
পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার রাজারহাট গোপালপুর বিধানসভা কেন্দ্রটি দমদম লোকসভা আসনের সাতটি বিধানসভার মধ্যে একটি। এটি বিধাননগর পৌর কর্পোরেশনের ৪১টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৬টি নিয়ে গঠিত। যার মধ্যে রয়েছে ৬ থেকে ১১, ১৫ থেকে ১৯ এবং ২২ থেকে ২৬ নম্বর ওয়ার্ড। রাজারহাট গোপালপুর কলকাতা মেট্রোপলিটন এলাকার অংশ। একসময় গ্রাম ছিল, তবে দ্রুত শহরতলির সম্প্রসারণের ফলে এখানে এখন নিউ টাউন আইটি হাব, আবাসিক কমপ্লেক্স এবং বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলি গড়ে উঠেছে। ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই নির্বাচনী এলাকাটি এখন পর্যন্ত ১৫টি বিধানসভা নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) সর্বোচ্চ আটটি নির্বাচনে জয়লাভ করেছে। অবিভক্ত ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি ১৯৬২ সালে প্রথম নির্বাচনে...
পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার রাজারহাট গোপালপুর বিধানসভা কেন্দ্রটি দমদম লোকসভা আসনের সাতটি বিধানসভার মধ্যে একটি। এটি বিধাননগর পৌর কর্পোরেশনের ৪১টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৬টি নিয়ে গঠিত। যার মধ্যে রয়েছে ৬ থেকে ১১, ১৫ থেকে ১৯ এবং ২২ থেকে ২৬ নম্বর ওয়ার্ড। রাজারহাট গোপালপুর কলকাতা মেট্রোপলিটন এলাকার অংশ। একসময় গ্রাম ছিল, তবে দ্রুত শহরতলির সম্প্রসারণের ফলে এখানে এখন নিউ টাউন আইটি হাব, আবাসিক কমপ্লেক্স এবং বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলি গড়ে উঠেছে। ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই নির্বাচনী এলাকাটি এখন পর্যন্ত ১৫টি বিধানসভা নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) সর্বোচ্চ আটটি নির্বাচনে জয়লাভ করেছে। অবিভক্ত ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি ১৯৬২ সালে প্রথম নির্বাচনে জয়লাভ করেছিল। কংগ্রেস ১৯৭১ এবং ১৯৭২ সালে জয়লাভ করে। তৃণমূল কংগ্রেস এখন পর্যন্ত চারটি জয়লাভ করেছে, যার মধ্যে ২০০১ সালে প্রথম জয়ের পর ২০১১ সাল থেকে টানা তিনবার জয়লাভ করেছে। পূর্ণেন্দু বসু তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে দু'বার এই আসনটি জিতেছিলেন। তিনি সিপিআই(এম) মনোনীত প্রার্থীকে পরাজিত করেছিলেন। তিনি ২০১১ সালে রবীন্দ্রনাথ মণ্ডলকে ৩৫,৭২৫ ভোটে পরাজিত করেছিলেন এবং তারপরে ২০১৬ সালে নেপালদেব ভট্টাচার্যকে ৬,৮৭৪ ভোটে পরাজিত করেছিলেন। ভারতীয় জনতা পার্টি, এই দুটি নির্বাচনে যথাক্রমে ২.৫৫ শতাংশ এবং ১১.৯৭ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে ছিল। ২০২১ সালে, তৃণমূলের অদিতি মুন্সি আসনটি জিতেছিলেন, বিজেপি প্রার্থী শমীক ভট্টাচার্যকে ২৫,২৯৬ ভোটে তিনি পরাজিত করেছিলেন। রাজারহাট গোপালপুর বিধানসভা কেন্দ্রের লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপির মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা লক্ষ্য করা গেছে। ২০০৯ সালে, তৃণমূল এখানে সিপিআই(এম)-এর থেকে ৭,৩৭৪ ভোটে এগিয়েছিল এবং ২০১৪ সালে এই ব্যবধান ২৩,০১০ ভোটে দাঁড়িয়েছিল কারণ বিজেপি প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে সিপিআই(এম)-কে পেছনে ফেলে দেয়। ২০১৯ সালে বিজেপির থেকে এই কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস ৭৪৩ ভোটে এগিয়ে ছিল, যদিও ২০২৪ সালে ব্যবধান আরও কমে যায়। গত লোকসভা ভোটে তৃণমূল বিজেপির থেকে মাত্র ৭৪ ভোটের লিড পায়। ২০২৪ সালে রাজারহাট গোপালপুরে ২,৬৯,৩০১ জন রেজিস্ট্রেড ভোটার ছিলেন, যা ২০২১ সালে ২৫৭,৪৪৭ এবং ২০১৯ সালে ২,৩৯,৫৫১ জন ছিল। এই হার নগর ভোটারদের স্থিতিশীল বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। এটি সম্পূর্ণরূপে শহর কেন্দ্রিক নির্বাচনী এলাকা যেখানে কোনও গ্রামীণ ভোটার নেই। তফসিলি জাতি জনসংখ্যার ১৪.৭৫ শতাংশ এবং তফসিলি উপজাতি ১.১৮ শতাংশ, অন্যদিকে মুসলিমদেরও তুলনামূলকভাবে সংখ্যাটা কম। নগরায়নের গতির ফলে অনেক দরিদ্র আদি বাসিন্দা তাদের জমি বিক্রি করে কলকাতার বাইরের প্রান্তে বা কাছাকাছি গ্রামে চলে গেছেন, যা এলাকার সামাজিক ও অর্থনৈতিক রূপরেখা পরিবর্তন করেছে। রাজারহাট গোপালপুরে ভোটদানের হার যদিও কমছে, তবুও শহরাঞ্চলীয় আসনের তুলনায় বেশি রয়েছে। ২০১১ সালে ভোটদানের হার ৭৭.৯৯ শতাংশে পৌঁছেছিল, তারপর ২০১৬ সালে ৭১.৭৭ শতাংশ, ২০১৯ সালে ৭১.৯৭ শতাংশ, ২০২১ সালে ৬৯.৫৮ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ৬৮.৭১ শতাংশে নেমে আসে। রাজারহাট গোপালপুর মধ্য কলকাতা এবং নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সঙ্গে সুসংযুক্ত। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, উড়ালপুল এবং কলকাতা শহরতলি রেলওয়ে এবং মেট্রো করিডোরের মাধ্যমে দমদম এবং বিধাননগরের মতো কাছাকাছি স্টেশনগুলিতে সহজেই পৌঁছে যাওয়া যায়। নিউ টাউন, সেক্টর ফাইভ এবং সল্টলেক এই নির্বাচনী এলাকা সংলগ্ন, যেখানে প্রধান আইটি পার্ক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শপিং মল এবং হাসপাতালগুলি রয়েছে। এগুলির ওপর এলাকার অর্থনীতি নির্ভরশীল। রাজারহাট গোপালপুর মধ্য কলকাতা থেকে প্রায় ১৫ থেকে ২০ কিমি, হাওড়া থেকে প্রায় ২০ থেকে ২৫ কিমি এবং আলিপুর থেকে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ কিমি দূরে অবস্থিত। জেলা সদর দফতর বারাসাত থেকে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ কিমি দূরে অবস্থিত। যদিও তৃণমূল কংগ্রেস এই অঞ্চলে গত সাতটি প্রধান নির্বাচনের মধ্যে ছয়টিতে এগিয়ে আছে, তবে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির সঙ্গে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে, বিশেষ করে যদি পদ্ম শিবির তাদের লোকসভার সাফল্যকে বিধানসভা স্তরেও ধরে রাখতে পারে। বামফ্রন্ট-কংগ্রেস জোট পিছিয়ে পড়েছে কিন্তু যথেষ্ট প্রাসঙ্গিক রয়ে গেছে, ফলে তাদের ভোটের ভাগের সামান্য বৃদ্ধিও তৃণমূল কংগ্রেসকে সমস্যায় ফেলতে পারে। রাজারহাট গোপালপুর কেন্দ্রে এবার জোরদার প্রতিযোগিতা হতে পারে, যেখানে তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপি উভয়ই জেতার জন্য সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপাবে।
Samik bhattacharya
BJP
Subhajit dasgupta
CPI(M)
Nota
NOTA
Jaganmoy karmakar
SUCI
Rina dey
BNARP
Lalu neye
IND
Md. javed
IND
Dr. nitai chandra roy
IND
Gopal mondal
IND
Apurba mondal
IND
Amitava basu
IND
Indrani halder
IND
Nepaldeb bhattacharjee
CPM
Dilip mitra
BJP
Nota
NOTA
Ranjit kumar dutta
IND
Shyamal mondal
IND