত প্রথমবার ১৯৫১ সালে বিধানসভা কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। তারপর থেকে প্রতিটি বিধানসভা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে এটি। একসময় এখান থেকে টানা জিতেছে অল ইন্ডিয়া ফরওয়ার্ড ব্লক। তারা এই কেন্দ্রে মোট ৯ বার জয় পেয়েছে। এছাড়া কংগ্রেস এবং তৃণমূল কংগ্রেস চারবার করে আসনটি জিতেছে। তৃণমূল কংগ্রেস ২০০১ সালে বারাসতে প্রথম জয় পায়। ২০০৬ সালে ফরওয়ার্ড ব্লক অবশ্য আসনটি আবার জিতে নেয়। ২০১১ সালে তৃণমূল আবার এই আসনটি কেড়ে নেয়। সেই থেকে টিএমসি-এর তারকা প্রার্থী দীপক চক্রবর্তী (চিরঞ্জিৎ) পরপর তিনবার এখানে জয়ী হন। তিনি ২০১১ সালে ফরওয়ার্ড ব্লকের সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়কে ৪০,২১১ ভোটে এবং ২০১৬ সালে ২৪,৯৯৯ ভোটে হারান। তবে ২০২১ সালে ফরওয়ার্ড ব্লকের প্রভাব এখানে কমে যায়। তখন থেকেই বিজেপি এখানে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে। তবে তাতে কিছুই এসে যায়নি। তিনি সেই ভোটেও বিজেপির শঙ্কর চট্টোপাধ্যায়কে ২৩,৭৮৩ ভোটে পরাজিত করে। এখানে ২০০৯ সাল থেকেই লোকসভা ভোটে তৃণমূল এগিয়ে থেকেছে। ২০০৯ সালে তৃণমূলের লিড ছিল ১৯,৮০১ ভোটের। লিড ২০১৪ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ২৫,৪৯২ ভোটে। এ সময় বিজেপি ফরওয়ার্ড ব্লকের জায়গায় প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে। তবে তৃণমূলের ব্যবধান ২০১৯ সালে কমে দাঁড়ায় ৩,৫৯০। আর ২০২৪ সালে আরও কমে মাত্র ৩,১৭২ ভোটে দাঁড়ায় লিড। ২০২৪ সালে এখানে মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল ২,৮৮,০৬৪— যা ২০২১ সালের ২,৭৯,৫৯২ এবং ২০১৯ সালের ২,৬৩,১২৮ থেকে অনেকটাই বেশি। তফসিলি জাতি ভোটারের সংখ্যা এখানে সবচেয়ে বেশি। তাদের ভোটের অংশ ১৭.০৮ শতাংশ। এরপর রয়েছে মুসলিম ভোটার। তাদের অংশ ১৬.৬০ শতাংশ। এছাড়া এখানে তফসিলি উপজাতি ভোটারের সংখ্যা ১.২১ শতাংশ। বারাসত মূলত একটি শহুরে কেন্দ্র। এখানকার ৮৯.৭১ শতাংশ ভোটার শহরে বসবাস করেন। মাত্র ১০.২৯ শতাংশ গ্রামীণ ভোটার। এখানে ভোটদানের হার ধারাবাহিকভাবে বেশি ছিল। তবে ধীরে ধীরে সেই হার কমছে। ২০১১ সালে ৮৪.৪৫ শতাংশ, ২০১৬ সালে ৮৩.০৯ শতাংশ, ২০১৯ সালে ৮১.৩৭ শতাংশ এবং ২০২১ সালে ৮০.৭৩ শতাংশে গিয় দাঁড়ায় ভোটের হার। বাংলার ইতিহাসে বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে বারাসত। মুঘল আমলে যশোরের রাজা প্রতাপাদিত্যর অধীনস্থ সেনাপতি শঙ্কর চক্রবর্তী ১৬০০–এর দশকের শুরুর দিকে এখানে বসতি স্থাপন করেন। ব্রিটিশ আমলে বারাসত কলকাতার সাহেবদের সপ্তাহান্তের আমোদের জায়গা হয়ে ওঠে। ওয়ারেন হেস্টিংস এখানে নিজের বাগানবাড়ি নির্মাণ করেছিলেন। মাথায় রাখতে হবে, ১৮৬৯ সালে বারাসত পৌরসভা গঠিত হয়। বর্তমানে বারাসত একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র। এখান থেকে মূলত চাল, আলু, আখ, ডাল, নারকেলের ব্যবসা হয়। জেলা সদর হওয়ায় উত্তর ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকা এবং পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে বহু মানুষ প্রতিদিন এখানে যাতায়াত করেন। এখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল। জাতীয় সড়ক ১২, যশোর রোড বারাসতে উপর দিয়েই গিয়েছে। এখান থেকে নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর মাত্র ২১ কিলোমিটার দূরে। বারাসত রেলস্টেশন থেকে শিয়ালদা, বনগাঁ, বসিরহাট, হাবরা রেলের মাধ্যমে যুক্ত। আগামিদিনে নোয়াপাড়া–বারাসত মেট্রো লাইন চালু হলে বারাসত–কলকাতার যোগাযোগ আরও মজবুত হবে। মাথায় রাখতে হবে, বারাসত শহরটি ঘনবসতিপূর্ণ। বারাসতের বিশেষ উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থানের মধ্যে রয়েছে লর্ড হেস্টিংসের বাগানবাড়ি, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বাসভবন, কামাখ্যা মন্দির ও আমডাঙা কালীবাড়ি। বারাসত থেকে কলকাতার দূরত্ব প্রায় ২৫ কিলোমিটার। আবার নিউ টাউনের দূরত্ব মাত্র ১৩ কিলোমিটার। বাংলাদেশ সীমান্তের যশোর জেলার পেট্রাপোল ৫১ কিলোমিটার দূরে। কী হতে পারে? বারাসতে বিজেপি ধীরে ধীরে শক্তি বাড়িয়েছে। আশা করা যায়, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসকে তারা ভালোই চাপে রাখবে। এমনকী ১৫ বছর ছিনিয়েও নিতে পারে আসন। আবার তৃণমূল নতুন করে নিজের শক্তি প্রদর্শন করতে পারে। তবে এই কেন্দ্রেও বাম-কংগ্রেস জোটের প্রভাব পড়ার আশা খুবই কম।
Sankar chatterjee
BJP
Sanjib chattopadhyay
AIFB
Nota
NOTA
Sunil chandra roy
BSP
Tarun dhar
IND
Mohan lal adhikari
AMB
Amit kumar chakraborty
IND
Sudarshan das
JASP
Kshama debnath (panda)
SUCI
Chattopadhyay sanjib
AIFB
Dr. bithika mandal
BJP
Nota
NOTA
Sunil chandra roy
BSP
Biplab dutta
SUCI
Ashim kanti ghosh
SHS