
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬: চৌরঙ্গি কেন্দ্র
কলকাতার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত চৌরঙ্গি বিধানসভা কেন্দ্র। জেনারেল ক্যাটাগরির এই বিধানসভা আসন তৈরি হয়েছিল ১৯৫৭ সালে। কলকাতার অন্যতম জনপ্রিয় এবং পরিচিত আসন এটি। ২০০৬ সালের পুনর্বিন্যাসের পর এই কেন্দ্রের মধ্যে পড়ে কলকাতা পুরসভার ১১টি ওয়ার্ড (৪৪ থেকে ৫৩ এবং ৬২)। কলকাতা উত্তর লোকসভা কেন্দ্রের আওতায় পড়ছে এই বিধানসভা আসনটি।
জন্মলগ্ন থেকে ১৮বার ভোট হয়েছে এই কেন্দ্রে। ১৯৯৩ এবং ২০১৪ সালে হয়েছে উপনির্বাচন। মূলত কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি ছিল এই বিধানসভা আসন। পরবর্তীতে তৃণমূল নিজেদের দাপট তৈরি করেছে। তবে কেবলমাত্র ১৯৭৭ সালে এই আসনে জিতেছিল জনতা পার্টি। ১৯৯৩ সালের উপনির্বাচনে জিতেছিল CPIM। ১০ বার জিতেছিল কংগ্রেস, ২০০১ ...
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬: চৌরঙ্গি কেন্দ্র
কলকাতার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত চৌরঙ্গি বিধানসভা কেন্দ্র। জেনারেল ক্যাটাগরির এই বিধানসভা আসন তৈরি হয়েছিল ১৯৫৭ সালে। কলকাতার অন্যতম জনপ্রিয় এবং পরিচিত আসন এটি। ২০০৬ সালের পুনর্বিন্যাসের পর এই কেন্দ্রের মধ্যে পড়ে কলকাতা পুরসভার ১১টি ওয়ার্ড (৪৪ থেকে ৫৩ এবং ৬২)। কলকাতা উত্তর লোকসভা কেন্দ্রের আওতায় পড়ছে এই বিধানসভা আসনটি।
জন্মলগ্ন থেকে ১৮বার ভোট হয়েছে এই কেন্দ্রে। ১৯৯৩ এবং ২০১৪ সালে হয়েছে উপনির্বাচন। মূলত কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি ছিল এই বিধানসভা আসন। পরবর্তীতে তৃণমূল নিজেদের দাপট তৈরি করেছে। তবে কেবলমাত্র ১৯৭৭ সালে এই আসনে জিতেছিল জনতা পার্টি। ১৯৯৩ সালের উপনির্বাচনে জিতেছিল CPIM। ১০ বার জিতেছিল কংগ্রেস, ২০০১ থেকে ৬ বার জিতেছে তৃণমূল।
দুই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ডা: বিধানচন্দ্র রায় এবং সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায় এই কেন্দ্রেরই বিধায়ক ছিলেন। ডা: বিধান রায় এই আসন জেতেন ১৯৬২ সালে এবং সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায় ১৯৬৭, ১৯৬৯ এবং ১৯৯১ সালে। ১৯৯২ সালে সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায় এই আসন থেকে বিধায়কের পদ ছেড়ে রাষ্ট্রসঙ্ঘের ভারতীয় রাষ্ট্রদূত হন। ফলত ১৯৯৩ সালে উপনির্বাচন হয় এই কেন্দ্রে।
তৃণমূল কংগ্রেস এই আসনে দারুণ মার্জিনে জয় পয়েছে। ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শিখা চৌধুরী মিত্র রাষ্ট্রীয় জনতা দলের বিমল সিংকে হারান ৫৭ হাজার ৭৩৯ ভোটে। ৫২.৯০% ভোট পেয়েছিল তৃণমূল। হিন্দিভাষীদের ভোট পেতে এই আসন RJD-কে ছেড়ে দেওয়া বামেদের অন্যতম ভুল সিদ্ধান্ত বলেই মনে করা হয়। ২০১৪ সালের উপনির্বাচনে (শিখা চৌধুরীর দলত্যাগের কারণে) পরিচিত বাঙালি ছবির অভিনেত্রী নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়কে এই কেন্দ্র থেকে দাঁড় করায় তৃণমূল। তিনি BJP-র রিতেশ তিওয়ারিকে ১৪ হাজার ৩৪৪ ভোটে হারান। পরবর্তী নির্বাচনে ২০১৬ সালে কংগ্রেস নেতা সোমেন মিত্রকে ১৩ হাজার ২১৬ ভোটে হারান নয়না। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে BJP-র দেবদত্ত মাজিকে হারান ৪৫ হাজার ৩৪৪ ভোটে।
২০০৯, ২০১৯, এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময়েও চৌরঙ্গি বিধানসভা আসনে এগিয়ে ছিল তৃণমূল। তবে ২০১৪ সালে কংগ্রেস এগিয়ে ছিল ১ হাজার ৫৪৮ ভোটে। ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে এই কেন্দ্র থেকে তৃণমূল এগিয়ে ছিল ২৬ হাজার ৫৬০ ভোটে। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে রাজ্যের শাসকদল এগিয়ে ছিল ১৪ হাজার ৬৪৫ ভোটে। ২০১৯ সাল থেকেই অবশ্য এই কেন্দ্রে শাসকদলকে চ্যালেঞ্জ দিচ্ছে BJP। ২০১৯ লোকসভা ভোটে চৌরঙ্গি কেন্দ্রে কংগ্রেসের ভোটের হার ছিল মোটে ৫.৫০%। বামেদের সঙ্গে জোট করার পর কংগ্রেসের ভোটের হার এই কেন্দ্রে সামান্য বেড়ে দাঁড়ায় ১২.৮০%। ২০২৪ সালের বিধানসভা ভোটে কংগ্রেসের ভোটের হার ছিল ১৫.৭৪%।
২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের সময়ে চৌরঙ্গি কেন্দ্রের মোট ভোটার সংখ্যা ২ লক্ষ ৯ হাজার ৭১৩। যা ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের সময়কালীন ২ লক্ষ ৮ হাজার ২০১ ভোটারের থেকে বেশি। এই কেন্দ্রের মোট মুসলিম ভোটার ৩৭.৭০%, SC ভোটারের সংখ্যা ২.৬৯%। চৌরঙ্গি সমস্ত ভোটারই শহুরে। তবে এই কেন্দ্রে বরাবরই ভোটের হার কম। ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছিল সম্প্রতি (৫৮.৪০%)। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৫৩.৬১%, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৫৫.৪০%, ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৫৬.২০% এবং ২০১১ সালের নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৫৪.৪২%।
মধ্য কলকাতার অনেকটা বড় এলাকা এই কেন্দ্রের অন্তর্গত। ঐতিহাসিক এই এলাকায় বাণিজ্যিক কেন্দ্রও রয়েছে। ১৮ শতাব্দী থেকে চৌরঙ্গি এলাকার নাম রয়েছে। ব্রিটিশরা ফোর্ট উইলিয়াম স্থাপন করার পর ময়দানকে পূর্বদিক পর্যন্ত বিস্তৃত করায় চৌরঙ্গি পরিচিতি পায়। ব্রিটিশ আমলের বাড়ি, একাধিক হেরিটেজ হোটেল, উচ্চবিত্তদের ক্লাব, ঐতিহ্যবাহী ব্যবসা, ব্যস্ত বাজারের জন্য এই এলাকা বিখ্যাত। দীর্ঘ দশক ধরে চৌরঙ্গি কলকাতার ব্যবসা, মনোরঞ্জন এবং কেনাকাটার প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। ওবেরয় গ্র্যান্ড, পিয়ারলেস ইনের মতো আইকনিক হোটেল, ঐতিহ্যবাহী রেস্তোরাঁ এই কেন্দ্রের মধ্যেই পড়ে। এছাড়াও এই কেন্দ্রের মধ্যে রয়েছে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল, রাজ ভবন, মেট্রপলিটন বিল্ডিং এবং শহিদ মিনার। দেশের অন্যান্য মেট্রপলিটন শহরগুলির তুলনায় কলকাতা অনেকটাই আলাদা ময়দান এলাকার জন্য। সুবিশাল এলাকা জুড়ে থাকা ময়দান এলাকা চৌরঙ্গি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যেই পড়ে।
চৌরঙ্গি কেন্দ্রের যোগাযোগ ব্যবস্তা অত্যন্ত উন্নত। সড়ক এবং মেট্রো পথেই রয়েছে একাধিক সরকারি দফতর, কলেজ, হাসপাতাল এবং রেল স্টেশন। তবে বছরের পর বছর পুরনো ভগ্নদশা বাড়ি এই এলাকার একটি অতি বড় সমস্যা। এছাড়াও রয়েছে যানজটের মাথাব্যথা। রিটেল, ক্ষুদ্র ব্যবসা এই এলাকার অন্যতম ভিত্তি। এখানে ভিন্ন ভাষাভাষী, জাতির মানুষের বাস।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলকেই এই কেন্দ্র থেকে এগিয়ে রাখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অধিকাংশ। গত ৭ নির্বাচনের মধ্যে ৬টিতেই জয়ী হয়েছিল রাজ্য শাসকদল। তবে BJP এবং বাম-কংগ্রেস জোট কিছু কিছু ক্ষেত্রে কড়া চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে তৃণমূলকে। ফলে জমজমাট ভোটের লড়াই দেখা যেতে পারে এই কেন্দ্রে।
Devdutta maji
BJP
Santosh kumar pathak
INC
Nota
NOTA
Swaminath kori
BSP
Manika paul
SUCI
Sumanta bhowmick
IND
Sayantan patra
IND
Ishrat khan
IND
Ashish agarwal
IND
Anil kumar singh
JD(U)
Ajay kumar gupta
BMF
Somendranath mitra
INC
Ritesh tiwari
BJP
Nota
NOTA
Kartik kumkar ray
SUCI
Debajyoti sengupta
IND
Dipankar dey
IND
Shahzad anwar
LJP
Anirban mukherjee
IND