
নদিয়া জেলার নাকাশিপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রটি মূলত গ্রামীণ এলাকা নিয়ে গঠিত। এই কেন্দ্রের রাজনৈতিক ইতিহাসের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল, একবার যে দলকে মানুষ বেছে নেয়, দীর্ঘ সময় ধরে সেই দলকেই ক্ষমতায় রাখে। বর্তমানে এটি তৃণমূল কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি। যদিও লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। তা সত্ত্বেও বিধানসভা স্তরে সেই সাফল্য এখনও কাজে লাগাতে পারেনি গেরুয়া শিবির। নাকাশিপাড়া কৃষ্ণনগর সদর মহকুমার অন্তর্গত একটি ব্লক স্তরের শহর। এই জেনারেল ক্যাটেগরির বিধানসভা কেন্দ্রে নাকাশিপাড়া ব্লকের ১১টি ও কালীগঞ্জ ব্লকের ২টি গ্রাম পঞ্চায়েত রয়েছে। কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্রের সাতটি বিধানসভা সেগমেন্টের মধ্যে নাকাশিপাড়া অন্যতম। দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস ১৯৫১ সাল থেকে এ পর্যন্...
নদিয়া জেলার নাকাশিপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রটি মূলত গ্রামীণ এলাকা নিয়ে গঠিত। এই কেন্দ্রের রাজনৈতিক ইতিহাসের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল, একবার যে দলকে মানুষ বেছে নেয়, দীর্ঘ সময় ধরে সেই দলকেই ক্ষমতায় রাখে। বর্তমানে এটি তৃণমূল কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি। যদিও লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। তা সত্ত্বেও বিধানসভা স্তরে সেই সাফল্য এখনও কাজে লাগাতে পারেনি গেরুয়া শিবির। নাকাশিপাড়া কৃষ্ণনগর সদর মহকুমার অন্তর্গত একটি ব্লক স্তরের শহর। এই জেনারেল ক্যাটেগরির বিধানসভা কেন্দ্রে নাকাশিপাড়া ব্লকের ১১টি ও কালীগঞ্জ ব্লকের ২টি গ্রাম পঞ্চায়েত রয়েছে। কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্রের সাতটি বিধানসভা সেগমেন্টের মধ্যে নাকাশিপাড়া অন্যতম। দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস ১৯৫১ সাল থেকে এ পর্যন্ত হওয়া ১৭টি বিধানসভা নির্বাচনে অংশ নিয়েছে নাকাশিপাড়া। কংগ্রেস, সিপিএম ও তৃণমূল, এই তিন দলই পাঁচবার করে জিতেছে। একবার করে জয় পেয়েছে বাংলা কংগ্রেস ও একজন নির্দল প্রার্থী। প্রথম সাতটি নির্বাচনের মধ্যে (১৯৫১-১৯৭২) পাঁচবার কংগ্রেস জয়ী হয়। এরপর ১৯৭৭ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত টানা পাঁচবার সিপিএম এই কেন্দ্র দখলে রাখে। তবে ১৯৯৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেস গঠনের পর থেকে রাজনৈতিক পালাবদল শুরু হয়। ২০০১ সাল থেকে টানা পাঁচবার জিতে বিধায়ক হয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী কল্লোল খান। তিনি প্রথমবার সিপিএমের তৎকালীন বিধায়ক শেখ খবিরউদ্দিন আহমেদকে অল্প ব্যবধানে হারান। ২০০৬ সালে মাত্র ৪১০ ভোটে জয় পান। ২০১১ সালে তাঁর জয়ের ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ায় ১৬,৪৭৪ ভোট। ২০১৬ সালে কমে ৬,২৫০ হলেও ২০২১ সালে বিজেপির বিরুদ্ধে তাঁর ব্যবধান ফের বেড়ে হয় ২১,২৭১ ভোট। লোকসভা নির্বাচনে চিত্র ২০০৯ সাল থেকে প্রতিটি লোকসভা নির্বাচনে এই বিধানসভা সেগমেন্টে এগিয়ে রয়েছে তৃণমূল। আগে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল সিপিএম, এখন সেই জায়গা দখল করেছে বিজেপি। ২০১৯ সালে তৃণমূল বিজেপির থেকে এগিয়ে ছিল ৫,০৮০ ভোটে এবং ২০২৪ সালে ব্যবধান বেড়ে হয় ৬,০৯৯ ভোট। ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ভাগীরথী ও জলঙ্গি নদীর অববাহিকায় অবস্থিত নাকাশিপাড়া সমতল ও উর্বর ভূমির এলাকা। ধান, পাট ও সবজি চাষ এখানকার প্রধান জীবিকা। তবে বর্ষায় জল জমা ও বন্যার সমস্যা রয়েছে। ছোটখাটো ব্যবসা ও পরিষেবা মূলত ব্লক সদর এলাকায় কেন্দ্রীভূত। যোগাযোগ ব্যবস্থা কৃষ্ণনগর-লালগোলা রেললাইনের মাধ্যমে কলকাতার সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে। কলকাতা থেকে রেলপথে দূরত্ব প্রায় ১১০-১২০ কিলোমিটার। সড়কপথেও পুরনো এনএইচ-৩৪ ধরে সহজ যোগাযোগ সম্ভব। ভোটার পরিসংখ্যান ২০২৪ সালে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ২ লক্ষ ৫৬ হাজারের বেশি। ভোটারদের মধ্যে মুসলিম ৩৯ শতাংশ, তফসিলি জাতি ২৬ শতাংশ এবং তফসিলি উপজাতি ৩.২৫ শতাংশ। গ্রামীণ ভোটার প্রায় ৮৯ শতাংশ। ভোটদানের হার বরাবরই ৮০ শতাংশের উপরে। বিজেপির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ নাকাশিপাড়ায় লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি তুলনামূলক ভালো ফল করলেও বিধানসভা ভোটে সমর্থন কমে যায়। বিশ্লেষকদের মতে, এখনও রাজ্যে বিজেপিকে ক্ষমতায় আসার মতো শক্তি হিসেবে দেখছেন না বহু ভোটার। ফলে ২০২৬ সালের নির্বাচনে বিজেপির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ, তৃণমূলের বিকল্প হিসেবে নিজেদের বিশ্বাসযোগ্য করে তোলা। বাম-কংগ্রেস জোটের শক্তি কমে যাওয়ায় মুসলিম ভোট বিভাজনের সম্ভাবনাও ক্ষীণ, যা বিজেপির জন্য বড় বাধা। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূলের টানা ষষ্ঠ জয়ের পথে বড় কোনও বাধা থাকবে কি না, সেটাই এখন রাজনৈতিক মহলের নজরে।
Santanu dey
BJP
Tanmay ganguli
IND
Sukla saha
CPI(M)
Nota
NOTA
Amal chandra sarkar
BSP
Krishnapada pramanik
CPI(ML)(L)
Swapan mondal
AMB
Krishnachandra debnath
SUCI
Tanmay ganguli
CPM
Anup kumar mondal
BJP
Sisir basak
CPI(ML)(L)
Swapan mondal
AMB
Nota
NOTA
Shipankar haldar
BSP