
পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার স্বরূপনগর বিধানসভা কেন্দ্রটি তপসিলি জাতি সম্প্রদায়ের জন্য সংরক্ষিত। বনগাঁ লোকসভার সাতটি বিধানসভার মধ্যে এটি একটি। ২০০৮ সালে সীমানা নির্ধারণ কমিশনের নির্দেশ মোতাবেক আসনটি তপশিলি জাতিদের জন্য সংরক্ষিত করা হয়। ২০১১ সাল থেকে তা কার্যকর হয়। তার আগে স্বরূপনগর জেনারেল ক্যাটাগরির ছিল। এই নির্বাচনী ক্ষেত্রটি বাদুড়িয়া ব্লকের রামচন্দ্রপুর উদয়, সায়েস্তা নগর ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এবং স্বরূপনগর ব্লক নিয়ে গঠিত। ১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিধানসভা কেন্দ্রটিতে এখনও পর্যন্ত ১৭ বার ভোট হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের অনেক কেন্দ্রের মতো এই আসনেও এক সময় বাম ও কংগ্রেসের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হত। একান থেকে কংগ্রেস চারবার ও বামেরা ৯ বার জিতেছে। ১৯৭৭ থেকে ...
পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার স্বরূপনগর বিধানসভা কেন্দ্রটি তপসিলি জাতি সম্প্রদায়ের জন্য সংরক্ষিত। বনগাঁ লোকসভার সাতটি বিধানসভার মধ্যে এটি একটি। ২০০৮ সালে সীমানা নির্ধারণ কমিশনের নির্দেশ মোতাবেক আসনটি তপশিলি জাতিদের জন্য সংরক্ষিত করা হয়। ২০১১ সাল থেকে তা কার্যকর হয়। তার আগে স্বরূপনগর জেনারেল ক্যাটাগরির ছিল। এই নির্বাচনী ক্ষেত্রটি বাদুড়িয়া ব্লকের রামচন্দ্রপুর উদয়, সায়েস্তা নগর ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এবং স্বরূপনগর ব্লক নিয়ে গঠিত। ১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিধানসভা কেন্দ্রটিতে এখনও পর্যন্ত ১৭ বার ভোট হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের অনেক কেন্দ্রের মতো এই আসনেও এক সময় বাম ও কংগ্রেসের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হত। একান থেকে কংগ্রেস চারবার ও বামেরা ৯ বার জিতেছে। ১৯৭৭ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত টানা সাতবার জিতেছিলেন সিপিআইএম প্রার্থী। তবে সীমানা নির্ধারণের পর থেকে আসনটিকে দখলে রেখেছেন তৃণমূলের বীণা মণ্ডল। রাজ্যের শাসকদলের প্রার্থী বীণা মণ্ডল ২০১১ সালে সিপিআই(এম) এর শিবপদ দাসকে ৭,৪১৪ ভোটে এবং ২০১৬ সালে ধীমান সরকারকে ১১,৯৪১ ভোটে হারান। তারপর ২০২১ সালে বিপক্ষের প্রার্থীরে হারানোর ব্যবধান আরও বেড়ে যায়। সেবার বিজেপির বৃন্দাবন সরকারকে ৩৪,৮০০ ভোটে হারতে হয়। সংগঠন দুর্বল হওয়ার কারণে সিপিআই(এম) এর প্রার্থী বিশ্বজিৎ মণ্ডল তিন নম্বরে চলে আসেন। ২০১৬ সালে বামেরা এই আসনে ভোট পেয়েছিল ৪২.৩৯ শতাংশ। ২০২১ সালে তাই নেমে আসে ২০.৪৪ শতাংশে। বিজেপি ভোট পায় ৩০.৬৯ শতাংশ। তৃণমূল ৪৭ শতাংশের সামান্য বেশি। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকে স্বরূপনগর বিধানসভায় ভোট বাড়তে শুরু করে গেরুয়া শিবিরের। সেবার তারা পায় ৩৫ শতাংশ। ২০১৬ সালে ৩৯ শতাংশ ভোট পাওয়া সিপিআই(এম)-র ভোট কমে হয় ১১.৭০ শতাংশ। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও একই ধারার পুনরাবৃত্তি ঘটে। তৃণমূল বিজেপির থেকে ৩৯,২১৮ বেশি এগিয়ে ছিল। কংগ্রেস ও বামেরা জোট করলেও ভোট বাক্সে তার প্রভাব পড়েনি। ভোট কমে যায় জোটের। ২০২৪ সালে স্বরূপনগরে মোট নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ২৬৫,৬৪১ জন। মুসলিম ভোটার ৪৪.১০ শতাংশ। তপসিলি ২৯.৬৪ শতাংশ। নির্বাচনী এলাকাটি মূলত গ্রামীণ। মোট ভোটারের মাত্র ১.৪৮ শতাংশ শহরাঞ্চলের। ভোটারদের উপস্থিতির হার ধারাবাহিকভাবে বেশি। ২০২৪ সালে এই কেন্দ্রে ভোট পড়েছিল ৮১.৭১ শতাংশ। ২০২১ সালে ৮৬.১৭, ২০১৯ এবং ২০১৬ সালে ভোটারদের উপস্থিতি যথাক্রমে ৮২.০৫ এবং ৮৫.৭৯ শতাংশ। স্বরূপনগর কেন্দ্রটি ইছামতি ও রায়মঙ্গল নদীর সমভূমিতে অবস্থিত। এই অঞ্চলটি সমতল এবং উর্বর। দোআঁশ এবং পলিমাটির আধিক্যর কারণে কৃষিকাজ ভালো হয়। উৎপাদিত ফসলের মধ্যে রয়েছে ধান, পাট এবং আলু। মাছ চাষও হয়। প্রায় ৩০ হাজার মানুষ এই পেশায় জড়িত। সমস্ত গ্রামে বিদ্যুৎ এবং পানীয় জলের ব্যবস্থা রয়েছে। নিকটতম রেলস্টেশন মসলন্দপুর প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। তবে এখানকার জলে আর্সেনিক রয়েছে। যা বেশ উদ্বেগের। কাছাকাছি শহরগুলির মধ্যে রয়েছে বসিরহাট। যা প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। উত্তর ২৪ পরগনার সদর শহর বারাসত স্বরূপনগর থেকে ৪৫ কিলোমিটার দূরে। কলকাতার দূরত্ব প্রায় ৭৫ কিলোমিটার। স্বরূপনগর বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলার সঙ্গে পূর্ব সীমান্ত ভাগ করে নিয়েছে। এই বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির ক্ষমতা বাড়লেও তৃণমূলের সংগঠন এখনও মজবুত। ২০২৬ সালের নির্বাচনে এগিয়ে রয়েছে ঘাসফুল শিবির। বামফ্রন্ট-কংগ্রেস জোট পুনরুজ্জীবিত হলে তৃণমূলের মুসলিম ভোট ব্যাঙ্কে প্রভাব পড়তে পারে।
Brindaban sarkar
BJP
Biswajit mandal
CPI(M)
Nota
NOTA
Mrinmoy mondal
IND
Debabrata biswas
SUCI
Prabir sarkar
IND
Dhiman sarkar
CPM
Mihir kumar bagchi
BJP
Nota
NOTA
Shibani halder
SUCI
Santosh kumar biswas
BSP